বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর উত্তরের সম্মেলন শেষে নতুন নেতৃত্বের নাম ঘোষণা করেন দলের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করিম পীর সাহেব চরমোনাই।
সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, “আমরা শরিয়াহ অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য কাজ করছি। দীর্ঘদিনের পথচলায় আমাদের কেউ কেউ হতাশা ব্যক্ত করেন—কেন এখনো আমরা সফল হইনি? তাদের বলব, মেঘ দেখে তোরা করিসনে ভয়, আড়ালে তাহার সূর্য হাসে।”
তিনি বলেন, মহান আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘তোমাদের ভয় ও চিন্তা নেই, তোমরাই বিজয়ী হবে, যদি তোমরা মুমিন হও।’ সুতরাং ধৈর্যের সঙ্গে আল্লাহর রহমতকে পুঁজি করে কাজ করে যেতে হবে।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে ইসলামী আন্দোলনের আমির বলেন, তারা এ দেশে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং দেশকে ভালোবাসেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা পুরোপুরি পূরণ হয়নি।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। নারায়ণগঞ্জে ইসলামী যুব আন্দোলনের এক কর্মীকে হত্যার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার এবং সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান পীর সাহেব চরমোনাই।
২০২৪ সালের আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আমরা চব্বিশে যেভাবে পাখির মতো গুলি করে এ দেশের মেধাবীদের হত্যা করা হয়েছিল, সেই শব্দগুলো এখনো আমাদের কানে ধ্বনিত হচ্ছে। যারাই এসবের পুনরাবৃত্তি করবে, তাদের অবস্থাও পতিত স্বৈরাচারের মতো হবে।”
বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনাকারী রাজনৈতিক দলগুলোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, অতীতের নীতি ও আদর্শ দেশের মানুষকে প্রত্যাশিত শান্তি দিতে পারেনি। অর্থ পাচার, দীর্ঘদিন কারাবন্দি থাকা এবং সন্তানহারা পরিবারের আহাজারির মতো ঘটনা বন্ধ হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ইসলামী আন্দোলনের আমির দাবি করেন, ইসলামভিত্তিক নীতি ও আদর্শই মানুষকে দুনিয়া ও আখিরাতে শান্তির পথ দেখাতে পারে।
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ২০২৪ সালে হাজারো জীবনের বিনিময়ে যে পরিবর্তন এসেছে, রাষ্ট্র পরিচালনায় তার জনপ্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে হবে। জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অন্যথায় জনগণের সহযোগিতা পাওয়া কঠিন হবে।
ঢাকা মহানগর উত্তর ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি অধ্যক্ষ শেখ ফজলে বারী মাসউদের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দলের উপদেষ্টা ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্ম উপদেষ্টা ড. এএফএম খালিদ হোসেন, মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, মাওলানা নেছার উদ্দীন, সহকারী মহাসচিব আহমাদ আব্দুল কাইয়ুম, কেএম আতিকুর রহমান, শেখ ফজলুল করীম মারুফ, মাওলানা লোকমান হোসাইন জাফরী, মুফতি রেজাউল করীম আবরার, প্রফেসর ড. সরোয়ার হোসেন, বিচারপতি খাদেমুল ইসলাম চৌধুরী ও ড. ঈসা সাহেদীসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
সম্মেলনটি সঞ্চালনা করেন ঢাকা মহানগর উত্তর ইসলামী আন্দোলনের সেক্রেটারি মাওলানা আরিফুল ইসলাম।
সম্মেলনের শেষপর্বে ২০২৭-২৮ সেশনের জন্য প্রকৌশলী আতিকুর রহমান মুজাহিদকে সভাপতি এবং নূরুল ইসলাম নাঈমকে সেক্রেটারি করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর উত্তরের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ আগস্ট ২০২৬
বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর উত্তরের সম্মেলন শেষে নতুন নেতৃত্বের নাম ঘোষণা করেন দলের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করিম পীর সাহেব চরমোনাই।
সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, “আমরা শরিয়াহ অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য কাজ করছি। দীর্ঘদিনের পথচলায় আমাদের কেউ কেউ হতাশা ব্যক্ত করেন—কেন এখনো আমরা সফল হইনি? তাদের বলব, মেঘ দেখে তোরা করিসনে ভয়, আড়ালে তাহার সূর্য হাসে।”
তিনি বলেন, মহান আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘তোমাদের ভয় ও চিন্তা নেই, তোমরাই বিজয়ী হবে, যদি তোমরা মুমিন হও।’ সুতরাং ধৈর্যের সঙ্গে আল্লাহর রহমতকে পুঁজি করে কাজ করে যেতে হবে।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে ইসলামী আন্দোলনের আমির বলেন, তারা এ দেশে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং দেশকে ভালোবাসেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা পুরোপুরি পূরণ হয়নি।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। নারায়ণগঞ্জে ইসলামী যুব আন্দোলনের এক কর্মীকে হত্যার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার এবং সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান পীর সাহেব চরমোনাই।
২০২৪ সালের আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আমরা চব্বিশে যেভাবে পাখির মতো গুলি করে এ দেশের মেধাবীদের হত্যা করা হয়েছিল, সেই শব্দগুলো এখনো আমাদের কানে ধ্বনিত হচ্ছে। যারাই এসবের পুনরাবৃত্তি করবে, তাদের অবস্থাও পতিত স্বৈরাচারের মতো হবে।”
বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনাকারী রাজনৈতিক দলগুলোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, অতীতের নীতি ও আদর্শ দেশের মানুষকে প্রত্যাশিত শান্তি দিতে পারেনি। অর্থ পাচার, দীর্ঘদিন কারাবন্দি থাকা এবং সন্তানহারা পরিবারের আহাজারির মতো ঘটনা বন্ধ হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ইসলামী আন্দোলনের আমির দাবি করেন, ইসলামভিত্তিক নীতি ও আদর্শই মানুষকে দুনিয়া ও আখিরাতে শান্তির পথ দেখাতে পারে।
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ২০২৪ সালে হাজারো জীবনের বিনিময়ে যে পরিবর্তন এসেছে, রাষ্ট্র পরিচালনায় তার জনপ্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে হবে। জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অন্যথায় জনগণের সহযোগিতা পাওয়া কঠিন হবে।
ঢাকা মহানগর উত্তর ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি অধ্যক্ষ শেখ ফজলে বারী মাসউদের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দলের উপদেষ্টা ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্ম উপদেষ্টা ড. এএফএম খালিদ হোসেন, মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, মাওলানা নেছার উদ্দীন, সহকারী মহাসচিব আহমাদ আব্দুল কাইয়ুম, কেএম আতিকুর রহমান, শেখ ফজলুল করীম মারুফ, মাওলানা লোকমান হোসাইন জাফরী, মুফতি রেজাউল করীম আবরার, প্রফেসর ড. সরোয়ার হোসেন, বিচারপতি খাদেমুল ইসলাম চৌধুরী ও ড. ঈসা সাহেদীসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
সম্মেলনটি সঞ্চালনা করেন ঢাকা মহানগর উত্তর ইসলামী আন্দোলনের সেক্রেটারি মাওলানা আরিফুল ইসলাম।
সম্মেলনের শেষপর্বে ২০২৭-২৮ সেশনের জন্য প্রকৌশলী আতিকুর রহমান মুজাহিদকে সভাপতি এবং নূরুল ইসলাম নাঈমকে সেক্রেটারি করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর উত্তরের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন