ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

​নিকলীতে মেঘনা-ঘেরা ছাতিরচরে অবৈধ বালু উত্তোলনের দখলদারিত্ব

দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে প্রাণ হারালেন প্রবীণ কর্মী, আহত ২


সৈয়দ মইনুল হোসেন, কিশোরগঞ্জ
সৈয়দ মইনুল হোসেন, কিশোরগঞ্জ
প্রকাশ : ১৯ জুলাই ২০২৬

দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে প্রাণ হারালেন প্রবীণ কর্মী, আহত ২

কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার হাওরাঞ্চলবেষ্টিত ছাতিরচর বাজারে মেঘনা নদীর বুক চিরে অবৈধ বালু উত্তোলনের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এক রক্তক্ষয়ী ও নৃশংস সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও দেশীয় অস্ত্রের ভীতিকর মহড়ার মধ্যে প্রতিপক্ষের হামলায় কাছুম আলী (৬৫) নামের এক প্রবীণ বিএনপি কর্মী নিহত হয়েছেন। শনিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার ছাতিরচর পূর্বপাড়া এলাকায় এই নির্মম ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সংঘর্ষে রমিজ মেম্বার ও হিরু মিয়া নামের আরও দুই স্থানীয় বিএনপি নেতা গুরুতর আহত হয়েছেন, যাদেরকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আজ রোববার (১৯ জুলাই) দুপুরে নিকলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।


​স্থানীয় বাসিন্দা, ভুক্তভোগী পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ বেশ কিছুদিন ধরে নিকলীর ছাতিরচর ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া গ্রামের জুম্মনের নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী, অবৈধ ও ক্ষমতাধর চক্র স্থানীয় নদী থেকে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে, প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে শক্তিশালী ড্রেজার বসিয়ে কোটি কোটি টাকার বালু উত্তোলন করে আসছিল। এই অবৈধ বালু উত্তোলনের মূল হোতা হিসেবে ছাতিরচর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি পদপ্রার্থী জুম্মন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে এলাকায় একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। বর্ষায় নদীর পাড় ভাঙন এবং শুষ্ক মৌসুমে প্রাকৃতিক পরিবেশ ও নদীর গতিপথ হুমকির মুখে ফেলে এই বালু তোলার তীব্র প্রতিবাদ ও বাধা দিয়ে আসছিলেন স্থানীয় প্রবীণ বিএনপি নেতা রমিজ মেম্বার ও তার অনুসারী সাধারণ কর্মীরা। নদী ও জনপদ রক্ষায় তাদের এই প্রতিরোধই শেষ পর্যন্ত রক্তক্ষয়ী সংঘাতে রূপ নেয়।


​ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও দফাদার নাজমুল ইসলাম জানান, শনিবার দিবাগত গভীর রাতে জুম্মন ও তার সশস্ত্র বাহিনী আবারো নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রস্তুতি নিলে রমিজ মেম্বার ও কাছুম আলীসহ স্থানীয় জনতা ও দলীয় কর্মীরা তাতে তীব্র বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে যুবদল নেতা জুম্মন ও তার ২০-২৫ জনের একদল ক্যাডার ধারালো রামদা, লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে রমিজ মেম্বারের লোকজনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। গভীর রাতে নিস্তব্ধ ছাতিরচর বাজারে শুরু হয় তুমুল ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। এলাকা জুড়ে এক ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যেন মুহূর্তের মধ্যে যুদ্ধক্ষেত্র নেমে আসে শান্ত এই জনপদে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের মুখে টিকতে না পেরে রমিজ মেম্বারের লোকজন পিছু হটেন। এ সময় হামলাকারীদের তাড়া খেয়ে তীব্র আতঙ্ক ও শারীরিক অসুস্থতায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন প্রবীণ কর্মী কাছুম আলী। হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর স্থানীয়রা রক্তাক্ত ও সংজ্ঞাহীন অবস্থায় কাছুম আলীকে উদ্ধার করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। নিহত কাছুম আলী ছাতিরচর পূর্বপাড়া গ্রামের মৃত মনির উদ্দিনের ছেলে এবং এলাকায় একজন শান্তিপ্রিয় প্রবীণ কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

