নওগাঁর মান্দায় হানিট্রাপের ফাঁদে ফেলে এলজিইডি কার্যালয়ের এক কার্যসহকারীকে জিম্মি করে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ, চাঁদা দাবি এবং জোরপূর্বক চেক ও নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগে ব্ল্যাকমেইলিং চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মান্দা উপজেলার কুসুম্বা মোড় এলাকার শ্রী কনক কুমার (৩০), কুসুম্বা দক্ষিণপাড়া এলাকার মো. সাজ্জাদ হোসেন (২৮) এবং বড়পই গ্রামের তানজিমা খাতুন (৪৪)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তানজিমা খাতুন দীর্ঘদিন ধরে মান্দা উপজেলা এলজিইডি অফিসের কার্যসহকারী মো. আলমগীর হোসেনের সঙ্গে দাপ্তরিক কাজের অজুহাতে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করছিলেন। গত ৭ আগস্ট রাতে তিনি ফোন করে আলমগীরকে দেখা করার কথা বলেন।
পরদিন ৮ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আলমগীর কুসুম্বা মসজিদ এলাকায় গেলে তানজিমার সহযোগী কনক কুমার, সাজ্জাদ হোসেনসহ কয়েকজন তাকে চা খাওয়ার কথা বলে একটি টিনশেড ঘরে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে চা ও সিগারেটের সঙ্গে চেতনানাশক বা নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে তাকে কাবু করা হয়। পরে পাশের একটি মাটির ঘরে নিয়ে তানজিমা খাতুনকে দিয়ে আলমগীরকে জড়িয়ে ধরানো এবং জোরপূর্বক বিবস্ত্র করে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করা হয়।
এরপর ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ সময় ভুক্তভোগীর মানিব্যাগ থেকে নগদ ৬ হাজার ৭০০ টাকা এবং তার বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে আরও ৫ হাজার ২০০ টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরিস্থিতির কারণে একপর্যায়ে আলমগীর ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দিতে রাজি হন। স্বজনের মাধ্যমে ব্যাংকের চেকবই আনানোর পর অভিযুক্তরা চাপ সৃষ্টি করে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার একটি চেক, একটি ফাঁকা চেক এবং ১০০ টাকা মূল্যমানের তিনটি ফাঁকা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে তার স্বাক্ষর নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
রোববার (৯ আগস্ট) সকাল পৌনে ১১টার দিকে অভিযুক্তরা অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি, সতীহাট শাখা থেকে ওই ১ লাখ ২০ হাজার টাকা উত্তোলনের চেষ্টা করেন।
বিষয়টি ভুক্তভোগী আলমগীরের মাধ্যমে জানতে পেরে পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় মান্দা থানা পুলিশ ব্যাংকে অভিযান চালায়। এ সময় কনক কুমার ও সাজ্জাদ হোসেনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তাদের সহযোগী সুমন ও ইসরাফিল পালিয়ে যান।
অভিযানের সময় ব্যাংকের ক্যাশ কাউন্টার থেকে ভুক্তভোগীর জমা দেওয়া ১ লাখ ২০ হাজার টাকার চেকটি উদ্ধার ও জব্দ করে পুলিশ।
পরে পৃথক অভিযান চালিয়ে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তানজিমা খাতুনকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে মান্দা থানায় মামলা করেছেন। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ বলছে, চক্রটির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।








