শিক্ষা

কলেজ শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক পেশায় থাকার অভিযোগ, খোঁজ নেই অভিযোগকারীর

লালমনিরহাটের একটি কলেজের সহকারী অধ্যাপক আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে একাধিক লাভজনক পেশায় যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে।

⎙ প্রিন্ট
কলেজ শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক পেশায় থাকার অভিযোগ, খোঁজ নেই অভিযোগকারীর
কলেজ শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক পেশায় থাকার অভিযোগ, খোঁজ নেই অভিযোগকারীর

লালমনিরহাটের একটি কলেজের সহকারী অধ্যাপক আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে একাধিক লাভজনক পেশায় যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হলে তা তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগপত্রে অভিযোগকারীর নাম থাকলেও পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা ও মুঠোফোন নম্বর না থাকায় তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানা গেছে।

জানা যায়, ফয়জুল হোসেন নামে এক ব্যক্তি নিজেকে লালমনিরহাট সদর উপজেলার গোকুন্ডা ইউনিয়নের বাসিন্দা দাবি করে গত ১৬ আগস্ট মাউশির মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে বলা হয়, গোকুন্ডা ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার আব্দুস সালাম বড়বাড়ি শহীদ আবুল কাশেম মহাবিদ্যালয়ে ইসলামি স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবেও কর্মরত রয়েছেন। পাশাপাশি তিনি জেলা কাজি সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগে আরও দাবি করা হয়, একাধিক দায়িত্বে যুক্ত থাকার কারণে আব্দুস সালাম কোনো একটি প্রতিষ্ঠানে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না। এতে কলেজের শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি গোকুন্ডা ইউনিয়নে বিয়ে ও বিচ্ছেদ নিবন্ধনসংক্রান্ত সেবাতেও ভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছে।

ফয়জুল হোসেনের নামে করা অভিযোগে আরও দাবি করা হয়, লালমনিরহাট জেলার প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন নিকাহ রেজিস্ট্রার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় কর্মরত রয়েছেন। দেশের বিভিন্ন এলাকাতেও নিকাহ রেজিস্ট্রারদের একটি অংশ বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে অভিযোগপত্রে আবেদনকারীর নাম থাকলেও তার পিতার নাম, পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা কিংবা মুঠোফোন নম্বর উল্লেখ করা হয়নি। ফলে অভিযোগকারী প্রকৃতপক্ষে কে এবং তার সঙ্গে কীভাবে যোগাযোগ করা যাবে, তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে অভিযোগটি আমলে নিয়ে গত ২২ সেপ্টেম্বর মাউশির বেসরকারি কলেজ শাখার সহকারী পরিচালক ফিরোজ মিয়ার স্বাক্ষরিত একটি চিঠি দেওয়া হয়। ওই চিঠিতে অভিযোগটি তদন্ত করে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য রংপুর অঞ্চলের কলেজ শাখার পরিচালককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগকারীর পরিচয় ও ঠিকানা নিশ্চিত না হওয়ায় অভিযোগটির উদ্দেশ্য এবং ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন জেলার কয়েকজন নিকাহ রেজিস্ট্রার। তাদের দাবি, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি অভিযোগকারীর পরিচয়ও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তবে অভিযোগের বিষয়ে কলেজ শিক্ষক আব্দুস সালাম বলেন, শুধু তিনি নন, দেশের অনেক নিকাহ রেজিস্ট্রার শিক্ষকতা পেশার সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন। একাধিক পেশায় থাকার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সুনির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা এখনো নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

আব্দুস সালাম আরও বলেন, তাকে উদ্দেশ্য করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যারা এ ধরনের তথ্য প্রচার করছেন, তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ও সাইবার সুরক্ষা আইন-২০২৬-এর আওতায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শেষে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। পাশাপাশি অভিযোগকারীর পরিচয় ও অভিযোগের ভিত্তি যাচাই করাও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে মনে করছেন তারা।

সম্পর্কিত সংবাদ