গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানাধীন সফিপুর মৌজায় পৈত্রিক সূত্রে কেনা জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা, নির্মাণ কাজে বাধা এবং দুই জমির মালিককে দেশীয় অস্ত্রের মুখে 'খুন করে ফেলার' হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একদল দুষ্কৃতকারীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্তদের হুমকিতে বর্তমানে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন ভুক্তভোগী পরিবার দুটি। এ ঘটনায় জমি দখলের চেষ্টাকারী দুই নামধারী ও অজ্ঞাতনামা আরও ১৫/২০ জন বিবাদীর বিরুদ্ধে কালিয়াকৈর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগকারী - মোঃ শাকিল হোসেন (৩৮), পিতা- মৃত সফি উদ্দিন, সাং- লোহাকৈর এবং মোঃ শমসের আলী (৫৫)। তারা উভয়েই কালিয়াকৈর সাব-রেজিষ্ট্রী অফিসের রেজিষ্ট্রীকৃত সাফ কবলা দলিল মূলে সফিপুর মৌজাস্থ ৫.৫০ শতাংশ জমির বৈধ মালিক ও ভোগদখলকারী। তারা জমিটির চারপাশে সিমেন্টের খুঁটি দিয়ে টিনের বাউন্ডারী নির্মাণ করে রেখেছেন। অপরদিকে, অভিযুক্ত বিবাদীরা হলেন: ১। মোঃ ইউসুফ (৫০) ও ২। ইউনুস (৫৫), উভয় পিতা- মৃত ইদ্রিস আলী, উভয় সাং- সফিপুর, থানা- কালিয়াকৈর, জেলা- গাজীপুর।
অস্ত্রের মুখে ১৫/২০ জনের হামলা অভিযোগে জানা যায়, বিবাদী ইউসুফ ও ইউনুস সহ তাদের অজ্ঞাতনামা সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরেই ওই জমিটি অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা করে আসছে। এই বিষয়ে বাধা দিলে তারা অভিযোগকারীদের বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করে।
গত ২২/১১/২০২৫ তারিখ সকাল আনুমানিক ৯.০০ ঘটিকায় জমির মালিক শাকিল হোসেন ও শমসের আলী তাদের নিজস্ব সম্পত্তিতে একটি তিন রুম বিশিষ্ট টিনের ঘর তৈরী কাজ শুরু করেন। একই দিন দুপুর আনুমানিক ১২.৩০ ঘটিকায় অভিযুক্ত বিবাদীরা তাদের সঙ্গে অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জন সহযোগী নিয়ে দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র সহ জমিতে অনধিকার প্রবেশ করে। তারা জোরপূর্বক জমিটি অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা চালায় এবং ঘর নির্মাণ কাজে বাধা দেয়।
এ সময় অভিযোগকারী ও স্থানীয় লোকজন বিবাদীদের বাধা দিলে তারা মারমুখী হয়ে ওঠে এবং শাকিল হোসেন ও শমসের আলীকে মারপিট করতে উদ্যত হয়। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, একপর্যায়ে বিবাদীরা প্রকাশ্যে এই বলিয়া হুমকি দেয় যে, তারা যেভাবেই হোক সম্পত্তিটি দখল করে নিবে। এতে বাধা দিলে তাদেরকে চিরতরে খুন করিয়া ফেলিবে। ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, বিবাদীদের এমন মারপিট ও প্রাণনাশের হুমকির কারণে তারা চরম আতংকের মধ্যে রয়েছেন। তারা আশঙ্কা করছেন, বিবাদীরা যেকোনো সময় জমি জোরপূর্বক দখল করা সহ তাদের জান মালের বড় ধরনের ক্ষতিসাধন করতে পারে। অভিযোগটি দায়ের করতে দেরি হওয়ার কারণ হিসেবে স্থানীয় লোকজনকে বিষয়টি জানানো এবং দাঙ্গা হাঙ্গামার আশঙ্কাকেই প্রধানত উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে কালিয়াকৈর থানা পুলিশকে অভিযোগকারী ও ভুক্তভোগীরা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন।
আপনার মতামত লিখুন