ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সিলেটের ছয় আসনে মনোনয়ন ঝড়ে বাতিল ৭, স্থগিত ৫


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৪ জানুয়ারি ২০২৬

সিলেটের ছয় আসনে মনোনয়ন ঝড়ে বাতিল ৭, স্থগিত ৫

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সিলেট জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের ফলে প্রার্থিতার তালিকায় বড় পরিবর্তন এসেছে। রোববার ও সোমবার দুই দিনের যাচাই শেষে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম জানান, মোট ৪৭টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে ৭টি বাতিল এবং ৫টি স্থগিত করা হয়েছে। বিভিন্ন আইনি জটিলতা, স্বাক্ষর গড়মিল, ঋণ খেলাপি এবং দ্বৈত নাগরিকত্বসংক্রান্ত সমস্যা এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ।

রিটার্নিং কার্যালয়ের তথ্য অনুসারে, মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীরা চাইলে ৫–৯ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল ট্রাইব্যুনালে আপিল করতে পারবেন। অপরদিকে স্থগিত থাকা প্রার্থীদের বিষয়ে কাগজপত্র যাচাইয়ের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে। জেলা নির্বাচন কার্যালয়, স্থানীয় প্রশাসন এবং দলীয় সূত্রে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে নিচে আসনভিত্তিক বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হলো।

সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর): দুই স্বতন্ত্রের মনোনয়ন বাতিল 

সিলেট-২ আসনে মোট ১০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবরার ইলিয়াস এবং আব্দুস শহীদ—এই দুইজনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। তাদের মনোনয়নপত্রে এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে গড়মিল পাওয়া যায়। রিটার্নিং অফিসার জানান, যাচাই করা ভোটারদের স্বাক্ষর ও জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য মিলেনি।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি এবং গণফ্রন্টসহ কয়েকটি দলের প্রার্থীদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা-ফেঞ্চুগঞ্জ-বালাগঞ্জ): বিএনপি প্রার্থীর দ্বৈত নাগরিকত্ব জটিলতা

সিলেট-৩ আসনে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা হলো বিএনপি প্রার্থী এম. এ. মালিকের মনোনয়ন স্থগিত হওয়া। তিনি দীর্ঘদিন যুক্তরাজ্যে অবস্থান করায় তার দ্বৈত নাগরিকত্ব আছে কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। যাচাইয়ের জন্য ব্রিটিশ উচ্চ কমিশন থেকে আনুষঙ্গিক নথির প্রয়োজন পড়ে। ফলে তার মনোনয়ন আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোস্তাকিম রাজা ও মাইনুল বাকরের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। তাদের প্রস্তাবক-সমর্থকের স্বাক্ষরে গড়মিল ছিল বলে জানায় রিটার্নিং অফিস। আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি এবং ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থীদের মনোনয়ন বৈধ করা হয়েছে।

সিলেট-৪ (জৈন্তাপুর-গোয়াইনঘাট-কোম্পানীগঞ্জ): এক বাতিল, এক স্থগিত

এই আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ–এর প্রার্থী মাওলানা সাইদ আহমদ–এর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। তার মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবক ও সমর্থকের স্বাক্ষর যাচাই-বাছাইয়ে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. মুজিবুর রহমান–এর মনোনয়ন দলীয় মনোনয়নপত্রে অসঙ্গতি থাকার কারণে স্থগিত রাখা হয়েছে। দলীয় প্রধানের স্বাক্ষর ও কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় বিষয়টি যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ-কানাইঘাট): ঋণ খেলাপের দায়ে বাতিল

সিলেট-৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাউফুদ্দিন খালেদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে। নির্বাচন কমিশনের কাছে তার নামে ব্যাংক ঋণ খেলাপি থাকার তথ্য আসে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যাচাই প্রতিবেদনে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ায় তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়। এই আসনে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন ও কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ হয়েছে।

সিলেট-৬ (বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জ): স্থগিত দুই, বাতিল একজন

সিলেট-৬ আসনে বিএনপি (বিকল্প) প্রার্থী ফয়সাল আহমদ চৌধুরী এবং গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী জাহিদুর রহমান—এই দুইজনের মনোনয়ন স্থগিত রাখা হয়েছে। দু’জনের ক্ষেত্রেই দ্বৈত নাগরিকত্ব ও কাগজপত্রে অসঙ্গতির অভিযোগ যাচাই করা হচ্ছে। ফয়সাল আহমদ দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন, আর জাহিদুর রহমানের ক্ষেত্রেও বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগের নথিপত্র প্রয়োজন। এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ফখরুল ইসলামের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর গড়মিলের কারণে।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় জানায়, স্থগিত থাকা পাঁচজন প্রার্থীর কাগজপত্র দ্রুত যাচাই করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে বিদেশি মিশন বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। যাচাই শেষে তাদের মনোনয়ন গ্রহণযোগ্য বা বাতিল—দুটি সিদ্ধান্তের যেকোনো একটিতে উপনীত হবে কমিশন।

জেলা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সিলেটের ছয়টি আসনে এই বাতিল–স্থগিত সিদ্ধান্ত নির্বাচনী মাঠে বড় পরিবর্তন আনবে। বিশেষ করে বিএনপি ও জাতীয় পার্টির বিকল্প প্রার্থী স্থগিত হওয়ায় কয়েকটি আসনে প্রতিযোগিতা একপাক্ষিক হয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

এদিকে বাতিল হওয়া প্রার্থীরা আপিল ট্রাইব্যুনালে গেলে সিদ্ধান্ত পাল্টানোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


