সিলেট নগরের আখালিয়ার টিলারগাঁও এলাকার হাড়িয়া টিল্লা। সরকারি বন্দোবস্তের প্রমাণ নেই, অথচ বছরের পর বছর সেখানে গড়ে উঠেছে বসতি, তৈরি হয়েছে শতাধিক প্লট, উঠেছে ঘরবাড়ি। ভূমিহীন মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পরিবারের পুনর্বাসনের কথা বলে প্রায় দেড় দশক আগে শুরু হওয়া এই কার্যক্রমকে ঘিরে এখন সামনে আসছে দখল, প্লট বাণিজ্য ও নির্বিচারে টিলা কাটার নানা অভিযোগ। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে এর সঙ্গে যোগ হয়েছে চাঁদাবাজি, মাদক কেনাবেচা ও সেবনসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগও। কিন্তু অনুসন্ধানে পাওয়া সংশ্লিষ্ট নথিপত্র বলছে, যে জমিকে ঘিরে এত আয়োজন, সেই জমি কোনো ব্যক্তি কিংবা সংশ্লিষ্ট কোনো সমবায় সমিতির নামে স্থায়ী বা অস্থায়ী বন্দোবস্ত দেওয়ার প্রমাণ নেই। এখানেই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—বন্দোবস্ত নেই, তাহলে কার অনুমতিতে টিলা কেটে প্লট বানানো হলো, বসতি গড়ে উঠল এবং বছরের পর বছর জায়গা দেওয়ার নামে অর্থ লেনদেন চলল?
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১১ সালের দিকে হাড়িয়া টিল্লার জমিকে ঘিরে সংগঠিত কার্যক্রম শুরু হয়। স্থানীয় সূত্রের দাবি, ভূমিহীন ও বাস্তুচ্যুত মুক্তিযোদ্ধাদের পুনর্বাসনের বিষয়টি সামনে রেখে ‘ভাটি-বাংলা মুক্তিযোদ্ধা সমবায় সমিতি’ নামে একটি সংগঠনের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে টিলার পূর্ব ও উত্তর অংশে কার্যক্রম শুরু করা হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এর আগে ওই টিলায় উল্লেখযোগ্য বসতি ছিল না। প্রথম দিকে চার-পাঁচটি ঘর নির্মাণের পর ধীরে ধীরে সেখানে আরও ঘরবাড়ি গড়ে ওঠে। একই সময়ে জমিটি মুক্তিযোদ্ধাদের পুনর্বাসনের জন্য বন্দোবস্ত পেতে জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করা হয়। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, আবেদন নিষ্পত্তি হওয়ার আগেই টিলার বিভিন্ন অংশ ও ঢাল কেটে ঘর নির্মাণ শুরু হয়ে যায়।
নথিপত্র ঘেঁটে দেখা যায়, সিলেট মহানগর রাজস্ব সার্কেলের অন্তর্গত আখালিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের আওতাধীন কুমারগাঁও মৌজার এসএ ২১৪০, ২১৪৫ ও ২১৫০ দাগের টিলা শ্রেণির সাত একর জমিকে খাস খতিয়ানভুক্ত উল্লেখ করে ২০১২ সালের ২৪ মে ‘ভাটি-বাংলা মুক্তিযোদ্ধা সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর সভাপতি আব্দুল মালিকসহ সংশ্লিষ্টরা সিলেটের জেলা প্রশাসকের কাছে বন্দোবস্তের আবেদন করেন। এর কয়েক বছর পর ২০১৬ সালের ১৩ নভেম্বর ‘সিলেট জেলা গেজেটধারী মুক্তিযোদ্ধা সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর সভাপতি হিসেবে মুক্তিযোদ্ধা মির্জা জামাল পাশা ২১৪০ নম্বর দাগের ৬ দশমিক ৬০ একর টিলা শ্রেণির জমিকে খাস খতিয়ানভুক্ত উল্লেখ করে স্থায়ী বন্দোবস্ত চেয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে আরেকটি আবেদন করেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, কোনো আবেদনেই ওই জমি সংশ্লিষ্ট পক্ষের নামে স্থায়ী কিংবা অস্থায়ী বন্দোবস্ত দেওয়ার প্রমাণ মেলেনি। ২০২০ সালে সিলেট মহানগর পুলিশের একটি অনুসন্ধান প্রতিবেদনেও জেলা প্রশাসন ওই জমি কোনো সমিতির নামে নিবন্ধন বা হস্তান্তর করেনি বলে উল্লেখ করা হয়েছিল—এমন তথ্য পূর্বে প্রকাশিত প্রতিবেদনেও পাওয়া যায়।
