চোখের চিকিৎসা করাতে স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে বগুড়া থেকে ঢাকায় এসেছিলেন প্রধান শিক্ষক রনজিলা পারভীন। চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে আবারও বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সামনে দাঁড়ানোর কথা ছিল তার। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই রাজধানীর সংসদ ভবন এলাকায় ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে থেমে গেল তার জীবন।
শনিবার (২৯ আগস্ট) ভোরে স্বামী আব্দুল মতিনের সঙ্গে ঢাকার গাবতলীতে বাস থেকে নামেন রনজিলা। সেখান থেকে রিকশায় ফার্মগেটের খামারবাড়ি এলাকার ইস্পাহানী ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা হন তারা।
পথে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি রনজিলার হাতে থাকা ভ্যানিটি ব্যাগ টেনে নেওয়ার চেষ্টা করে বলে জানিয়েছে তার পরিবার। হ্যাঁচকা টানে চলন্ত রিকশা থেকে রাস্তায় ছিটকে পড়েন তিনি। এতে মাথায় গুরুতর আঘাত পান।
স্বামী আব্দুল মতিন তাকে দ্রুত শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক রনজিলাকে মৃত ঘোষণা করেন। মর্গ সূত্রের বরাতে ঢাকা পোস্ট জানিয়েছে, তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে এবং মাথায় আঘাত ও রক্তক্ষরণে মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
রনজিলা পারভীন বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ি সরকারি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি উপজেলার সোনাকানিয়া গ্রামে। স্বামী ও একমাত্র মেয়েকে নিয়ে তিনি বগুড়া শহরের রহমাননগর এলাকায় বসবাস করতেন। তার স্বামী ব্যবসায়ী এবং একমাত্র মেয়ে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন রনজিলা। ১৯৮৮ সালের জানুয়ারিতে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে পদোন্নতি পেয়ে বাগবাড়ি সরকারি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হন।
এদিকে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে একটি মোটরসাইকেলে থাকা দুই ব্যক্তির সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেট অস্পষ্ট এবং সন্দেহভাজনদের একজন হেলমেট ও অন্যজন মাস্ক পরা থাকায় তাদের শনাক্ত করতে বেগ পেতে হচ্ছে।
শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ভোর ৫টা ৫৩ থেকে ৫টা ৫৪ মিনিটের দিকে ঘটনাটি ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশ ও র্যাবও অনুসন্ধানে যুক্ত হয়েছে।
চোখের চিকিৎসা করিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার কথা ছিল রনজিলার। সেই যাত্রাই শেষ পর্যন্ত পরিণত হলো তার জীবনের শেষ যাত্রায়।








