কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শফিকুল ইসলাম শ্যামল ভূঁইয়ার ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।
ইউনিয়ন বিএনপির ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পদ-পদবি ও নেতৃত্ব নিয়ে দলীয় বিরোধের জেরে এই হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বুধবার বিকালে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শ্যামল ভূঁইয়া ব্যবসায়িক কাজের জন্য মোটরসাইকেলযোগে কটিয়াদী থেকে জালালপুর ইউনিয়নে যান। কাজ শেষে সন্ধ্যার পর কটিয়াদীতে ফেরার পথে চরঝাকালিয়া গ্রামের আব্দুল হাই মেম্বারের বয়লার মোড়ে পৌঁছালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী আসাদ মিয়া ও তার ছেলে ফাহিমসহ ১০-১২ জন লাঠিসোটা নিয়ে তার গতিপথ রোধ করেন এবং অতর্কিত হামলা চালান।
হামলার শিকার শ্যামল ভূঁইয়া হৃদরোগী হওয়ায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এ সময় স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান।
অন্যদিকে, আক্রমণকারী আসাদ মিয়ার ছেলে ফাহিমকে স্থানীয় জনতা গণপিটুনি দিতে শুরু করলে জালালপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম তাকে উদ্ধার করে নিজের জিম্মায় নিয়ে যান।
ভুক্তভোগী শ্যামল ভূঁইয়ার দাবি, হামলার সময় তার কাছে থাকা ব্যবসায়িক ৭ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী আসাদ মিয়া বলেন, "আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। পদ দেওয়ার নাম করে সভাপতি শ্যামল তিন মাস আগে আমার কাছ থেকে ১ লক্ষ টাকা নেন এবং দীর্ঘদিন ধরে টালবাহানা করে আসছেন। আমাকে পদ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েও সম্প্রতি সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিক মিয়ার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে তাকে পুনর্বহাল করা হয়েছে। এরই জেরে এই ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।"
পাল্টা জবাবে ইউনিয়ন সভাপতি শফিকুল ইসলাম শ্যামল ভূঁইয়া বলেন, "এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। দীর্ঘদিন ধরে সততার সাথে দায়িত্ব পালন করছি; পূর্বে আমি নয়টি ইউনিয়নে কমিটি দিয়েছি। কোনো ওয়ার্ডের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বলতে পারবেনা আমি কারো কাছ থেকে কখনো এক কাপ চা খেয়েছি। ইউনিয়নে কোনো ওয়ার্ডের কেউ বলতে পারবে না আমি অন্যায়ভাবে কারো কাছ থেকে এক টাকাও কখনো নিয়েছি। ১ লক্ষ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ দিতে পারলে সাংগঠনিকভাবে যে শাস্তি দেওয়া হবে, আমি তা মাথা পেতে নেব। তিনি আরো দাবি করেন তার ব্যবসায়িক কাজের ৮ লক্ষ টাকা একটি ব্যাগে ছিল এবং তার দুই পকটে দু লক্ষ টাকা ছিল হামলার সময় দুষ্কৃতকারীরা সেই টাকাগুলোও জোরপূর্বক ভাবে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। তিনি আরো বলেন, মূলত দলীয় কোন্দলকে কেন্দ্র করে আমাকে টার্গেট করে এই হামলা চালানো হয়েছে। আরো বলেন অন্ধকারে সবাইকে চিনতে না পারলেও ৪-৫ জনকে স্পষ্টভাবে চেনা গেছে এবং তাদের নেতৃত্বেই এই হামলা হয়েছে।আমি এর সুষ্ঠু বিচার ও আইনানুগ ব্যবস্থা দাবি করছি।"
জালালপুর ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জানান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিক মিয়ার পুনর্বহালকে কেন্দ্র করেই এই অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয় জানিয়ে কটিয়াদী উপজেলা বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দরা বলেন, "ঘটনাটি যদি দলীয় বিষয়কে কেন্দ্র করে ঘটে থাকে, তবে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তদন্ত সাপেক্ষে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
এ বিষয়ে কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, "এ ঘটনায় একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শফিকুল ইসলাম শ্যামল ভূঁইয়ার ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।