এর মধ্যেই টিলার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন অধ্যায় শুরু হয়। স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, ভাটি-বাংলা মুক্তিযোদ্ধা সমবায় সমিতির কার্যক্রমের একপর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সিলেট জেলা ইউনিটের সাবেক কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা মির্জা জামাল পাশা প্রভাব বিস্তার করে টিলাটির নিয়ন্ত্রণ নেন। পরে হাড়িয়া টিল্লাকে ‘মুক্তিযোদ্ধা পল্লী’ নামে পরিচিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং ‘সিলেট জেলা গেজেটধারী যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামে সেখানে সাইনবোর্ড ও কার্যালয় স্থাপন করা হয় বলে স্থানীয়দের দাবি। এরপর আবাসন প্রকল্পের কথা বলে টিলায় জরিপ চালিয়ে শতাধিক প্লট তৈরির অভিযোগ ওঠে। সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার মুক্তিযোদ্ধা, তাঁদের পরিবারের সদস্য ও বাস্তুচ্যুত মানুষের কাছে প্লট দেওয়ার কথা বলে অর্থ নেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, কোনো কোনো প্লটের বিপরীতে লাখ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে এবং মোট লেনদেন কয়েক কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। তবে কতজনের কাছ থেকে কত টাকা নেওয়া হয়েছিল কিংবা মোট লেনদেনের প্রকৃত পরিমাণ কত, তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব পাওয়া যায়নি। ফলে কোটি টাকার প্লট বাণিজ্যের অভিযোগটির আর্থিক পরিমাণ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
মির্জা জামাল পাশার বিরুদ্ধে সরকারি খাস জমি দখল ও প্লট বাণিজ্যের অভিযোগ নতুন নয়। ২০২০ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর, পুলিশসহ বিভিন্ন দপ্তরে একাধিক অভিযোগ দেওয়ার তথ্যও পূর্বে প্রকাশিত হয়েছে। ওই সময়কার একটি পুলিশি অনুসন্ধান প্রতিবেদনে সরকারি খাস টিলায় অপরিকল্পিতভাবে ঘর নির্মাণ এবং ভূমিধসের ঝুঁকির কথাও উঠে এসেছিল। মির্জা জামাল পাশা দীর্ঘ সময় হাড়িয়া টিল্লার নিয়ন্ত্রণে ছিলেন বলে স্থানীয়দের দাবি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি সেই নিয়ন্ত্রণ হারান বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। পরে চলতি বছরের ৭ এপ্রিল তাঁর মৃত্যু হয়।
তবে একজনের নিয়ন্ত্রণ শেষ হলেও হাড়িয়া টিল্লার দখল ও প্লট বাণিজ্যের অভিযোগ শেষ হয়নি। বরং স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর টিলাকে কেন্দ্র করে নতুন একটি সংঘবদ্ধ গোষ্ঠী সক্রিয় হয়ে ওঠে। ওই গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে টিলার বিভিন্ন অংশ নিয়ন্ত্রণ, নতুন করে জায়গা দখল, প্লট বাণিজ্য ও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের একটি অংশ মাদক কেনাবেচা ও সেবনের অভিযোগও করেছেন। তাদের ভাষ্য, টিলা এলাকায় অপরিচিত ও মাদকসেবীদের আনাগোনা বেড়েছে এবং আশপাশে চুরির ঘটনাও ঘটছে। তবে এসব অপরাধের সঙ্গে টিলার বর্তমান নিয়ন্ত্রণে থাকা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সরাসরি সম্পৃক্ততার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে এসব অভিযোগও তদন্তসাপেক্ষ।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে নতুন গোষ্ঠীটি নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে। এ কারণে টিলায় বসবাসকারী অনেকে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে ভয় পান। সম্প্রতি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতাকে সভাপতি করে টিলা পরিচালনার জন্য একটি কমিটি গঠনের বিষয়টিও স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনায় এসেছে। তবে ওই কমিটি কার অনুমোদনে গঠিত, জমির ওপর তাদের কোনো আইনগত কর্তৃত্ব আছে কি না কিংবা সরকারি খাস জমি পরিচালনার ক্ষমতা তাদের কে দিয়েছে—এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর পাওয়া যায়নি।
