ঢাকা    বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

মোঃ রাসেল মাহামুদ

মোঃ রাসেল মাহামুদ

পলাশবাড়ি উপজেলা প্রতিনিধি


উদ্বোধনের তিন বছর পরও অচল পলাশবাড়ী মডেল মসজিদ, জেলা প্রশাসকের নির্দেশেও মিলছে না অগ্রগতি

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় নির্মিত মডেল মসজিদ উদ্বোধনের প্রায় তিন বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি। রাষ্ট্রীয় প্রকল্পের অধীনে নির্মিত এই গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থাপনাটি নিয়মিত নামাজ আদায়ের জন্য এখনো ব্যবহার করা যাচ্ছে না, যা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মসজিদটি উদ্বোধনের পর থেকেই ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেম নিয়োগ প্রক্রিয়া ঝুলে আছে। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও নানা জটিলতার কারণে নিয়োগ সম্পন্ন হয়নি। ফলে এখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ তো দূরের কথা, অনেক সময় জুমার নামাজও নিয়মিতভাবে আদায় করা সম্ভব হচ্ছে না। একটি পূর্ণাঙ্গ মসজিদ হিসেবে যেসব কার্যক্রম চালু থাকার কথা, তার প্রায় কিছুই কার্যকর হয়নি।সম্প্রতি বিষয়টি আবার আলোচনায় আসে গত ২৩ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে পলাশবাড়ী উপজেলা হলরুমে আয়োজিত এক পরিচিতি ও মতবিনিময় সভায়। সেখানে সদ্য যোগদান করা গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লার উপস্থিতিতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের সম্পাদক মুশফিকুর রহমান মিলটন মসজিদটির অচলাবস্থার বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, উদ্বোধনের দীর্ঘ সময় পরও মসজিদটি কার্যকর না হওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক এবং এলাকাবাসীর প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।বিষয়টি শোনার পর জেলা প্রশাসক তাৎক্ষণিকভাবে পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জাবের আহমেদকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি জানতে চান কেন এখনো নামাজ চালু হয়নি এবং দ্রুত সমস্যার সমাধানে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বলেন।তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্দেশনার কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও বাস্তবে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। মসজিদটি এখনও একই অবস্থায় পড়ে আছে। এতে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে স্থানীয় মুসল্লিদের মধ্যে। তাদের প্রশ্ন, একটি রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে নির্মিত আধুনিক মডেল মসজিদ এতদিনেও কেন পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা গেল না।এ বিষয়ে পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জাবের আহমেদ জানান, নিয়োগ সংক্রান্ত ও প্রশাসনিক কিছু জটিলতার কারণে কাজটি বিলম্বিত হচ্ছে। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে বলে তিনি আশ্বাস দেন। তবে এলাকাবাসীর দাবি, বারবার আশ্বাসে আর ধৈর্য ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। তারা দ্রুত ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেম নিয়োগ সম্পন্ন করে মসজিদটি নিয়মিত নামাজের জন্য খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে বহুল প্রত্যাশিত এই ধর্মীয় স্থাপনাটি কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থেকে যাবে।

উদ্বোধনের তিন বছর পরও অচল পলাশবাড়ী মডেল মসজিদ, জেলা প্রশাসকের নির্দেশেও মিলছে না অগ্রগতি