হামের টিকাদানে পরিকল্পনায় ঘাটতি রয়টার্সের অনুসন্ধান, মৃত্যু ১১৮৬
বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় টিকাদান পরিকল্পনা, শিশুদের নিবন্ধন এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছানোর ঘাটতি নিয়ে নতুন অনুসন্ধান প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স। শনিবার (১৭ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নথি, স্বাস্থ্যকর্মী ও বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য এবং মাঠপর্যায়ের তথ্যের ভিত্তিতে জরুরি টিকাদান কার্যক্রমের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরা হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে উদ্ধৃত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, ৯ অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দুই লাখ দুই হাজারের বেশি এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত রোগী প্রায় ২২ হাজার। প্রতিবেদনে শিশুদের টিকাদান থেকে বাদ পড়ার বিষয়টিকে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের অন্যতম চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। রয়টার্সের অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, এপ্রিলের জরুরি টিকাদান কর্মসূচির প্রস্তুতিতে সময়সংকটের কারণে স্বাভাবিকের তুলনায় কম যাচাইপর্ব সম্পন্ন করা হয়েছিল। পরবর্তী পর্যায়ে লক্ষ্যভুক্ত শিশুদের তালিকা ও বাস্তবে টিকা পাওয়া শিশুর সংখ্যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য সামনে আসে। এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ১৬ অক্টোবরের প্রতিবেদনে ১৫ মার্চ থেকে মোট ১ হাজার ৮২ জনের হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে আরও ১০৪ জনের মৃত্যুর তথ্য দেওয়া হয়েছে। দুই শ্রেণি মিলিয়ে মোট ১ হাজার ১৮৬ জন। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন ১ হাজার ২১০টি সন্দেহজনক ও নিশ্চিত রোগীর তথ্য পাওয়া যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এপ্রিলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় উচ্চঝুঁকির এলাকায় ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের টিকাদান সম্প্রসারণের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছিল। ইউনিসেফও নিয়মিত টিকাদানের ঘাটতি পূরণ ও শিশুদের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছানোর গুরুত্ব জানিয়েছে। তবে রয়টার্সের ৯ অক্টোবর পর্যন্ত হিসাব এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত মৃত্যুর হিসাবের সংজ্ঞা ও সময়সীমা এক নয়; তাই দুটি সংখ্যা সরাসরি বিয়োগ করে নতুন মৃত্যুর সংখ্যা নির্ধারণ করা সঠিক হবে না। রয়টার্স জানিয়েছে, সেপ্টেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী জিয়াউদ্দিন হায়দার প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে সরকারের প্রচেষ্টার কথা বলেছেন, তবে অক্টোবরের নতুন প্রশ্নগুলোর জবাব পাওয়া যায়নি।