দখল ও প্লট বাণিজ্যের পাশাপাশি হাড়িয়া টিল্লাকে ঘিরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর একটি পরিবেশ ধ্বংস। টিলা কেটে ঘরবাড়ি নির্মাণের অভিযোগের পর ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে পরিবেশ অধিদপ্তর মির্জা জামাল পাশাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছিল বলে প্রকাশিত তথ্যে পাওয়া যায়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, সরেজমিনে টিলা কাটার সত্যতাও পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু সেই নোটিশের পর কী চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে টিলা কাটা পুরোপুরি বন্ধ করা হয়েছিল কি না, তার সুস্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। সিলেট নগর ও আশপাশে টিলা কেটে আবাসন ও প্লট তৈরির ঘটনা দীর্ঘদিন ধরেই পরিবেশগত উদ্বেগের কারণ হয়ে আছে। অন্য এলাকাতেও টিলা কেটে প্লট ও আবাসন তৈরির একাধিক ঘটনা সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে।
হাড়িয়া টিল্লার জমির রেকর্ড অনুসন্ধানেও পাওয়া যায় জটিল চিত্র। আখালিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সংশ্লিষ্ট নথির তথ্য অনুযায়ী, কুমারগাঁও মৌজার ১০১৫ নম্বর খতিয়ানের ২১০৭ নম্বর দাগে ৫ দশমিক ৫৩ একর টিলা শ্রেণির জমি আমিনা খাতুন, স্বামী মস্তকীন আলীর নামে রেকর্ডভুক্ত ছিল। পরবর্তী সময়ে বিবিধ মোকদ্দমা নম্বর ১৮০/৯৮-এর মাধ্যমে ২১৪০ নম্বর দাগের ৬ দশমিক ৬০ একর টিলা শ্রেণির জমি ডলিয়া চা-বাগানের সঙ্গে সংযুক্ত হয়। সংশ্লিষ্ট নথিতে ২১৪০ নম্বর দাগসহ অন্যান্য দাগ মিলিয়ে মোট ১২৩ দশমিক ০৯ একর ভূমিকে ডলিয়া চা-বাগানের জমি হিসেবে উল্লেখ এবং এর বিপরীতে নিয়মিত ইজারা ফি আদায়ের তথ্য রয়েছে। আবার সর্বশেষ মাঠ জরিপের নথিতে ২১৪০ নম্বর দাগের ৬ দশমিক ৬০ একর জমি বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে জেলা প্রশাসক, সিলেটের নামে সরকারি খাস খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত দেখানো হয়েছে। অর্থাৎ জমিটির রেকর্ডে তিনটি পর্যায় পাওয়া যাচ্ছে—প্রথমে ব্যক্তি মালিকানা, পরে চা-বাগানের সঙ্গে অন্তর্ভুক্তি এবং সর্বশেষ সরকারি খাস খতিয়ান।
আর এখানেই হাড়িয়া টিল্লার দখলকাণ্ডের সবচেয়ে বড় অসঙ্গতি সামনে আসে। একদিকে বন্দোবস্তের জন্য একাধিক আবেদন, অন্যদিকে সেই আবেদন অনুমোদনের আগেই বসতি ও প্লট তৈরির অভিযোগ; একসময় ব্যক্তির নামে রেকর্ড, পরে চা-বাগানের অন্তর্ভুক্তি, সর্বশেষ সরকারি খাস খতিয়ান—এর মধ্যেই বছরের পর বছর বদলেছে টিলার নিয়ন্ত্রক। কিন্তু জমির আইনগত বন্দোবস্তের প্রশ্নটি থেকে গেছে অমীমাংসিত। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে টিলায় শতাধিক পরিবার বসবাস করছে। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মানুষ সেখানে ঘরবাড়ি নির্মাণ করেছেন। এসব স্থাপনার কতটি বৈধ, কার অনুমতিতে নির্মিত এবং কার কাছ থেকে জায়গা নিয়ে বসতি স্থাপন করা হয়েছে—এসব প্রশ্নেরও পূর্ণাঙ্গ উত্তর মেলেনি।
সব মিলিয়ে হাড়িয়া টিল্লার নথি ও স্থানীয়দের অভিযোগ পাশাপাশি রাখলে কয়েকটি প্রশ্ন সামনে আসে—সরকারি বন্দোবস্ত না থাকলে টিলার জমি প্লট আকারে ভাগ করার ক্ষমতা কার ছিল? প্লটের বিপরীতে অর্থ নেওয়া হয়ে থাকলে সেই অর্থ কার কাছে গেছে? শতাধিক স্থাপনা নির্মাণের সময় ভূমি প্রশাসনের ভূমিকা কী ছিল? পরিবেশ অধিদপ্তর টিলা কাটার সত্যতা পাওয়ার পরও কেন টিলার প্রাকৃতিক অবয়ব রক্ষা করা যায়নি? আর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে যদি টিলার নিয়ন্ত্রকও বদলে গিয়ে থাকে, তাহলে সরকারি জমির প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ এতদিন কার হাতে ছিল?
