লালমনিরহাট সদর উপজেলার ফড়িংয়ের দিঘি বাজারে সরকারি বরাদ্দের রাসায়নিক সারের পর্যাপ্ত মজুদ থাকলেও ক্রেতা হিসেবে কৃষকের উপস্থিতি কম। দোকানে সার সাজিয়ে রাখা হলেও বিক্রি হচ্ছে তুলনামূলক কম। ফলে দিনের বেশির ভাগ সময় অলস সময় পার করছেন ডিলার ও কর্মচারীরা।
সদর উপজেলার ৫ নম্বর হারাটি ইউনিয়নের ফড়িংয়ের দিঘি বাজারের বিসিআইসি নিবন্ধিত সার বিক্রয়কেন্দ্র মেসার্স তাহের ট্রেডার্সে সরেজমিনে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে। সাধারণত কৃষি মৌসুমে সারের দোকানগুলোতে কৃষকের ভিড় ও ডিলার-কর্মচারীদের ব্যস্ততা দেখা গেলেও বর্তমানে বাজারটিতে ভিন্ন চিত্র। দোকান ও গুদামে ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও পটাশসহ বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক সার মজুদ রয়েছে।
মেসার্স তাহের ট্রেডার্সের ম্যানেজার আতাউর রহমান জানান, গত ৬ সেপ্টেম্বর ৩০০ বস্তা, ৭ সেপ্টেম্বর ২০০ বস্তা, ৮ সেপ্টেম্বর ১০০ বস্তা এবং ৯ সেপ্টেম্বর আরও ১৪০ বস্তা সার এসেছে। সর্বশেষ আসা ১৪০ বস্তার মধ্যে ৮৪ বস্তা বিক্রি হলেও অবশিষ্ট ৫৬ বস্তা গুদামে রয়েছে।
তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় সার নিয়ে সকাল থেকে বিক্রির অপেক্ষায় থাকলেও বর্তমানে কৃষকের উপস্থিতি তুলনামূলক কম। তবে জমি প্রস্তুত ও পরিচর্যার পরবর্তী ধাপ শুরু হলে কৃষকেরা আবার সার সংগ্রহ করতে আসবেন বলে আশা করছেন তিনি।
স্থানীয় কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জমিতে সারের প্রাথমিক প্রয়োগের একটি ধাপ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এ কারণে বর্তমানে সারের চাহিদা কিছুটা কম। পরবর্তী সেচ ও ফসল পরিচর্যার সময় এলে আবারও সারের চাহিদা বাড়তে পারে বলে মনে করছেন তারা।
এদিকে কৃষকেরা যাতে প্রয়োজনের সময় সরকারি নির্ধারিত মূল্যে সার পান, সে লক্ষ্যে বাজারে নজরদারি অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এমপি বলেন, কৃষকরাই দেশের অর্থনীতির প্রাণ। চাষাবাদ যাতে ব্যাহত না হয়, সে জন্য পর্যাপ্ত সার সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। ডিলাররা নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রি করছেন কি না, তা তদারকি করা হচ্ছে। কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মুহঃ রাশেদুল হক প্রধান জানান, জেলা জুড়ে সারের সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ফড়িংয়ের দিঘিসহ বিভিন্ন বাজারে সারের মজুদ পরিস্থিতির পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে বিক্রয় ও বিতরণ কার্যক্রমও নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
জেলা পরিষদ প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হক বলেন, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা এবং কৃষি উৎপাদন সচল রাখার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সুষম সারের ব্যবহার এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের তদারকি অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার সোহায়েল আহমেদ বলেন, ইউনিয়ন পর্যায়ে বর্তমানে সারের কোনো কৃত্রিম সংকট নেই। সরকার নির্ধারিত মূল্যে এবং সঠিকভাবে সার বিক্রি নিশ্চিত করতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে মাঠপর্যায়ে নজরদারি করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে ফড়িংয়ের দিঘি বাজারে এখন সারের সংকটের পরিবর্তে দেখা যাচ্ছে উল্টো চিত্র—গুদামে সার আছে, কিন্তু সেই তুলনায় ক্রেতা কম। সংশ্লিষ্টদের আশা, কৃষিকাজের পরবর্তী ধাপ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কৃষকের চাহিদা বাড়বে এবং সারের বাজারে আবারও স্বাভাবিক ব্যস্ততা ফিরবে।

বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
