জাতীয়

ভূমি অধিগ্রহণে ভোগান্তি কমাতে সরাসরি ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ

ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের অর্থ পেতে সাধারণ মানুষকে যেন জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে বারবার যেতে না হয়, সে লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে সরাসরি ক্ষতিপূরণের চেক তুলে দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

⎙ প্রিন্ট
ভূমি অধিগ্রহণে ভোগান্তি কমাতে সরাসরি ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ
ভূমি অধিগ্রহণে ভোগান্তি কমাতে নতুন উদ্যোগ, ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে সরাসরি ক্ষতিপূরণের চেক

ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের অর্থ পেতে সাধারণ মানুষকে যেন জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে বারবার যেতে না হয়, সে লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে সরাসরি ক্ষতিপূরণের চেক তুলে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। সংশ্লিষ্ট এলাকায় উপস্থিত হয়ে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের কাছে চেক হস্তান্তরের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ প্রদানের প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও জনবান্ধব করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ভূমি অধিগ্রহণের কারণে জমি, বসতবাড়ি কিংবা অন্যান্য স্থাপনা হারানো মানুষের জন্য ক্ষতিপূরণের অর্থ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে গিয়ে অনেক সময় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যেতে হয়। এতে সময় ও অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি বিশেষ করে দূরবর্তী এলাকার মানুষের ভোগান্তি বাড়ে।

এই পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা সরাসরি মাঠপর্যায়ে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের কাছে ক্ষতিপূরণের চেক পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। এর ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে এসে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা কিংবা বারবার যোগাযোগ করার প্রয়োজন কমবে।

জেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ভূমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানের প্রক্রিয়াকে সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ করা। একই সঙ্গে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি যেন নির্ধারিত ক্ষতিপূরণের অর্থ যথাযথভাবে এবং দ্রুত পান, সেটিও নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

ক্ষতিপূরণের চেক হস্তান্তরের আগে প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় যাচাই করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে প্রাপ্য ব্যক্তির হাতে সরাসরি চেক তুলে দেওয়া হচ্ছে। এতে মধ্যস্বত্বভোগী কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত হয়রানির সুযোগ কমানোর পাশাপাশি ক্ষতিপূরণের অর্থ সঠিক ব্যক্তির কাছে পৌঁছানো সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্যতম বড় উদ্বেগ থাকে যথাসময়ে ক্ষতিপূরণ পাওয়া নিয়ে। উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণের পর ক্ষতিপূরণের অর্থ পেতে বিলম্ব হলে অনেক পরিবার আর্থিক ও সামাজিক সমস্যার মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে বসতভিটা কিংবা আয়ের প্রধান উৎস হিসেবে ব্যবহৃত জমি অধিগ্রহণ করা হলে দ্রুত ক্ষতিপূরণ পাওয়া তাদের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

এ কারণে শুধু ক্ষতিপূরণের অর্থ নির্ধারণ নয়, তা দ্রুত ও হয়রানিমুক্তভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির হাতে পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে জেলা প্রশাসন। মাঠপর্যায়ে সরাসরি চেক বিতরণের মাধ্যমে সেই প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এ ধরনের উদ্যোগের ফলে ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ নিয়ে মানুষের দীর্ঘসূত্রতা ও হয়রানি কমবে। একই সঙ্গে প্রশাসনের সঙ্গে সাধারণ মানুষের যোগাযোগ আরও সহজ হবে এবং ক্ষতিপূরণ প্রদান কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়বে।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভূমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঠিকভাবে প্রস্তুত রাখা এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় যাচাই সম্পন্ন হওয়ার পর প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের প্রাপ্য অর্থ দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই মাঠপর্যায়ে সরাসরি চেক হস্তান্তরের এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

সম্পর্কিত সংবাদ