রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ছিনতাইকারীর হ্যাঁচকা টানে রিকশা থেকে পড়ে স্কুলশিক্ষিকা রনজিলা পারভীন (৫৫) নিহতের চাঞ্চল্যকর ঘটনায় মূল দুই ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি সুজুকি জিক্সার এস এফ মোটরসাইকেল এবং নিহত শিক্ষিকার লুণ্ঠিত মোবাইল ও ভ্যানিটি ব্যাগ উদ্ধার করা হয়।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—ঘটনার দিন মোটরসাইকেল চালক রাজীব এবং চলন্ত রিকশা থেকে ভ্যানিটি ব্যাগ ধরে টান দেওয়া খোকন।
ডিবি সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ আগস্ট ভোরে সংঘটিত এই মর্মান্তিক ঘটনার পর থেকেই ছায়া তদন্ত শুরু করে গোয়েন্দা পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তি ও আধুনিক গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় রাজধানী এবং এর আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রথমে খোকন ও পরে রাজীবকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে।
এর আগে র্যাব-২ দাবি করেছিল যে, একটি সাদা রঙের ‘আর ১৫’ মোটরসাইকেল ও দুই ব্যক্তিকে এ ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে সিসিটিভি ফুটেজের সঙ্গে ওই দাবির অসঙ্গতি এবং গ্রেপ্তারকৃতদের অস্বীকারের ঘটনায় তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল। পরবর্তীতে ডিবি পুলিশের নিবিড় ছায়া তদন্ত ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে প্রকৃত অপরাধীরা শনাক্ত ও গ্রেপ্তার হলো।
যেভাবে ঘটেছিল মর্মান্তিক দুর্ঘটনা:
পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ আগস্ট ভোরের দিকে বগুড়া থেকে ঢাকায় আসেন শিক্ষিকা রনজিলা পারভীন। ফার্মগেটের ইস্পাহানী ইসলামিয়া চক্ষু ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চোখ দেখানোর উদ্দেশ্যে তিনি একটি রিকশায় গন্তব্যে যাচ্ছিলেন। রিকশাটি জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে পৌঁছামাত্র পেছন দিক থেকে একটি সুজুকি জিক্সার এস এফ মোটরসাইকেলে আসা ছিনতাইকারীরা তার ভ্যানিটি ব্যাগ ধরে সজোরে হ্যাঁচকা টান দেয়।
টানের চোটে রিকশা থেকে সোজা পিচঢালা রাস্তায় ছিটকে পড়েন ওই শিক্ষিকা। এতে তাঁর মাথা মারাত্মকভাবে ফেটে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ।








