আহসানউল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শহিদুল ইসলাম শিপু (৫৪) কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার–২-এ মৃত্যুবরণ করেছেন। সোমবার সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে গাজীপুরের শহিদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়—এ তথ্য নিশ্চিত করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। শিপু দীর্ঘদিন ধরে নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন, যার মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। কয়েক বছর আগে তার একটি পা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কেটে ফেলা হয়েছিল।
কারা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, সোমবার সকালেই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত কারা হাসপাতাল থেকে শহিদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তার শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত্যুর ঘোষণা দেন। মৃত্যুর পর নিয়ম অনুযায়ী ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
২০০৪ সালের ৭ মে গাজীপুরের টঙ্গীর দত্তপাড়ার শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে শ্রমিক লীগের এক অনুষ্ঠানে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণ করে হত্যা করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা, জাতীয় সংসদ সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধা আহসানউল্লাহ মাস্টারকে। হামলায় তার সঙ্গে স্থানীয় এক যুবলীগ কর্মীও নিহত হন। দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করা এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষে একই বছরের আগস্টে পুলিশের পক্ষ থেকে ২৯ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়।
২০০৫ সালে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল মামলার রায়ে ২২ জনকে ফাঁসি এবং ৬ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। পরে ২০১৬ সালে হাইকোর্ট রায় পুনর্বিবেচনা করে ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল, ৭ জনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন, আর ১১ জনকে খালাস দেন। পরবর্তী সময়ে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের এই রায়ই বহাল রাখে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে ছিলেন—নুরুল ইসলাম সরকার, নুরুল ইসলাম দিপু, মাহবুবুর রহমান, শহিদুল ইসলাম শিপু, হাফিজ (কানা হাফিজ) ও সোহাগ (সুরু)।
দীর্ঘ ২১ বছর ধরে কারাবন্দী অবস্থায় মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকরের অপেক্ষায় থাকা শিপু এ মামলায় প্রথম মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হিসেবে কারাগারে মৃত্যুবরণ করলেন। তার মৃত্যুতে মামলাটি নিয়ে আবারও বিস্তর আলোচনার জন্ম নিয়েছে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ জানুয়ারি ২০২৬
আহসানউল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শহিদুল ইসলাম শিপু (৫৪) কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার–২-এ মৃত্যুবরণ করেছেন। সোমবার সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে গাজীপুরের শহিদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়—এ তথ্য নিশ্চিত করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। শিপু দীর্ঘদিন ধরে নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন, যার মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। কয়েক বছর আগে তার একটি পা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কেটে ফেলা হয়েছিল।
কারা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, সোমবার সকালেই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত কারা হাসপাতাল থেকে শহিদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তার শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত্যুর ঘোষণা দেন। মৃত্যুর পর নিয়ম অনুযায়ী ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
২০০৪ সালের ৭ মে গাজীপুরের টঙ্গীর দত্তপাড়ার শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে শ্রমিক লীগের এক অনুষ্ঠানে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণ করে হত্যা করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা, জাতীয় সংসদ সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধা আহসানউল্লাহ মাস্টারকে। হামলায় তার সঙ্গে স্থানীয় এক যুবলীগ কর্মীও নিহত হন। দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করা এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষে একই বছরের আগস্টে পুলিশের পক্ষ থেকে ২৯ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়।
২০০৫ সালে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল মামলার রায়ে ২২ জনকে ফাঁসি এবং ৬ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। পরে ২০১৬ সালে হাইকোর্ট রায় পুনর্বিবেচনা করে ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল, ৭ জনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন, আর ১১ জনকে খালাস দেন। পরবর্তী সময়ে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের এই রায়ই বহাল রাখে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে ছিলেন—নুরুল ইসলাম সরকার, নুরুল ইসলাম দিপু, মাহবুবুর রহমান, শহিদুল ইসলাম শিপু, হাফিজ (কানা হাফিজ) ও সোহাগ (সুরু)।
দীর্ঘ ২১ বছর ধরে কারাবন্দী অবস্থায় মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকরের অপেক্ষায় থাকা শিপু এ মামলায় প্রথম মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হিসেবে কারাগারে মৃত্যুবরণ করলেন। তার মৃত্যুতে মামলাটি নিয়ে আবারও বিস্তর আলোচনার জন্ম নিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন