বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং আইএসডিবি গ্রুপের প্রেসিডেন্ট ড. মুহাম্মদ আল জাসের উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ তথ্য জানিয়েছেন।
চুক্তির আওতায় পাওয়া অর্থ চট্টগ্রামে অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন অপরিশোধিত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারির আধুনিকায়ন ও দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণে ব্যবহার করা হবে। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের নিজস্ব জ্বালানি তেল পরিশোধন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
বর্তমানে ইস্টার্ন রিফাইনারির বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের সক্ষমতা রয়েছে। দ্বিতীয় ইউনিট চালু হলে নতুন করে বছরে আরও ৩০ লাখ টন তেল পরিশোধনের সক্ষমতা যুক্ত হবে। এতে প্রতিষ্ঠানটির মোট বার্ষিক পরিশোধন সক্ষমতা বেড়ে প্রায় ৪৫ লাখ টনে পৌঁছাবে।
সরকারের প্রত্যাশা, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বিদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির প্রয়োজন কমবে। অপরিশোধিত তেল দেশে এনে পরিশোধনের সুযোগ বাড়ায় বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয় কমানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার প্রভাব মোকাবিলায়ও দেশের সক্ষমতা বাড়বে।
ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণের পরিকল্পনা নতুন নয়। ২০১০ সাল থেকেই দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু হলেও অর্থায়ন ও বাস্তবায়নসংক্রান্ত নানা জটিলতায় প্রকল্পটি বারবার পিছিয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে বিভিন্নভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা আলোর মুখ দেখেনি।
আইএসডিবির পরিচালনা পর্ষদ গত জুনে আজারবাইজানের বাকুতে অনুষ্ঠিত ৩৬৭তম সভায় ইস্টার্ন রিফাইনারির আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পে ১ বিলিয়ন ডলার অর্থায়নের অনুমোদন দেয়। এর আগে ৭ জুলাই সরকারের নন-কনসেশনাল লোনসংক্রান্ত স্থায়ী কমিটিও ঋণটি অনুমোদন করে।
আইএসডিবি প্রেসিডেন্ট ড. মুহাম্মদ আল জাসের ২ থেকে ৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সফর করছেন। তার নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ঢাকায় এসেছে। এই সফরের মধ্যেই বহুল প্রতীক্ষিত ঋণচুক্তিটি স্বাক্ষরিত হলো।
১৯৬৮ সালে চট্টগ্রামে ইস্টার্ন রিফাইনারি বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করে। কয়েক দশক ধরে এটিই দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় অপরিশোধিত তেল শোধনাগার হিসেবে কাজ করছে। নতুন ইউনিটটি বাস্তবায়িত হলে প্রতিষ্ঠানটির পরিশোধন সক্ষমতা বর্তমানের প্রায় তিন গুণ হবে।
দীর্ঘদিন আটকে থাকা ইআরএল-২ প্রকল্পে ১ বিলিয়ন ডলারের এই অর্থায়নকে দেশের জ্বালানি অবকাঠামো সম্প্রসারণের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সরকার আশা করছে, প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমার পাশাপাশি বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।

বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং আইএসডিবি গ্রুপের প্রেসিডেন্ট ড. মুহাম্মদ আল জাসের উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ তথ্য জানিয়েছেন।
চুক্তির আওতায় পাওয়া অর্থ চট্টগ্রামে অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন অপরিশোধিত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারির আধুনিকায়ন ও দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণে ব্যবহার করা হবে। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের নিজস্ব জ্বালানি তেল পরিশোধন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
বর্তমানে ইস্টার্ন রিফাইনারির বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের সক্ষমতা রয়েছে। দ্বিতীয় ইউনিট চালু হলে নতুন করে বছরে আরও ৩০ লাখ টন তেল পরিশোধনের সক্ষমতা যুক্ত হবে। এতে প্রতিষ্ঠানটির মোট বার্ষিক পরিশোধন সক্ষমতা বেড়ে প্রায় ৪৫ লাখ টনে পৌঁছাবে।
সরকারের প্রত্যাশা, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বিদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির প্রয়োজন কমবে। অপরিশোধিত তেল দেশে এনে পরিশোধনের সুযোগ বাড়ায় বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয় কমানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার প্রভাব মোকাবিলায়ও দেশের সক্ষমতা বাড়বে।
ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণের পরিকল্পনা নতুন নয়। ২০১০ সাল থেকেই দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু হলেও অর্থায়ন ও বাস্তবায়নসংক্রান্ত নানা জটিলতায় প্রকল্পটি বারবার পিছিয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে বিভিন্নভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা আলোর মুখ দেখেনি।
আইএসডিবির পরিচালনা পর্ষদ গত জুনে আজারবাইজানের বাকুতে অনুষ্ঠিত ৩৬৭তম সভায় ইস্টার্ন রিফাইনারির আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পে ১ বিলিয়ন ডলার অর্থায়নের অনুমোদন দেয়। এর আগে ৭ জুলাই সরকারের নন-কনসেশনাল লোনসংক্রান্ত স্থায়ী কমিটিও ঋণটি অনুমোদন করে।
আইএসডিবি প্রেসিডেন্ট ড. মুহাম্মদ আল জাসের ২ থেকে ৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সফর করছেন। তার নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ঢাকায় এসেছে। এই সফরের মধ্যেই বহুল প্রতীক্ষিত ঋণচুক্তিটি স্বাক্ষরিত হলো।
১৯৬৮ সালে চট্টগ্রামে ইস্টার্ন রিফাইনারি বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করে। কয়েক দশক ধরে এটিই দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় অপরিশোধিত তেল শোধনাগার হিসেবে কাজ করছে। নতুন ইউনিটটি বাস্তবায়িত হলে প্রতিষ্ঠানটির পরিশোধন সক্ষমতা বর্তমানের প্রায় তিন গুণ হবে।
দীর্ঘদিন আটকে থাকা ইআরএল-২ প্রকল্পে ১ বিলিয়ন ডলারের এই অর্থায়নকে দেশের জ্বালানি অবকাঠামো সম্প্রসারণের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সরকার আশা করছে, প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমার পাশাপাশি বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।

আপনার মতামত লিখুন