জাতীয়

সাংবাদিকতা যেন আর পিআরের হাতিয়ার না হয়: মুশফিকুল

প্রিন্ট
সাংবাদিকতা যেন আর পিআরের হাতিয়ার না হয়: মুশফিকুল
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী বলেছেন, স্বাধীনতার অর্থ কখনোই যা ইচ্ছা তাই বলা নয়। রাজনীতি হোক বা জনপরিসর, ভাষা ব্যবহারে সংযম ও সুবিবেচনার পরিচয় দেওয়া সবার দায়িত্ব।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাজধানীতে লেখক ড. মোবাশ্বের হাসানের একটি বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রদূত বলেন, "যে ভাষা আমরা নিজেদের পরিবারে ব্যবহার করি না, ড্রইংরুমে ব্যবহার করি না, সেই ভাষা কেন রাজনীতিতে ব্যবহার করব? ভাষা ও শব্দচয়নে আমাদের অবশ্যই সংযমী হতে হবে।"

তিনি বলেন, রাষ্ট্রের সংস্কারের পাশাপাশি মানুষের মানসিকতারও পরিবর্তন জরুরি। বর্তমানে রাজনীতির নামে যে ধরনের ভাষা ও আচরণ দেখা যাচ্ছে, তা উদ্বেগজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বাংলাদেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের কথা তুলে ধরে মুশফিকুল ফজল আনসারী বলেন, এ দেশের মানুষ বড়দের সম্মান করে, ছোটদের স্নেহ করে এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধকে গুরুত্ব দেয়। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক অঙ্গনে সেই সংস্কৃতির প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।

ড. মোবাশ্বের হাসানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সত্য প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে লেখকের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। কঠিন সময়েও তিনি সত্য তুলে ধরতে পিছপা হননি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায়, "সত্য যে কঠিন, কঠিনেরে ভালোবাসিলাম"। সেই আদর্শই তিনি ধারণ করেছেন।

বিগত ১৭ বছরের সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত বলেন, দীর্ঘ সময় দেশে স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিসর সংকুচিত ছিল। ভয়, চাপ ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে অনেক সাংবাদিক স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেননি। এমনকি অনেক গণমাধ্যম সংবাদ পরিবেশনের পরিবর্তে জনসংযোগ প্রতিষ্ঠানের মতো আচরণ করেছে।

তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে ড. মোবাশ্বেরের ধারাবাহিক লেখাগুলো দেশের বাস্তবতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ইংরেজি ভাষায় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ায় এসব লেখা যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট, জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহলে তথ্যসূত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।

মুশফিকুল ফজল আনসারী আরও বলেন, একসময় দেশের অনেক গণমাধ্যম তাদের নামও প্রকাশ করত না। তবে লেখনীর শক্তির কারণেই পরে তাকে "সাংবাদিকতার নতুন ধারার প্রতীক" হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, স্বাধীন ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। যে সংগ্রামের মাধ্যমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পথ সুগম হয়েছে, সেই অর্জনকে সুরক্ষিত রাখতে সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে। তার বিশ্বাস, বাংলাদেশ এমন একটি পরিবেশের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে, যেখানে মানুষ নির্ভয়ে ও স্বাধীনভাবে সত্য কথা বলতে ও লিখতে পারবে।



এস.আর 

সম্পর্কিত সংবাদ