ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

দিশেহারা বগুড়ার কৃষক

ফুলকপির কেজি মাত্র ২ টাকা


নিজস্ব প্রতিবেদক :
নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রকাশ : ২১ ডিসেম্বর ২০২৫

ফুলকপির কেজি মাত্র ২ টাকা
চিত্র : সংগৃহীত

উত্তরবঙ্গের অন্যতম বৃহত্তম সবজির বাজার বগুড়ার মহাস্থান হাটে শীতকালীন সবজির রেকর্ড পরিমাণ সরবরাহ থাকলেও দাম না থাকায় চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে আলুর পাশাপাশি অন্যান্য সবজির দামও তলানিতে এসে ঠেকেছে। বিশেষ করে ফুলকপির দাম নেমে এসেছে অবিশ্বাস্য পর্যায়ে—প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮০ থেকে ১০০ টাকায়, যা কেজিপ্রতি দাঁড়ায় মাত্র ২ টাকা।

রোববার (২১ ডিসেম্বর) সকালে মহাস্থান হাটে সরেজমিনে দেখা যায়, ভোর থেকেই ট্রাক, পিকআপ ও ভ্যানযোগে মাঠ থেকে তোলা টাটকা সবজি নিয়ে কৃষকেরা হাটে হাজির হচ্ছেন। তবে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কয়েক গুণ বেশি হওয়ায় এবং বাইরের পাইকারদের উপস্থিতি কম থাকায় নামমাত্র মূল্যে সবজি বিক্রি করতে হচ্ছে তাদের। কৃষকদের দাবি, বর্তমান বাজারমূল্যে উৎপাদন খরচ তো দূরের কথা, মাঠ থেকে সবজি তোলার শ্রমিকের মজুরি এবং হাটে আনার পরিবহন খরচও উঠছে না।

হাটে সবজির বর্তমান বাজার দর:

ফুলকপি: প্রতি মণ ৮০-১০০ টাকা (কেজি ২-২.৫০ টাকা), যা দুই সপ্তাহ আগে ছিল ১ হাজার টাকার উপরে।

নতুন আলু: জাতভেদে প্রতি মণ ৫০০-১০০০ টাকা (কেজি ১২-২৫ টাকা)।

মুলা: প্রতি মণ ৩০০-৫০০ টাকা (কেজি ৮-১০ টাকা)।

বাঁধাকপি: প্রতি পিস ৫-১০ টাকা।

শিম: কেজিপ্রতি ১৫ টাকা।

করলা: কেজিপ্রতি ৩৫ টাকা।

পেঁয়াজ: কেজিপ্রতি ৬০ টাকা এবং পাতা পেঁয়াজ ৩০ টাকা।

বেগুন: প্রতি মণ ৭০০-৮০০ টাকা (কেজি ১৫-২০ টাকা)।

শিবগঞ্জ থেকে আসা কৃষক আনোয়ার হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, “দুই সপ্তাহ আগেও যে ফুলকপি ১ হাজার ২০০ টাকা মণে বেচেছি, আজ তা ৮০-১০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। কেজিপ্রতি ২ টাকা হলেও নেওয়ার মতো পাইকার নেই।” একই রকম হাহাকার শোনা যায় গাবতলীর আজাদ আলী ও সদর উপজেলার মোজাফফর হোসেনের কণ্ঠেও।

মহাস্থান হাটের আড়তদার মমিনুল ইসলাম জানান, প্রতিদিন ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গড়ে ৫০ ট্রাক সবজি পাঠানো হলেও অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে দাম নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। এদিকে, হিমাগারগুলোতে বিপুল পরিমাণ পুরাতন আলু মজুত থাকলেও বাজারে দরপতনের কারণে কৃষকেরা তা খালাস করছেন না। হিমাগার কর্তৃপক্ষ মাইকিং করেও কৃষকদের সাড়া পাচ্ছে না। 

কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সংরক্ষণের আধুনিক ব্যবস্থা ও সবজি প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র না থাকায় প্রতি বছর এই মৌসুমে কৃষকদের এমন লোকসান গুনতে হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