​এই ন্যক্কারজনক হত্যাকাণ্ডের পর স্থানীয় রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা ও আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। এই বিষয়ে জানতে চাইলে নিকলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট বদরুল মোমেন মিঠু মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, "আমি মার্ডারের বিষয়ে এখনও শতভাগ নিশ্চিত তথ্য পাইনি। ঘটনাটি শুনেছি, তবে এটি সরাসরি আঘাতজনিত হত্যা নাকি তীব্র আতঙ্ক ও উত্তেজনায় হার্ট অ্যাটাকজনিত মৃত্যু, তা এই মুহূর্তে ডাক্তারি পরীক্ষা ছাড়া নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না। তবে যিনি মারা গেছেন, তিনি নিঃসন্দেহে আমাদের দলের একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী ছিলেন। আমরা এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করছি এবং এর সুষ্ঠু বিচার চাই।" ​নিজের আশ্রয়ে প্রশ্রয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে অ্যাডভোকেট মিঠু তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। বর্তমান কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল বিএনপির কেউ নন, তিনি দল থেকে বহিষ্কৃত। মূলত এমপি এবং তার পেটুয়া বাহিনী ও সহযোগীরাই এই অঞ্চলের সমস্ত অবৈধ বালু মহাল ও নদীপথ নিয়ন্ত্রণ করে। আমাদের দলের কোনো মূল ধারার লোক এর সাথে জড়িত নেই। জুম্মনরা গোপনে ও চুরি করে গত দুই দিন ধরে বালু তুলছিল বলে জানতে পেরেছি। আমাদের অবস্থান পরিষ্কার— অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ হোক এবং এই মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার হোক।"


​এদিকে অভিযোগের তীর যার দিকে, সেই কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের বিতর্কিত সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবালের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি, যা এলাকায় নানা গুঞ্জনের জন্ম দিয়েছে।


​নিকলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান ঘটনার সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে সংবাদমাধ্যমকে জানান, "নদীতে ড্রেজার দিয়ে অবৈধ বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করেই মূলত দুই পক্ষের মধ্যে এই দীর্ঘদিনের বিরোধ ও গতরাতের হাতাহাতির সূত্রপাত। যুবদল নেতা জুম্মন ও তার লোকজন ধারালো অস্ত্র নিয়ে রমিজ মেম্বারের লোকদের ধাওয়া করেছিল। ধাওয়ার একপর্যায়ে কাছুম আলী নামের একজন অসুস্থ হয়ে মাটিতে পড়ে যান। প্রাথমিকভাবে তার শরীরে দৃশ্যমান কোনো বড় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। আমরা ধারণা করছি তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে (হার্ট অ্যাটাক) মারা গেছেন।" ​তিনি আরও জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এলাকায় নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তিসাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে ছাতিরচর এলাকায় এক থমথমে ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, সাধারণ মানুষের চোখে-মুখে শুধু একটাই প্রশ্ন— এই নদীগ্রাসী লোভের অবসান ঘটবে কবে?

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে প্রাণ হারালেন প্রবীণ কর্মী, আহত ২

প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুলাই ২০২৬

featured Image

কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার হাওরাঞ্চলবেষ্টিত ছাতিরচর বাজারে মেঘনা নদীর বুক চিরে অবৈধ বালু উত্তোলনের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এক রক্তক্ষয়ী ও নৃশংস সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও দেশীয় অস্ত্রের ভীতিকর মহড়ার মধ্যে প্রতিপক্ষের হামলায় কাছুম আলী (৬৫) নামের এক প্রবীণ বিএনপি কর্মী নিহত হয়েছেন। শনিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার ছাতিরচর পূর্বপাড়া এলাকায় এই নির্মম ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সংঘর্ষে রমিজ মেম্বার ও হিরু মিয়া নামের আরও দুই স্থানীয় বিএনপি নেতা গুরুতর আহত হয়েছেন, যাদেরকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আজ রোববার (১৯ জুলাই) দুপুরে নিকলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।


​স্থানীয় বাসিন্দা, ভুক্তভোগী পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ বেশ কিছুদিন ধরে নিকলীর ছাতিরচর ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া গ্রামের জুম্মনের নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী, অবৈধ ও ক্ষমতাধর চক্র স্থানীয় নদী থেকে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে, প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে শক্তিশালী ড্রেজার বসিয়ে কোটি কোটি টাকার বালু উত্তোলন করে আসছিল। এই অবৈধ বালু উত্তোলনের মূল হোতা হিসেবে ছাতিরচর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি পদপ্রার্থী জুম্মন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে এলাকায় একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। বর্ষায় নদীর পাড় ভাঙন এবং শুষ্ক মৌসুমে প্রাকৃতিক পরিবেশ ও নদীর গতিপথ হুমকির মুখে ফেলে এই বালু তোলার তীব্র প্রতিবাদ ও বাধা দিয়ে আসছিলেন স্থানীয় প্রবীণ বিএনপি নেতা রমিজ মেম্বার ও তার অনুসারী সাধারণ কর্মীরা। নদী ও জনপদ রক্ষায় তাদের এই প্রতিরোধই শেষ পর্যন্ত রক্তক্ষয়ী সংঘাতে রূপ নেয়।


​ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও দফাদার নাজমুল ইসলাম জানান, শনিবার দিবাগত গভীর রাতে জুম্মন ও তার সশস্ত্র বাহিনী আবারো নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রস্তুতি নিলে রমিজ মেম্বার ও কাছুম আলীসহ স্থানীয় জনতা ও দলীয় কর্মীরা তাতে তীব্র বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে যুবদল নেতা জুম্মন ও তার ২০-২৫ জনের একদল ক্যাডার ধারালো রামদা, লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে রমিজ মেম্বারের লোকজনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। গভীর রাতে নিস্তব্ধ ছাতিরচর বাজারে শুরু হয় তুমুল ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। এলাকা জুড়ে এক ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যেন মুহূর্তের মধ্যে যুদ্ধক্ষেত্র নেমে আসে শান্ত এই জনপদে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের মুখে টিকতে না পেরে রমিজ মেম্বারের লোকজন পিছু হটেন। এ সময় হামলাকারীদের তাড়া খেয়ে তীব্র আতঙ্ক ও শারীরিক অসুস্থতায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন প্রবীণ কর্মী কাছুম আলী। হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর স্থানীয়রা রক্তাক্ত ও সংজ্ঞাহীন অবস্থায় কাছুম আলীকে উদ্ধার করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। নিহত কাছুম আলী ছাতিরচর পূর্বপাড়া গ্রামের মৃত মনির উদ্দিনের ছেলে এবং এলাকায় একজন শান্তিপ্রিয় প্রবীণ কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

​এই ন্যক্কারজনক হত্যাকাণ্ডের পর স্থানীয় রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা ও আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। এই বিষয়ে জানতে চাইলে নিকলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট বদরুল মোমেন মিঠু মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, "আমি মার্ডারের বিষয়ে এখনও শতভাগ নিশ্চিত তথ্য পাইনি। ঘটনাটি শুনেছি, তবে এটি সরাসরি আঘাতজনিত হত্যা নাকি তীব্র আতঙ্ক ও উত্তেজনায় হার্ট অ্যাটাকজনিত মৃত্যু, তা এই মুহূর্তে ডাক্তারি পরীক্ষা ছাড়া নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না। তবে যিনি মারা গেছেন, তিনি নিঃসন্দেহে আমাদের দলের একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী ছিলেন। আমরা এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করছি এবং এর সুষ্ঠু বিচার চাই।" ​নিজের আশ্রয়ে প্রশ্রয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে অ্যাডভোকেট মিঠু তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। বর্তমান কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল বিএনপির কেউ নন, তিনি দল থেকে বহিষ্কৃত। মূলত এমপি এবং তার পেটুয়া বাহিনী ও সহযোগীরাই এই অঞ্চলের সমস্ত অবৈধ বালু মহাল ও নদীপথ নিয়ন্ত্রণ করে। আমাদের দলের কোনো মূল ধারার লোক এর সাথে জড়িত নেই। জুম্মনরা গোপনে ও চুরি করে গত দুই দিন ধরে বালু তুলছিল বলে জানতে পেরেছি। আমাদের অবস্থান পরিষ্কার— অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ হোক এবং এই মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার হোক।"


​এদিকে অভিযোগের তীর যার দিকে, সেই কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের বিতর্কিত সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবালের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি, যা এলাকায় নানা গুঞ্জনের জন্ম দিয়েছে।


​নিকলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান ঘটনার সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে সংবাদমাধ্যমকে জানান, "নদীতে ড্রেজার দিয়ে অবৈধ বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করেই মূলত দুই পক্ষের মধ্যে এই দীর্ঘদিনের বিরোধ ও গতরাতের হাতাহাতির সূত্রপাত। যুবদল নেতা জুম্মন ও তার লোকজন ধারালো অস্ত্র নিয়ে রমিজ মেম্বারের লোকদের ধাওয়া করেছিল। ধাওয়ার একপর্যায়ে কাছুম আলী নামের একজন অসুস্থ হয়ে মাটিতে পড়ে যান। প্রাথমিকভাবে তার শরীরে দৃশ্যমান কোনো বড় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। আমরা ধারণা করছি তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে (হার্ট অ্যাটাক) মারা গেছেন।" ​তিনি আরও জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এলাকায় নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তিসাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে ছাতিরচর এলাকায় এক থমথমে ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, সাধারণ মানুষের চোখে-মুখে শুধু একটাই প্রশ্ন— এই নদীগ্রাসী লোভের অবসান ঘটবে কবে?


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