ইউনিয়ন বিএনপির ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পদ-পদবি ও নেতৃত্ব নিয়ে দলীয় বিরোধের জেরে এই হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বুধবার বিকালে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শ্যামল ভূঁইয়া ব্যবসায়িক কাজের জন্য মোটরসাইকেলযোগে কটিয়াদী থেকে জালালপুর ইউনিয়নে যান। কাজ শেষে সন্ধ্যার পর কটিয়াদীতে ফেরার পথে চরঝাকালিয়া গ্রামের আব্দুল হাই মেম্বারের বয়লার মোড়ে পৌঁছালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী আসাদ মিয়া ও তার ছেলে ফাহিমসহ ১০-১২ জন লাঠিসোটা নিয়ে তার গতিপথ রোধ করেন এবং অতর্কিত হামলা চালান।
হামলার শিকার শ্যামল ভূঁইয়া হৃদরোগী হওয়ায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এ সময় স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান।
অন্যদিকে, আক্রমণকারী আসাদ মিয়ার ছেলে ফাহিমকে স্থানীয় জনতা গণপিটুনি দিতে শুরু করলে জালালপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম তাকে উদ্ধার করে নিজের জিম্মায় নিয়ে যান।
ভুক্তভোগী শ্যামল ভূঁইয়ার দাবি, হামলার সময় তার কাছে থাকা ব্যবসায়িক ৭ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী আসাদ মিয়া বলেন, "আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। পদ দেওয়ার নাম করে সভাপতি শ্যামল তিন মাস আগে আমার কাছ থেকে ১ লক্ষ টাকা নেন এবং দীর্ঘদিন ধরে টালবাহানা করে আসছেন। আমাকে পদ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েও সম্প্রতি সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিক মিয়ার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে তাকে পুনর্বহাল করা হয়েছে। এরই জেরে এই ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।"
পাল্টা জবাবে ইউনিয়ন সভাপতি শফিকুল ইসলাম শ্যামল ভূঁইয়া বলেন, "এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। দীর্ঘদিন ধরে সততার সাথে দায়িত্ব পালন করছি; পূর্বে আমি নয়টি ইউনিয়নে কমিটি দিয়েছি। কোনো ওয়ার্ডের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বলতে পারবেনা আমি কারো কাছ থেকে কখনো এক কাপ চা খেয়েছি। ইউনিয়নে কোনো ওয়ার্ডের কেউ বলতে পারবে না আমি অন্যায়ভাবে কারো কাছ থেকে এক টাকাও কখনো নিয়েছি। ১ লক্ষ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ দিতে পারলে সাংগঠনিকভাবে যে শাস্তি দেওয়া হবে, আমি তা মাথা পেতে নেব। তিনি আরো দাবি করেন তার ব্যবসায়িক কাজের ৮ লক্ষ টাকা একটি ব্যাগে ছিল এবং তার দুই পকটে দু লক্ষ টাকা ছিল হামলার সময় দুষ্কৃতকারীরা সেই টাকাগুলোও জোরপূর্বক ভাবে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। তিনি আরো বলেন, মূলত দলীয় কোন্দলকে কেন্দ্র করে আমাকে টার্গেট করে এই হামলা চালানো হয়েছে। আরো বলেন অন্ধকারে সবাইকে চিনতে না পারলেও ৪-৫ জনকে স্পষ্টভাবে চেনা গেছে এবং তাদের নেতৃত্বেই এই হামলা হয়েছে।আমি এর সুষ্ঠু বিচার ও আইনানুগ ব্যবস্থা দাবি করছি।"
জালালপুর ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জানান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিক মিয়ার পুনর্বহালকে কেন্দ্র করেই এই অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয় জানিয়ে কটিয়াদী উপজেলা বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দরা বলেন, "ঘটনাটি যদি দলীয় বিষয়কে কেন্দ্র করে ঘটে থাকে, তবে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তদন্ত সাপেক্ষে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
এ বিষয়ে কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, "এ ঘটনায় একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

আপনার মতামত লিখুন