ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

নদ নদী

নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জালে বিপর্যস্ত জলাশয়, হুমকিতে দেশীয় মাছের অস্তিত্ব

সরকারিভাবে নিষিদ্ধ হলেও নীলফামারীর বিভিন্ন খাল, বিল ও জলাশয়ে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে চায়না দুয়ারী জাল। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, কিছু অসাধু মৎস্য শিকারি এই জাল ব্যবহার করে নির্বিচারে মাছ আহরণ করায় দেশীয় মাছের প্রজনন ও জলজ জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, জেলার বিভিন্ন জালের দোকানে গোপনে নিষিদ্ধ এই জাল বিক্রি হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় মৎস্য বিভাগ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করলেও এর ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না।হরিশ্চন্দ্র পাঠ স্কুল অ্যান্ড কলেজের সিনিয়র শিক্ষক জুয়েল ইসলাম বলেন, একসময় কারেন্ট জালের কারণে দেশীয় মাছের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে সেই ক্ষয়ক্ষতিকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে চায়না দুয়ারী জাল। তার ভাষ্য, এই জালে বড় মাছের পাশাপাশি মাছের রেণু, ডিম এবং বিভিন্ন জলজ প্রাণী আটকা পড়ে মারা যায়। অনেক ক্ষেত্রে জাল একবার পানিতে ফেলে মাসের পর মাস আর তোলা হয় না, ফলে ক্ষতির মাত্রা আরও বেড়ে যায়। তিনি বলেন, এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে দেশে আমিষের ঘাটতি দেখা দিতে পারে এবং দেশীয় মাছ বিলুপ্তির ঝুঁকি আরও বাড়বে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জেলে জানান, চায়না দুয়ারী জাল সহজে নষ্ট হয় না এবং দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায়। পাশাপাশি এর দামও তুলনামূলক কম হওয়ায় অনেকেই এই জাল ব্যবহারে আগ্রহী। অন্যদিকে দেশীয় জাল দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তা বারবার তুলে শুকাতে হয়।মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষা মৌসুম দেশীয় মাছের প্রজননের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময়ে নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার অব্যাহত থাকলে দেশীয় মাছের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে জলজ পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে নীলফামারী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বরুণ কুমার মণ্ডল বলেন, দেশীয় মাছ সংরক্ষণে সারা বছরই নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মোবাইল কোর্ট পরিচালনাও অব্যাহত রয়েছে। তিনি জানান, জনসচেতনতা ও সবার সহযোগিতা পেলে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল এবং কারেন্ট জালের ব্যবহার সম্পূর্ণ নির্মূল করা সম্ভব হবে। এছাড়া জেলার বিভিন্ন উপজেলায় এসব জালের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে।

নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জালে বিপর্যস্ত জলাশয়, হুমকিতে দেশীয় মাছের অস্তিত্ব