ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শিক্ষা থেকে বঞ্চিত সন্তান

অর্থাভাবে থমকে গেছে সৈয়দপুরের আক্তারুলের চিকিৎসা


সেলিম রেজা, স্টাফ রিপোর্টার
সেলিম রেজা, স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অর্থাভাবে থমকে গেছে সৈয়দপুরের আক্তারুলের চিকিৎসা

দুই দফা আর্থ্রোপ্লাস্টি (Arthroplasty) অস্ত্রোপচার করেও সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের ডাঙারবাড়ি এলাকার আক্তারুল ইসলাম (৩৫)। চিকিৎসায় পরিবারের সঞ্চয় শেষ হয়েছে, বিক্রি করতে হয়েছে গরু-ছাগল, নিতে হয়েছে ঋণ। এখন অর্থের অভাবে তার পরবর্তী চিকিৎসা থমকে গেছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়ায় সংসারে নেমে এসেছে চরম সংকট। অভাবের কারণে নবম শ্রেণিপড়ুয়া ছেলেকেও পড়াশোনা ছেড়ে কাজে নামতে হয়েছে।

আক্তারুল ইসলাম ডাঙারবাড়ি এলাকার মৃত বাবু মামুদের ছেলে। দুই সন্তানের জনক আক্তারুল জীবনের বেশির ভাগ সময় ইটভাটায় কঠোর পরিশ্রম করে সংসার চালিয়েছেন। নিজের উপার্জনে পরিবারের খরচ ও সন্তানদের লেখাপড়া চালানোর পাশাপাশি সামান্য কিছু অর্থ সঞ্চয় করতেন। সেই সঞ্চয়ের টাকা দিয়ে গরু-ছাগলও কিনেছিলেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, অসুস্থ হওয়ার পর বদলে যায় তাদের জীবন। চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে একে একে গরু-ছাগল বিক্রি করতে হয়েছে। শেষ হয়েছে জমানো অর্থও। এরপর বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে চিকিৎসা চালানোর চেষ্টা করেছে পরিবারটি।

পারিবারিক সূত্রের দাবি, দুই দফা অস্ত্রোপচারসহ চিকিৎসার পেছনে এ পর্যন্ত ছয় লাখ টাকার বেশি ব্যয় হয়েছে। এত টাকা খরচের পরও আক্তারুল পুরোপুরি সুস্থ হতে পারেননি। শারীরিক সমস্যার কারণে বর্তমানে স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারছেন না তিনি।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, উন্নত চিকিৎসা চালিয়ে যেতে আরও প্রায় ছয় থেকে সাত লাখ টাকা প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু আগের চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে গিয়ে পরিবারটি ইতোমধ্যে আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ফলে এত বড় অঙ্কের অর্থ সংগ্রহ করা তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।

একসময় যে মানুষটি ইটভাটায় শ্রম দিয়ে পুরো পরিবারের দায়িত্ব বহন করতেন, এখন তার নিজের চিকিৎসার খরচ জোগাতেই অন্যের সহযোগিতার প্রয়োজন হচ্ছে। আক্তারুল কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলায় সংসারের দায়িত্ব এসে পড়েছে স্ত্রী লিপি আক্তারের ওপর।

পরিবারের দাবি, লিপি আক্তার বর্তমানে একটি প্রতিষ্ঠানে মাসে মাত্র ছয় হাজার টাকা বেতনে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করছেন। এই আয় দিয়ে পরিবারের দৈনন্দিন খরচ মেটাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে তাকে। স্বামীর চিকিৎসার ব্যয় বহন করা তার পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

লিপি আক্তার বলেন, “দিনরাত খেটেও মাস শেষে যে বেতন পাই, তা দিয়ে কিছুই হয় না। স্বামীর চিকিৎসা কীভাবে করাব আর সংসারই বা কীভাবে চালাব—ভেবে পাচ্ছি না।”

পরিবারটির আর্থিক সংকটের প্রভাব পড়েছে সন্তানদের পড়াশোনাতেও। আক্তারুলের ছেলে লিপন নবম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছিল। কিন্তু বাবার অসুস্থতা এবং সংসারের অভাবের কারণে পড়াশোনা ছেড়ে তাকে কাজে যুক্ত হতে হয়েছে বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মানিক হোসেন বলেন, “আক্তারুল অত্যন্ত অসচ্ছল। তার সুচিকিৎসার জন্য সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা উচিত।”

স্থানীয় ব্যবসায়ী মনোয়ার মিয়া বলেন, “সরকারের পক্ষ থেকে যদি আক্তারুলের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হতো, তাহলে পরিবারটি সংকট কাটিয়ে উঠতে পারত। তার সন্তানটিও আবার বিদ্যালয়ে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পেত।”

আক্তারুলের পরিবার এখন তার চিকিৎসার জন্য সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছে। প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা হলে উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে আক্তারুল আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন—এমন আশায় দিন কাটছে পরিবারের সদস্যদের।