স্থানীয়দের দাবি, হাড়িয়া টিল্লাকে ঘিরে শুধু বিচ্ছিন্ন উচ্ছেদ অভিযান নয়, জমির রেকর্ড, বন্দোবস্তের আবেদন, কথিত প্লট বরাদ্দ, অর্থ লেনদেন, টিলা কাটা এবং বর্তমান দখল পরিস্থিতি—সবকিছু একসঙ্গে নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রয়োজন। ভূমি প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত তদন্তেই বেরিয়ে আসতে পারে কারা কীভাবে সরকারি জমিতে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে এবং প্লট দেওয়ার নামে কোনো অবৈধ অর্থ লেনদেন হয়েছে কি না। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সরকারি জমি দখলমুক্ত করা, পরিবেশবিধি লঙ্ঘন করে টিলা কাটা বন্ধ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে বর্তমান টিলা পরিচালনাকারী পক্ষ, সংশ্লিষ্ট সমবায় সমিতি, জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের হালনাগাদ বক্তব্য পাওয়া জরুরি। কারণ অভিযোগ যত গুরুতরই হোক, দখল, চাঁদাবাজি, মাদক সংশ্লিষ্টতা কিংবা অবৈধ প্লট বাণিজ্যে কারও দায় চূড়ান্তভাবে নির্ধারণের এখতিয়ার তদন্তকারী সংস্থা ও আদালতের।

বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সিলেট নগরের আখালিয়ার টিলারগাঁও এলাকার হাড়িয়া টিল্লা। সরকারি বন্দোবস্তের প্রমাণ নেই, অথচ বছরের পর বছর সেখানে গড়ে উঠেছে বসতি, তৈরি হয়েছে শতাধিক প্লট, উঠেছে ঘরবাড়ি। ভূমিহীন মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পরিবারের পুনর্বাসনের কথা বলে প্রায় দেড় দশক আগে শুরু হওয়া এই কার্যক্রমকে ঘিরে এখন সামনে আসছে দখল, প্লট বাণিজ্য ও নির্বিচারে টিলা কাটার নানা অভিযোগ। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে এর সঙ্গে যোগ হয়েছে চাঁদাবাজি, মাদক কেনাবেচা ও সেবনসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগও। কিন্তু অনুসন্ধানে পাওয়া সংশ্লিষ্ট নথিপত্র বলছে, যে জমিকে ঘিরে এত আয়োজন, সেই জমি কোনো ব্যক্তি কিংবা সংশ্লিষ্ট কোনো সমবায় সমিতির নামে স্থায়ী বা অস্থায়ী বন্দোবস্ত দেওয়ার প্রমাণ নেই। এখানেই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—বন্দোবস্ত নেই, তাহলে কার অনুমতিতে টিলা কেটে প্লট বানানো হলো, বসতি গড়ে উঠল এবং বছরের পর বছর জায়গা দেওয়ার নামে অর্থ লেনদেন চলল?