লালমনিরহাট সদর উপজেলার ফড়িংয়ের দিঘি বাজারে সরকারি বরাদ্দের রাসায়নিক সারের পর্যাপ্ত মজুদ থাকলেও ক্রেতা হিসেবে কৃষকের উপস্থিতি কম। দোকানে সার সাজিয়ে রাখা হলেও বিক্রি হচ্ছে তুলনামূলক কম। ফলে দিনের বেশির ভাগ সময় অলস সময় পার করছেন ডিলার ও কর্মচারীরা।
সদর উপজেলার ৫ নম্বর হারাটি ইউনিয়নের ফড়িংয়ের দিঘি বাজারের বিসিআইসি নিবন্ধিত সার বিক্রয়কেন্দ্র মেসার্স তাহের ট্রেডার্সে সরেজমিনে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে। সাধারণত কৃষি মৌসুমে সারের দোকানগুলোতে কৃষকের ভিড় ও ডিলার-কর্মচারীদের ব্যস্ততা দেখা গেলেও বর্তমানে বাজারটিতে ভিন্ন চিত্র। দোকান ও গুদামে ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও পটাশসহ বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক সার মজুদ রয়েছে।
মেসার্স তাহের ট্রেডার্সের ম্যানেজার আতাউর রহমান জানান, গত ৬ সেপ্টেম্বর ৩০০ বস্তা, ৭ সেপ্টেম্বর ২০০ বস্তা, ৮ সেপ্টেম্বর ১০০ বস্তা এবং ৯ সেপ্টেম্বর আরও ১৪০ বস্তা সার এসেছে। সর্বশেষ আসা ১৪০ বস্তার মধ্যে ৮৪ বস্তা বিক্রি হলেও অবশিষ্ট ৫৬ বস্তা গুদামে রয়েছে।
তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় সার নিয়ে সকাল থেকে বিক্রির অপেক্ষায় থাকলেও বর্তমানে কৃষকের উপস্থিতি তুলনামূলক কম। তবে জমি প্রস্তুত ও পরিচর্যার পরবর্তী ধাপ শুরু হলে কৃষকেরা আবার সার সংগ্রহ করতে আসবেন বলে আশা করছেন তিনি।
স্থানীয় কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জমিতে সারের প্রাথমিক প্রয়োগের একটি ধাপ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এ কারণে বর্তমানে সারের চাহিদা কিছুটা কম। পরবর্তী সেচ ও ফসল পরিচর্যার সময় এলে আবারও সারের চাহিদা বাড়তে পারে বলে মনে করছেন তারা।
এদিকে কৃষকেরা যাতে প্রয়োজনের সময় সরকারি নির্ধারিত মূল্যে সার পান, সে লক্ষ্যে বাজারে নজরদারি অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এমপি বলেন, কৃষকরাই দেশের অর্থনীতির প্রাণ। চাষাবাদ যাতে ব্যাহত না হয়, সে জন্য পর্যাপ্ত সার সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। ডিলাররা নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রি করছেন কি না, তা তদারকি করা হচ্ছে। কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মুহঃ রাশেদুল হক প্রধান জানান, জেলা জুড়ে সারের সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ফড়িংয়ের দিঘিসহ বিভিন্ন বাজারে সারের মজুদ পরিস্থিতির পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে বিক্রয় ও বিতরণ কার্যক্রমও নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
জেলা পরিষদ প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হক বলেন, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা এবং কৃষি উৎপাদন সচল রাখার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সুষম সারের ব্যবহার এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের তদারকি অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার সোহায়েল আহমেদ বলেন, ইউনিয়ন পর্যায়ে বর্তমানে সারের কোনো কৃত্রিম সংকট নেই। সরকার নির্ধারিত মূল্যে এবং সঠিকভাবে সার বিক্রি নিশ্চিত করতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে মাঠপর্যায়ে নজরদারি করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে ফড়িংয়ের দিঘি বাজারে এখন সারের সংকটের পরিবর্তে দেখা যাচ্ছে উল্টো চিত্র—গুদামে সার আছে, কিন্তু সেই তুলনায় ক্রেতা কম। সংশ্লিষ্টদের আশা, কৃষিকাজের পরবর্তী ধাপ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কৃষকের চাহিদা বাড়বে এবং সারের বাজারে আবারও স্বাভাবিক ব্যস্ততা ফিরবে।

আপনার মতামত লিখুন