ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

স্বাস্থ্য

হামে মৃত্যু বাড়ছেই, ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ জনের প্রাণহানি

দেশজুড়ে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়তে থাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে একজন নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত ছিলেন, বাকি সাতজন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সংক্রমণের বিস্তার রোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, দেশে চলমান প্রাদুর্ভাবের মধ্যে প্রতিদিনই নতুন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, পাশাপাশি হাসপাতালে রোগীর চাপও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ১৫ মার্চ থেকে ২৬ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত মোট সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩১ হাজার ২৮ জনে। এর মধ্যে ৪ হাজার ৬০৩ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে। একই সময়ে সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত মিলিয়ে মোট ২১ হাজার ৪৩৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৭ হাজার ৯৫৫ জন।প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন আরও ২১৬ জন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব মৃত্যুর বড় অংশই শিশুদের মধ্যে ঘটছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে ১ হাজার ৪২১ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের বড় একটি অংশ শিশু। রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলা শহরের হাসপাতালগুলোতে শিশু রোগীর চাপ বাড়ায় চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের।মাঠপর্যায়ের তথ্য বলছে, সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ হাসপাতালের ভেতরে ও বাইরে পর্যাপ্ত আইসোলেশন বা পৃথক রাখার ব্যবস্থা না থাকা। আক্রান্ত শিশুদের অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ রোগীদের সঙ্গে একই ওয়ার্ডে রাখা হচ্ছে। এতে হাসপাতালে আসা অন্য শিশু ও অভিভাবকরাও সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়ছেন।শয্যা সংকটের কারণে অনেক হাসপাতালে আক্রান্ত শিশুদের করিডোর কিংবা অস্থায়ী বেডে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে রোগী আলাদা রাখা সম্ভব না হলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়বে।জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে একটি ভাইরাসজনিত রোগ। একজন আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে দ্রুত বহু মানুষের মধ্যে এটি ছড়িয়ে যেতে পারে। সময়মতো টিকা না নেওয়া, আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা এবং জনসমাগমপূর্ণ স্থানে অবস্থান করায় সংক্রমণ বাড়ছে।তারা আরও বলেন, জ্বর, চোখ লাল হওয়া, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং শরীরে লালচে দানা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। আক্রান্ত শিশুকে অন্য শিশুদের থেকে আলাদা রাখতে হবে এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অভিভাবকদের শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনতে আহ্বান জানিয়েছে। যেসব শিশু নির্ধারিত সময়ে হাম-রুবেলা টিকা নেয়নি, তাদের দ্রুত টিকা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই আইসোলেশন ব্যবস্থা জোরদার, হাসপাতালের সক্ষমতা বৃদ্ধি, জরুরি ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত এবং টিকাদান কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা না গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।দেশজুড়ে বাড়তে থাকা সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা নতুন করে জনস্বাস্থ্য উদ্বেগ তৈরি করেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রশাসনিক সমন্বয়, দ্রুত নজরদারি এবং সচেতনতা বাড়ানো ছাড়া এই প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হবে।#আর

হামে মৃত্যু বাড়ছেই, ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ জনের প্রাণহানি