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১১ সালের দিকে হাড়িয়া টিল্লার জমিকে ঘিরে সংগঠিত কার্যক্রম শুরু হয়। স্থানীয় সূত্রের দাবি, ভূমিহীন ও বাস্তুচ্যুত মুক্তিযোদ্ধাদের পুনর্বাসনের বিষয়টি সামনে রেখে ‘ভাটি-বাংলা মুক্তিযোদ্ধা সমবায় সমিতি’ নামে একটি সংগঠনের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে টিলার পূর্ব ও উত্তর অংশে কার্যক্রম শুরু করা হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এর আগে ওই টিলায় উল্লেখযোগ্য বসতি ছিল না। প্রথম দিকে চার-পাঁচটি ঘর নির্মাণের পর ধীরে ধীরে সেখানে আরও ঘরবাড়ি গড়ে ওঠে। একই সময়ে জমিটি মুক্তিযোদ্ধাদের পুনর্বাসনের জন্য বন্দোবস্ত পেতে জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করা হয়। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, আবেদন নিষ্পত্তি হওয়ার আগেই টিলার বিভিন্ন অংশ ও ঢাল কেটে ঘর নির্মাণ শুরু হয়ে যায়।
নথিপত্র ঘেঁটে দেখা যায়, সিলেট মহানগর রাজস্ব সার্কেলের অন্তর্গত আখালিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের আওতাধীন কুমারগাঁও মৌজার এসএ ২১৪০, ২১৪৫ ও ২১৫০ দাগের টিলা শ্রেণির সাত একর জমিকে খাস খতিয়ানভুক্ত উল্লেখ করে ২০১২ সালের ২৪ মে ‘ভাটি-বাংলা মুক্তিযোদ্ধা সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর সভাপতি আব্দুল মালিকসহ সংশ্লিষ্টরা সিলেটের জেলা প্রশাসকের কাছে বন্দোবস্তের আবেদন করেন। এর কয়েক বছর পর ২০১৬ সালের ১৩ নভেম্বর ‘সিলেট জেলা গেজেটধারী মুক্তিযোদ্ধা সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর সভাপতি হিসেবে মুক্তিযোদ্ধা মির্জা জামাল পাশা ২১৪০ নম্বর দাগের ৬ দশমিক ৬০ একর টিলা শ্রেণির জমিকে খাস খতিয়ানভুক্ত উল্লেখ করে স্থায়ী বন্দোবস্ত চেয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে আরেকটি আবেদন করেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, কোনো আবেদনেই ওই জমি সংশ্লিষ্ট পক্ষের নামে স্থায়ী কিংবা অস্থায়ী বন্দোবস্ত দেওয়ার প্রমাণ মেলেনি। ২০২০ সালে সিলেট মহানগর পুলিশের একটি অনুসন্ধান প্রতিবেদনেও জেলা প্রশাসন ওই জমি কোনো সমিতির নামে নিবন্ধন বা হস্তান্তর করেনি বলে উল্লেখ করা হয়েছিল—এমন তথ্য পূর্বে প্রকাশিত প্রতিবেদনেও পাওয়া যায়।
এর মধ্যেই টিলার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন অধ্যায় শুরু হয়। স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, ভাটি-বাংলা মুক্তিযোদ্ধা সমবায় সমিতির কার্যক্রমের একপর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সিলেট জেলা ইউনিটের সাবেক কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা মির্জা জামাল পাশা প্রভাব বিস্তার করে টিলাটির নিয়ন্ত্রণ নেন। পরে হাড়িয়া টিল্লাকে ‘মুক্তিযোদ্ধা পল্লী’ নামে পরিচিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং ‘সিলেট জেলা গেজেটধারী যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামে সেখানে সাইনবোর্ড ও কার্যালয় স্থাপন করা হয় বলে স্থানীয়দের দাবি। এরপর আবাসন প্রকল্পের কথা বলে টিলায় জরিপ চালিয়ে শতাধিক প্লট তৈরির অভিযোগ ওঠে। সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার মুক্তিযোদ্ধা, তাঁদের পরিবারের সদস্য ও বাস্তুচ্যুত মানুষের কাছে প্লট দেওয়ার কথা বলে অর্থ নেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, কোনো কোনো প্লটের বিপরীতে লাখ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে এবং মোট লেনদেন কয়েক কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। তবে কতজনের কাছ থেকে কত টাকা নেওয়া হয়েছিল কিংবা মোট লেনদেনের প্রকৃত পরিমাণ কত, তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব পাওয়া যায়নি। ফলে কোটি টাকার প্লট বাণিজ্যের অভিযোগটির আর্থিক পরিমাণ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