সিলেটের ছয় আসনে মনোনয়ন ঝড়ে বাতিল ৭, স্থগিত ৫

প্রকাশের তারিখ : ০৪ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সিলেট জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের ফলে প্রার্থিতার তালিকায় বড় পরিবর্তন এসেছে। রোববার ও সোমবার দুই দিনের যাচাই শেষে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম জানান, মোট ৪৭টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে ৭টি বাতিল এবং ৫টি স্থগিত করা হয়েছে। বিভিন্ন আইনি জটিলতা, স্বাক্ষর গড়মিল, ঋণ খেলাপি এবং দ্বৈত নাগরিকত্বসংক্রান্ত সমস্যা এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ।

রিটার্নিং কার্যালয়ের তথ্য অনুসারে, মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীরা চাইলে ৫–৯ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল ট্রাইব্যুনালে আপিল করতে পারবেন। অপরদিকে স্থগিত থাকা প্রার্থীদের বিষয়ে কাগজপত্র যাচাইয়ের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে। জেলা নির্বাচন কার্যালয়, স্থানীয় প্রশাসন এবং দলীয় সূত্রে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে নিচে আসনভিত্তিক বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হলো।

সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর): দুই স্বতন্ত্রের মনোনয়ন বাতিল 

সিলেট-২ আসনে মোট ১০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবরার ইলিয়াস এবং আব্দুস শহীদ—এই দুইজনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। তাদের মনোনয়নপত্রে এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে গড়মিল পাওয়া যায়। রিটার্নিং অফিসার জানান, যাচাই করা ভোটারদের স্বাক্ষর ও জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য মিলেনি।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি এবং গণফ্রন্টসহ কয়েকটি দলের প্রার্থীদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা-ফেঞ্চুগঞ্জ-বালাগঞ্জ): বিএনপি প্রার্থীর দ্বৈত নাগরিকত্ব জটিলতা

সিলেট-৩ আসনে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা হলো বিএনপি প্রার্থী এম. এ. মালিকের মনোনয়ন স্থগিত হওয়া। তিনি দীর্ঘদিন যুক্তরাজ্যে অবস্থান করায় তার দ্বৈত নাগরিকত্ব আছে কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। যাচাইয়ের জন্য ব্রিটিশ উচ্চ কমিশন থেকে আনুষঙ্গিক নথির প্রয়োজন পড়ে। ফলে তার মনোনয়ন আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোস্তাকিম রাজা ও মাইনুল বাকরের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। তাদের প্রস্তাবক-সমর্থকের স্বাক্ষরে গড়মিল ছিল বলে জানায় রিটার্নিং অফিস। আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি এবং ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থীদের মনোনয়ন বৈধ করা হয়েছে।

সিলেট-৪ (জৈন্তাপুর-গোয়াইনঘাট-কোম্পানীগঞ্জ): এক বাতিল, এক স্থগিত

এই আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ–এর প্রার্থী মাওলানা সাইদ আহমদ–এর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। তার মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবক ও সমর্থকের স্বাক্ষর যাচাই-বাছাইয়ে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. মুজিবুর রহমান–এর মনোনয়ন দলীয় মনোনয়নপত্রে অসঙ্গতি থাকার কারণে স্থগিত রাখা হয়েছে। দলীয় প্রধানের স্বাক্ষর ও কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় বিষয়টি যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ-কানাইঘাট): ঋণ খেলাপের দায়ে বাতিল

সিলেট-৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাউফুদ্দিন খালেদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে। নির্বাচন কমিশনের কাছে তার নামে ব্যাংক ঋণ খেলাপি থাকার তথ্য আসে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যাচাই প্রতিবেদনে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ায় তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়। এই আসনে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন ও কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ হয়েছে।

সিলেট-৬ (বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জ): স্থগিত দুই, বাতিল একজন

সিলেট-৬ আসনে বিএনপি (বিকল্প) প্রার্থী ফয়সাল আহমদ চৌধুরী এবং গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী জাহিদুর রহমান—এই দুইজনের মনোনয়ন স্থগিত রাখা হয়েছে। দু’জনের ক্ষেত্রেই দ্বৈত নাগরিকত্ব ও কাগজপত্রে অসঙ্গতির অভিযোগ যাচাই করা হচ্ছে। ফয়সাল আহমদ দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন, আর জাহিদুর রহমানের ক্ষেত্রেও বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগের নথিপত্র প্রয়োজন। এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ফখরুল ইসলামের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর গড়মিলের কারণে।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় জানায়, স্থগিত থাকা পাঁচজন প্রার্থীর কাগজপত্র দ্রুত যাচাই করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে বিদেশি মিশন বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। যাচাই শেষে তাদের মনোনয়ন গ্রহণযোগ্য বা বাতিল—দুটি সিদ্ধান্তের যেকোনো একটিতে উপনীত হবে কমিশন।

জেলা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সিলেটের ছয়টি আসনে এই বাতিল–স্থগিত সিদ্ধান্ত নির্বাচনী মাঠে বড় পরিবর্তন আনবে। বিশেষ করে বিএনপি ও জাতীয় পার্টির বিকল্প প্রার্থী স্থগিত হওয়ায় কয়েকটি আসনে প্রতিযোগিতা একপাক্ষিক হয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

এদিকে বাতিল হওয়া প্রার্থীরা আপিল ট্রাইব্যুনালে গেলে সিদ্ধান্ত পাল্টানোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