ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

টঙ্গীতে পোশাক কারখানার শতাধিক শ্রমিক রহস্যজনকভাবে অসুস্থ, এলাকায় আতঙ্ক


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারি ২০২৬

টঙ্গীতে পোশাক কারখানার শতাধিক শ্রমিক রহস্যজনকভাবে অসুস্থ, এলাকায় আতঙ্ক

গাজীপুরের টঙ্গী বিসিক শিল্পনগরীতে একটি পোশাক কারখানার শতাধিক শ্রমিক কাজ চলাকালীন রহস্যজনকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে টঙ্গীর ‘এক্সপোর্ট ভিলেজ লিমিটেড’ নামক কারখানায় এই গণ-অসুস্থতার ঘটনা ঘটে। অসুস্থ শ্রমিকদের অধিকাংশকেই টঙ্গী সরকারি হাসপাতাল ও গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

কারখানা সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শী শ্রমিকরা জানান, বুধবার সকালে শ্রমিকরা প্রতিদিনের মতো কাজে যোগ দেন। বেলা ১১টার দিকে কারখানার ভেতর শ্রমিকরা একে একে মাথা ঘুরে পড়তে থাকেন। মুহূর্তের মধ্যে মা আওয়ার টাওয়ার ও আলম টাওয়ারে অবস্থিত ওই কারখানার কয়েকশ শ্রমিকের মধ্যে বমি, তীব্র শ্বাসকষ্ট, বুক ধড়ফড় করা এবং শারীরিক অস্বস্তি ছড়িয়ে পড়ে। কারখানা কর্তৃপক্ষ ও সহকর্মীরা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যান।

হাসপাতালগুলোতে অসুস্থ শ্রমিকদের উপচে পড়া ভিড়ে এক পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হয় কর্তৃপক্ষকে। টঙ্গী সরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক নাহিদ সুলতানা জানান, অসুস্থদের মধ্যে প্যানিক অ্যাটাক, বমি ও শ্বাসকষ্টের লক্ষণ ছিল। তবে প্রাথমিক চিকিৎসার পর অধিকাংশ শ্রমিকের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত।

শ্রমিকদের দাবি, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর আগেও গত সোমবার (১২ জানুয়ারি) ওই কারখানার অন্তত ২০ জন শ্রমিক একইভাবে অসুস্থ হয়েছিলেন। ভুক্তভোগী শ্রমিক আঁখি আক্তার জানান, কাজ করার সময় হঠাৎ তার মাথা ঘুরতে শুরু করে এবং তিনি কয়েকবার বমি করার পর জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। জ্ঞান ফেরার পর নিজেকে হাসপাতালের বিছানায় দেখতে পান তিনি।

এদিকে, এই অসুস্থতার পেছনে কোনো পরিবেশগত কারণ নাকি অন্য কিছু রয়েছে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বকেয়া বেতনের দাবিতে গত রবিবার ও সোমবার শ্রমিকরা ওই কারখানায় কর্মবিরতি ও আন্দোলন করেছিলেন। আন্দোলনের রেশ কাটতে না কাটতেই এই গণ-অসুস্থতার ঘটনায় সাধারণ শ্রমিকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

কারখানার অ্যাডমিন ম্যানেজার সুজন জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। কী কারণে শ্রমিকরা অসুস্থ হলেন, তা খুঁজে বের করতে তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয় বলে তিনি জানান।

টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, “অসুস্থ হওয়ার কারণ হিসেবে পানির লাইনে সমস্যা বা গ্যাসজনিত কোনো বিষক্রিয়া কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কারখানা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।”

প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


টঙ্গীতে পোশাক কারখানার শতাধিক শ্রমিক রহস্যজনকভাবে অসুস্থ, এলাকায় আতঙ্ক

প্রকাশের তারিখ : ১৪ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

গাজীপুরের টঙ্গী বিসিক শিল্পনগরীতে একটি পোশাক কারখানার শতাধিক শ্রমিক কাজ চলাকালীন রহস্যজনকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে টঙ্গীর ‘এক্সপোর্ট ভিলেজ লিমিটেড’ নামক কারখানায় এই গণ-অসুস্থতার ঘটনা ঘটে। অসুস্থ শ্রমিকদের অধিকাংশকেই টঙ্গী সরকারি হাসপাতাল ও গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

কারখানা সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শী শ্রমিকরা জানান, বুধবার সকালে শ্রমিকরা প্রতিদিনের মতো কাজে যোগ দেন। বেলা ১১টার দিকে কারখানার ভেতর শ্রমিকরা একে একে মাথা ঘুরে পড়তে থাকেন। মুহূর্তের মধ্যে মা আওয়ার টাওয়ার ও আলম টাওয়ারে অবস্থিত ওই কারখানার কয়েকশ শ্রমিকের মধ্যে বমি, তীব্র শ্বাসকষ্ট, বুক ধড়ফড় করা এবং শারীরিক অস্বস্তি ছড়িয়ে পড়ে। কারখানা কর্তৃপক্ষ ও সহকর্মীরা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যান।

হাসপাতালগুলোতে অসুস্থ শ্রমিকদের উপচে পড়া ভিড়ে এক পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হয় কর্তৃপক্ষকে। টঙ্গী সরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক নাহিদ সুলতানা জানান, অসুস্থদের মধ্যে প্যানিক অ্যাটাক, বমি ও শ্বাসকষ্টের লক্ষণ ছিল। তবে প্রাথমিক চিকিৎসার পর অধিকাংশ শ্রমিকের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত।

শ্রমিকদের দাবি, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর আগেও গত সোমবার (১২ জানুয়ারি) ওই কারখানার অন্তত ২০ জন শ্রমিক একইভাবে অসুস্থ হয়েছিলেন। ভুক্তভোগী শ্রমিক আঁখি আক্তার জানান, কাজ করার সময় হঠাৎ তার মাথা ঘুরতে শুরু করে এবং তিনি কয়েকবার বমি করার পর জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। জ্ঞান ফেরার পর নিজেকে হাসপাতালের বিছানায় দেখতে পান তিনি।

এদিকে, এই অসুস্থতার পেছনে কোনো পরিবেশগত কারণ নাকি অন্য কিছু রয়েছে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বকেয়া বেতনের দাবিতে গত রবিবার ও সোমবার শ্রমিকরা ওই কারখানায় কর্মবিরতি ও আন্দোলন করেছিলেন। আন্দোলনের রেশ কাটতে না কাটতেই এই গণ-অসুস্থতার ঘটনায় সাধারণ শ্রমিকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

কারখানার অ্যাডমিন ম্যানেজার সুজন জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। কী কারণে শ্রমিকরা অসুস্থ হলেন, তা খুঁজে বের করতে তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয় বলে তিনি জানান।

টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, “অসুস্থ হওয়ার কারণ হিসেবে পানির লাইনে সমস্যা বা গ্যাসজনিত কোনো বিষক্রিয়া কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কারখানা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।”

প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