মির্জা জামাল পাশার বিরুদ্ধে সরকারি খাস জমি দখল ও প্লট বাণিজ্যের অভিযোগ নতুন নয়। ২০২০ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর, পুলিশসহ বিভিন্ন দপ্তরে একাধিক অভিযোগ দেওয়ার তথ্যও পূর্বে প্রকাশিত হয়েছে। ওই সময়কার একটি পুলিশি অনুসন্ধান প্রতিবেদনে সরকারি খাস টিলায় অপরিকল্পিতভাবে ঘর নির্মাণ এবং ভূমিধসের ঝুঁকির কথাও উঠে এসেছিল। মির্জা জামাল পাশা দীর্ঘ সময় হাড়িয়া টিল্লার নিয়ন্ত্রণে ছিলেন বলে স্থানীয়দের দাবি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি সেই নিয়ন্ত্রণ হারান বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। পরে চলতি বছরের ৭ এপ্রিল তাঁর মৃত্যু হয়।
তবে একজনের নিয়ন্ত্রণ শেষ হলেও হাড়িয়া টিল্লার দখল ও প্লট বাণিজ্যের অভিযোগ শেষ হয়নি। বরং স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর টিলাকে কেন্দ্র করে নতুন একটি সংঘবদ্ধ গোষ্ঠী সক্রিয় হয়ে ওঠে। ওই গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে টিলার বিভিন্ন অংশ নিয়ন্ত্রণ, নতুন করে জায়গা দখল, প্লট বাণিজ্য ও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের একটি অংশ মাদক কেনাবেচা ও সেবনের অভিযোগও করেছেন। তাদের ভাষ্য, টিলা এলাকায় অপরিচিত ও মাদকসেবীদের আনাগোনা বেড়েছে এবং আশপাশে চুরির ঘটনাও ঘটছে। তবে এসব অপরাধের সঙ্গে টিলার বর্তমান নিয়ন্ত্রণে থাকা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সরাসরি সম্পৃক্ততার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে এসব অভিযোগও তদন্তসাপেক্ষ।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে নতুন গোষ্ঠীটি নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে। এ কারণে টিলায় বসবাসকারী অনেকে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে ভয় পান। সম্প্রতি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতাকে সভাপতি করে টিলা পরিচালনার জন্য একটি কমিটি গঠনের বিষয়টিও স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনায় এসেছে। তবে ওই কমিটি কার অনুমোদনে গঠিত, জমির ওপর তাদের কোনো আইনগত কর্তৃত্ব আছে কি না কিংবা সরকারি খাস জমি পরিচালনার ক্ষমতা তাদের কে দিয়েছে—এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর পাওয়া যায়নি।
দখল ও প্লট বাণিজ্যের পাশাপাশি হাড়িয়া টিল্লাকে ঘিরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর একটি পরিবেশ ধ্বংস। টিলা কেটে ঘরবাড়ি নির্মাণের অভিযোগের পর ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে পরিবেশ অধিদপ্তর মির্জা জামাল পাশাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছিল বলে প্রকাশিত তথ্যে পাওয়া যায়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, সরেজমিনে টিলা কাটার সত্যতাও পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু সেই নোটিশের পর কী চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে টিলা কাটা পুরোপুরি বন্ধ করা হয়েছিল কি না, তার সুস্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। সিলেট নগর ও আশপাশে টিলা কেটে আবাসন ও প্লট তৈরির ঘটনা দীর্ঘদিন ধরেই পরিবেশগত উদ্বেগের কারণ হয়ে আছে। অন্য এলাকাতেও টিলা কেটে প্লট ও আবাসন তৈরির একাধিক ঘটনা সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে।
