জাতীয়

অনলাইন জুয়া-মাদক অপরাধের মূল, শিকড় উৎখাতে গুরুত্ব স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

অপরাধ সংঘটনের পর কেবল গ্রেপ্তার ও শাস্তি দিয়ে সমাজ থেকে অপরাধ নির্মূল করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি মনে করেন, অপরাধ হলো একটি উপসর্গ মাত্র; এর মূল রোগ বা অন্তর্নিহিত কারণ সমাজ থেকে দূর করতে না পারলে স্থায়ীভাবে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা যায় না।

⎙ প্রিন্ট
অনলাইন জুয়া-মাদক অপরাধের মূল, শিকড় উৎখাতে গুরুত্ব স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
অনলাইন জুয়া ও মাদক অপরাধের মূল; এর কারণ ও শিকড় উৎখাতে গুরুত্ব দিচ্ছেন 'স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী'

অপরাধ সংঘটনের পর কেবল গ্রেপ্তার ও শাস্তি দিয়ে সমাজ থেকে অপরাধ নির্মূল করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি মনে করেন, অপরাধ হলো একটি উপসর্গ মাত্র; এর মূল রোগ বা অন্তর্নিহিত কারণ সমাজ থেকে দূর করতে না পারলে স্থায়ীভাবে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। বর্তমানে দেশের সিংহভাগ গুরুতর অপরাধের নেপথ্যে মাদক এবং জুয়ার প্রত্যক্ষ সংযোগ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ক্র্যাব সভাপতি মির্জা মেহেদী তমাল এবং সাধারণ সম্পাদক এমএম বাদশাহর সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ, প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) মো. রাশেদ খান, বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাছির জামাল, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার-মিডিয়া অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ের সভাপতি শহীদুল ইসলাম।

অপরাধের মূলে আঘাত হানার তাগিদ সমাজ বিশ্লেষণ ও গবেষণার ওপর জোর দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কেন অপরাধ হচ্ছে, তার কারণ খুঁজে বের করে সেই জায়গাতে ব্যবস্থা নিতে হবে। জুয়া ও মাদকের বিস্তার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা গেলে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অপরাধের হারও আশঙ্কাজনকভাবে কমে আসবে। তিনি বলেন, পুরোনো আইন ও গতানুগতিক ধারা দিয়ে বর্তমান যুগের অপরাধ মোকাবিলা করা কঠিন। তাই সময়ের চাহিদা ও অপরাধের পরিবর্তিত প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কার বা নতুন আইন প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে। দুর্বল আইনের কারণে অপরাধীরা যাতে সহজেই জামিন বা আইনি ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে যেতে না পারে, সে বিষয়েও সজাগ দৃষ্টি রাখার কথা জানান তিনি।

আধুনিক সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠন ডিজিটাল যুগে অপরাধের ধরন বদলে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সাইবার স্পেসের অপরাধ মোকাবিলায় সরকার পুলিশকে আরও প্রযুক্তিগতভাবে সক্ষম করে তুলছে। পুলিশ সদর দপ্তর ও ডিএমপির পাশাপাশি বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে আধুনিক সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট এবং ল্যাব স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এর আগে গত ১৫ সেপ্টেম্বর পুলিশ স্টাফ কলেজের পরিচালনা বোর্ডের সভায়ও তিনি একজন অতিরিক্ত আইজিপির নেতৃত্বে একটি পূর্ণাঙ্গ ও প্রাতিষ্ঠানিক সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। থানা ও উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত এই কার্যক্রমে দায়িত্বশীল কর্মকর্তা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

সাংবাদিকদের সুরক্ষা ও সিএসআর তহবিল ঝুঁকিপূর্ণ ক্রাইম রিপোর্টিংয়ের সঙ্গে যুক্ত সাংবাদিকদের সুরক্ষার বিষয়ে সরকারের সদিচ্ছার কথা ব্যক্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা করতে গিয়ে কোনো সাংবাদিক ক্ষতিগ্রস্ত বা আহত হলে তাদের সহায়তার জন্য সরকারি উদ্যোগ বা করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার (সিএসআর) আওতায় বিশেষ তহবিল গঠনের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। এছাড়া, ঝুঁকিপূর্ণ ও অনুসন্ধানী কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা পুলিশের পক্ষ থেকে ক্রাইম রিপোর্টারদের জন্য বিশেষ সনদ দেওয়ার বিষয়টিও যাচাই করে দেখা হবে বলে জানান তিনি।

আইন, প্রশাসন ও গণমাধ্যমের সমন্বিত উদ্যোগ সাংবাদিকদের উদ্দেশে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রিপোর্টিংয়ে মান বজায় রাখার পাশাপাশি সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধতা থাকতে হবে। কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাই নয়, বরং আইন প্রণয়ন, প্রয়োগ, বিচারব্যবস্থা এবং গণমাধ্যমের জোরালো ভূমিকার সমন্বিত মাধ্যমেই একটি নিরাপদ ও কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্র গঠন সম্ভব। অপরাধ দমনে গণমাধ্যমকে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

সম্পর্কিত সংবাদ