ফুলকপির কেজি মাত্র ২ টাকা

প্রকাশের তারিখ : ২১ ডিসেম্বর ২০২৫

featured Image

উত্তরবঙ্গের অন্যতম বৃহত্তম সবজির বাজার বগুড়ার মহাস্থান হাটে শীতকালীন সবজির রেকর্ড পরিমাণ সরবরাহ থাকলেও দাম না থাকায় চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে আলুর পাশাপাশি অন্যান্য সবজির দামও তলানিতে এসে ঠেকেছে। বিশেষ করে ফুলকপির দাম নেমে এসেছে অবিশ্বাস্য পর্যায়ে—প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮০ থেকে ১০০ টাকায়, যা কেজিপ্রতি দাঁড়ায় মাত্র ২ টাকা।


রোববার (২১ ডিসেম্বর) সকালে মহাস্থান হাটে সরেজমিনে দেখা যায়, ভোর থেকেই ট্রাক, পিকআপ ও ভ্যানযোগে মাঠ থেকে তোলা টাটকা সবজি নিয়ে কৃষকেরা হাটে হাজির হচ্ছেন। তবে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কয়েক গুণ বেশি হওয়ায় এবং বাইরের পাইকারদের উপস্থিতি কম থাকায় নামমাত্র মূল্যে সবজি বিক্রি করতে হচ্ছে তাদের। কৃষকদের দাবি, বর্তমান বাজারমূল্যে উৎপাদন খরচ তো দূরের কথা, মাঠ থেকে সবজি তোলার শ্রমিকের মজুরি এবং হাটে আনার পরিবহন খরচও উঠছে না।


হাটে সবজির বর্তমান বাজার দর:

ফুলকপি: প্রতি মণ ৮০-১০০ টাকা (কেজি ২-২.৫০ টাকা), যা দুই সপ্তাহ আগে ছিল ১ হাজার টাকার উপরে।

নতুন আলু: জাতভেদে প্রতি মণ ৫০০-১০০০ টাকা (কেজি ১২-২৫ টাকা)।

মুলা: প্রতি মণ ৩০০-৫০০ টাকা (কেজি ৮-১০ টাকা)।

বাঁধাকপি: প্রতি পিস ৫-১০ টাকা।

শিম: কেজিপ্রতি ১৫ টাকা।

করলা: কেজিপ্রতি ৩৫ টাকা।

পেঁয়াজ: কেজিপ্রতি ৬০ টাকা এবং পাতা পেঁয়াজ ৩০ টাকা।

বেগুন: প্রতি মণ ৭০০-৮০০ টাকা (কেজি ১৫-২০ টাকা)।


শিবগঞ্জ থেকে আসা কৃষক আনোয়ার হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, “দুই সপ্তাহ আগেও যে ফুলকপি ১ হাজার ২০০ টাকা মণে বেচেছি, আজ তা ৮০-১০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। কেজিপ্রতি ২ টাকা হলেও নেওয়ার মতো পাইকার নেই।” একই রকম হাহাকার শোনা যায় গাবতলীর আজাদ আলী ও সদর উপজেলার মোজাফফর হোসেনের কণ্ঠেও।


মহাস্থান হাটের আড়তদার মমিনুল ইসলাম জানান, প্রতিদিন ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গড়ে ৫০ ট্রাক সবজি পাঠানো হলেও অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে দাম নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। এদিকে, হিমাগারগুলোতে বিপুল পরিমাণ পুরাতন আলু মজুত থাকলেও বাজারে দরপতনের কারণে কৃষকেরা তা খালাস করছেন না। হিমাগার কর্তৃপক্ষ মাইকিং করেও কৃষকদের সাড়া পাচ্ছে না। 

কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সংরক্ষণের আধুনিক ব্যবস্থা ও সবজি প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র না থাকায় প্রতি বছর এই মৌসুমে কৃষকদের এমন লোকসান গুনতে হচ্ছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