সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ১নং ইসলামপুর ইউনিয়নের ছনবাড়ী থেকে ইছামতী বাজার পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ রাস্তাটি এখন এলাকাবাসীর জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন শত শত ভারী ট্রাক চলাচলের কারণে রাস্তাটি ভেঙে চুরমার হয়ে যাওয়ায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন ওই অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ।অনুসন্ধানে গেলে জানা যায়, প্রতিদিন সন্ধ্যা হওয়ার সাথে সাথে ইছামতী এলাকা থেকে চুনাপাথর বহনকারী শত শত ভারী ট্রাকের তাণ্ডব শুরু হয়, যা চলে বিরতিহীনভাবে সারারাত ভর। গ্রামীণ এই ছোট রাস্তাটি মূলত হালকা যানবাহন চলাচলের উপযোগী হলেও, ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত ওজনের পাথরবাহী ট্রাক চলাচলের কারণে পিচ ও খোয়া উঠে গিয়ে বিশাল বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে পানি জমে মরণকূপে পরিণত হয়।এমনকি রাস্তার বিভিন্ন স্থানে পিলারের লোহার রড বেরিয়ে বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে বলে মনে করেন এলাকার জনগণ তারা বলেন কিছু অসাধু ব্যক্তি তাদের সিন্ডিকেট আর ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য আমাদের এই অঞ্চলের পুরো মানুষগুলি চরম দুর্যোগ পোহাতে হচ্ছে মাঝে মাঝে দেখা যায় তাদের স্বার্থ হাসিলের জন্য তারা এলাকার অনেক কে তোয়াক্কা না করে তাদের নিজস্ব ক্ষমতা রাজনীতিক প্রভাব বিস্তার করে চাঁদাবাজির বিস্তার করে এই গাড়ি চলাচলের ব্যবস্থা করে দিচ্ছে আমরা অভিযোগ দিয়েছি এখন পর্যন্ত তার কোন সূরা হা হয়নিভুক্তভোগী এলাকাবাসীর অভিযোগ, দিনরাত ট্রাক চলাচলের বিকট শব্দ আর ধুলাবালিতে রাস্তার দুই পাশের বাসিন্দাদের জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, "এই রাস্তা দিয়ে এখন মুমূর্ষু রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাওয়া বা স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের যাতায়াত করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ইছামতীর পাথরের ট্রাকগুলো রাস্তাটা পুরো শেষ করে দিয়েছে।"রাস্তার এই বেহাল দশা নিয়ে স্থানীয় ২নং ওয়ার্ডের মেম্বারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জনদুর্ভোগের বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিয়ে উল্টো ব্যবসায়িক স্বার্থের সাফাই গেয়েছেন। তিনি বলেন, "আমার ছেলের ইম্পোর্ট ব্যবসা রয়েছে। ব্যবসার স্বার্থে গাড়ি তো চলবেই। রাস্তা ভাঙলে আবার ঠিক হবে। মানুষতো ব্যবসা করতে হবে, ব্যবসা বন্ধ করা যাবে না।" তার এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্যে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।একই সুরে কথা বলেছেন ১নং ইসলামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান। তিনি রাস্তাটি ছোট এবং সংকীর্ণ হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করলেও ট্রাক চলাচল বন্ধের বিপক্ষে মত দেন। চেয়ারম্যান বলেন, "এই রাস্তা দিয়ে এলসির (LC) পাথর আনা নেওয়া করা হচ্ছে। এখান থেকে সরকার বড় অংকের রাজস্ব পাচ্ছে। তাই ব্যবসায়ীদের স্বার্থে এই রাস্তায় ট্রাক চলাচল বন্ধ করা যাবে না।" গ্রামীণ রাস্তায় কেন ভারি যান চলছে- এমন প্রশ্নের বিপরীতে তিনি স্পষ্টভাবেই গাড়ি চলাচলের পক্ষে অবস্থান নেন।এদিকে জনগণের ভোগান্তি আর জনপ্রতিনিধিদের এমন অনড় অবস্থানের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বলেন, "ছনবাড়ী-ইছামতী সড়কের বিষয়ে এর আগেও আমাদের কাছে একটি অভিযোগ এসেছিল। বিষয়টি আমাদের নজরে আছে এবং আমরা গুরুত্বের সাথে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।"অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, প্রভাবশালী ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে সাধারণ মানুষের দাবি বারবার উপেক্ষিত হচ্ছে। দ্রুত এই সড়কটি সংস্কার এবং আবাসিক এলাকায় ভারী ট্রাক চলাচলের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ না করলে যেকোনো সময় সাধারণ মানুষ বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।