সহায়তা পাঠানোর জন্য পরিবারের দেওয়া নগদ (Personal) নম্বর: 0198586303

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


অর্থাভাবে থমকে গেছে সৈয়দপুরের আক্তারুলের চিকিৎসা

প্রকাশের তারিখ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

দুই দফা আর্থ্রোপ্লাস্টি (Arthroplasty) অস্ত্রোপচার করেও সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের ডাঙারবাড়ি এলাকার আক্তারুল ইসলাম (৩৫)। চিকিৎসায় পরিবারের সঞ্চয় শেষ হয়েছে, বিক্রি করতে হয়েছে গরু-ছাগল, নিতে হয়েছে ঋণ। এখন অর্থের অভাবে তার পরবর্তী চিকিৎসা থমকে গেছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়ায় সংসারে নেমে এসেছে চরম সংকট। অভাবের কারণে নবম শ্রেণিপড়ুয়া ছেলেকেও পড়াশোনা ছেড়ে কাজে নামতে হয়েছে।

আক্তারুল ইসলাম ডাঙারবাড়ি এলাকার মৃত বাবু মামুদের ছেলে। দুই সন্তানের জনক আক্তারুল জীবনের বেশির ভাগ সময় ইটভাটায় কঠোর পরিশ্রম করে সংসার চালিয়েছেন। নিজের উপার্জনে পরিবারের খরচ ও সন্তানদের লেখাপড়া চালানোর পাশাপাশি সামান্য কিছু অর্থ সঞ্চয় করতেন। সেই সঞ্চয়ের টাকা দিয়ে গরু-ছাগলও কিনেছিলেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, অসুস্থ হওয়ার পর বদলে যায় তাদের জীবন। চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে একে একে গরু-ছাগল বিক্রি করতে হয়েছে। শেষ হয়েছে জমানো অর্থও। এরপর বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে চিকিৎসা চালানোর চেষ্টা করেছে পরিবারটি।

পারিবারিক সূত্রের দাবি, দুই দফা অস্ত্রোপচারসহ চিকিৎসার পেছনে এ পর্যন্ত ছয় লাখ টাকার বেশি ব্যয় হয়েছে। এত টাকা খরচের পরও আক্তারুল পুরোপুরি সুস্থ হতে পারেননি। শারীরিক সমস্যার কারণে বর্তমানে স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারছেন না তিনি।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, উন্নত চিকিৎসা চালিয়ে যেতে আরও প্রায় ছয় থেকে সাত লাখ টাকা প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু আগের চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে গিয়ে পরিবারটি ইতোমধ্যে আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ফলে এত বড় অঙ্কের অর্থ সংগ্রহ করা তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।

একসময় যে মানুষটি ইটভাটায় শ্রম দিয়ে পুরো পরিবারের দায়িত্ব বহন করতেন, এখন তার নিজের চিকিৎসার খরচ জোগাতেই অন্যের সহযোগিতার প্রয়োজন হচ্ছে। আক্তারুল কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলায় সংসারের দায়িত্ব এসে পড়েছে স্ত্রী লিপি আক্তারের ওপর।

পরিবারের দাবি, লিপি আক্তার বর্তমানে একটি প্রতিষ্ঠানে মাসে মাত্র ছয় হাজার টাকা বেতনে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করছেন। এই আয় দিয়ে পরিবারের দৈনন্দিন খরচ মেটাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে তাকে। স্বামীর চিকিৎসার ব্যয় বহন করা তার পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

লিপি আক্তার বলেন, “দিনরাত খেটেও মাস শেষে যে বেতন পাই, তা দিয়ে কিছুই হয় না। স্বামীর চিকিৎসা কীভাবে করাব আর সংসারই বা কীভাবে চালাব—ভেবে পাচ্ছি না।”

পরিবারটির আর্থিক সংকটের প্রভাব পড়েছে সন্তানদের পড়াশোনাতেও। আক্তারুলের ছেলে লিপন নবম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছিল। কিন্তু বাবার অসুস্থতা এবং সংসারের অভাবের কারণে পড়াশোনা ছেড়ে তাকে কাজে যুক্ত হতে হয়েছে বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মানিক হোসেন বলেন, “আক্তারুল অত্যন্ত অসচ্ছল। তার সুচিকিৎসার জন্য সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা উচিত।”

স্থানীয় ব্যবসায়ী মনোয়ার মিয়া বলেন, “সরকারের পক্ষ থেকে যদি আক্তারুলের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হতো, তাহলে পরিবারটি সংকট কাটিয়ে উঠতে পারত। তার সন্তানটিও আবার বিদ্যালয়ে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পেত।”

আক্তারুলের পরিবার এখন তার চিকিৎসার জন্য সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছে। প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা হলে উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে আক্তারুল আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন—এমন আশায় দিন কাটছে পরিবারের সদস্যদের।

সহায়তা পাঠানোর জন্য পরিবারের দেওয়া নগদ (Personal) নম্বর: 0198586303


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