হাড়িয়া টিল্লার জমির রেকর্ড অনুসন্ধানেও পাওয়া যায় জটিল চিত্র। আখালিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সংশ্লিষ্ট নথির তথ্য অনুযায়ী, কুমারগাঁও মৌজার ১০১৫ নম্বর খতিয়ানের ২১০৭ নম্বর দাগে ৫ দশমিক ৫৩ একর টিলা শ্রেণির জমি আমিনা খাতুন, স্বামী মস্তকীন আলীর নামে রেকর্ডভুক্ত ছিল। পরবর্তী সময়ে বিবিধ মোকদ্দমা নম্বর ১৮০/৯৮-এর মাধ্যমে ২১৪০ নম্বর দাগের ৬ দশমিক ৬০ একর টিলা শ্রেণির জমি ডলিয়া চা-বাগানের সঙ্গে সংযুক্ত হয়। সংশ্লিষ্ট নথিতে ২১৪০ নম্বর দাগসহ অন্যান্য দাগ মিলিয়ে মোট ১২৩ দশমিক ০৯ একর ভূমিকে ডলিয়া চা-বাগানের জমি হিসেবে উল্লেখ এবং এর বিপরীতে নিয়মিত ইজারা ফি আদায়ের তথ্য রয়েছে। আবার সর্বশেষ মাঠ জরিপের নথিতে ২১৪০ নম্বর দাগের ৬ দশমিক ৬০ একর জমি বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে জেলা প্রশাসক, সিলেটের নামে সরকারি খাস খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত দেখানো হয়েছে। অর্থাৎ জমিটির রেকর্ডে তিনটি পর্যায় পাওয়া যাচ্ছে—প্রথমে ব্যক্তি মালিকানা, পরে চা-বাগানের সঙ্গে অন্তর্ভুক্তি এবং সর্বশেষ সরকারি খাস খতিয়ান।
আর এখানেই হাড়িয়া টিল্লার দখলকাণ্ডের সবচেয়ে বড় অসঙ্গতি সামনে আসে। একদিকে বন্দোবস্তের জন্য একাধিক আবেদন, অন্যদিকে সেই আবেদন অনুমোদনের আগেই বসতি ও প্লট তৈরির অভিযোগ; একসময় ব্যক্তির নামে রেকর্ড, পরে চা-বাগানের অন্তর্ভুক্তি, সর্বশেষ সরকারি খাস খতিয়ান—এর মধ্যেই বছরের পর বছর বদলেছে টিলার নিয়ন্ত্রক। কিন্তু জমির আইনগত বন্দোবস্তের প্রশ্নটি থেকে গেছে অমীমাংসিত। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে টিলায় শতাধিক পরিবার বসবাস করছে। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মানুষ সেখানে ঘরবাড়ি নির্মাণ করেছেন। এসব স্থাপনার কতটি বৈধ, কার অনুমতিতে নির্মিত এবং কার কাছ থেকে জায়গা নিয়ে বসতি স্থাপন করা হয়েছে—এসব প্রশ্নেরও পূর্ণাঙ্গ উত্তর মেলেনি।
সব মিলিয়ে হাড়িয়া টিল্লার নথি ও স্থানীয়দের অভিযোগ পাশাপাশি রাখলে কয়েকটি প্রশ্ন সামনে আসে—সরকারি বন্দোবস্ত না থাকলে টিলার জমি প্লট আকারে ভাগ করার ক্ষমতা কার ছিল? প্লটের বিপরীতে অর্থ নেওয়া হয়ে থাকলে সেই অর্থ কার কাছে গেছে? শতাধিক স্থাপনা নির্মাণের সময় ভূমি প্রশাসনের ভূমিকা কী ছিল? পরিবেশ অধিদপ্তর টিলা কাটার সত্যতা পাওয়ার পরও কেন টিলার প্রাকৃতিক অবয়ব রক্ষা করা যায়নি? আর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে যদি টিলার নিয়ন্ত্রকও বদলে গিয়ে থাকে, তাহলে সরকারি জমির প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ এতদিন কার হাতে ছিল?
স্থানীয়দের দাবি, হাড়িয়া টিল্লাকে ঘিরে শুধু বিচ্ছিন্ন উচ্ছেদ অভিযান নয়, জমির রেকর্ড, বন্দোবস্তের আবেদন, কথিত প্লট বরাদ্দ, অর্থ লেনদেন, টিলা কাটা এবং বর্তমান দখল পরিস্থিতি—সবকিছু একসঙ্গে নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রয়োজন। ভূমি প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত তদন্তেই বেরিয়ে আসতে পারে কারা কীভাবে সরকারি জমিতে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে এবং প্লট দেওয়ার নামে কোনো অবৈধ অর্থ লেনদেন হয়েছে কি না। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সরকারি জমি দখলমুক্ত করা, পরিবেশবিধি লঙ্ঘন করে টিলা কাটা বন্ধ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে বর্তমান টিলা পরিচালনাকারী পক্ষ, সংশ্লিষ্ট সমবায় সমিতি, জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের হালনাগাদ বক্তব্য পাওয়া জরুরি। কারণ অভিযোগ যত গুরুতরই হোক, দখল, চাঁদাবাজি, মাদক সংশ্লিষ্টতা কিংবা অবৈধ প্লট বাণিজ্যে কারও দায় চূড়ান্তভাবে নির্ধারণের এখতিয়ার তদন্তকারী সংস্থা ও আদালতের।

আপনার মতামত লিখুন