রণক্ষেত্রে দ্রুত ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও আধুনিক সমরাস্ত্র পৌঁছে দিতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী। এখন থেকে এসব অস্ত্র তৈরি করা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজেদের সামরিক পরীক্ষাকেন্দ্র বা টেস্ট রেঞ্জ ব্যবহারের সুযোগ দেবে মার্কিন সেনাবাহিনী।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) এ উদ্যোগের ঘোষণা দেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের একটি সামরিক পরীক্ষাকেন্দ্রে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মার্কিন সেনাসচিব ড্যান ড্রিসকল জানান, নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে অস্ত্র নির্মাতাদের দীর্ঘ প্রশাসনিক জটিলতা ও আমলাতান্ত্রিক বাধা অনেকটাই কমিয়ে আনা হবে।
তিনি জানান, শুক্রবার চালু হওয়া একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে আবেদন করার পর সর্বোচ্চ ৩০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে কিংবা বিদেশে মিত্র দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক টেস্ট রেঞ্জ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
ড্রিসকল বলেন, সেনাদের সক্ষমতা বাড়াতে, তাদের নিরাপদ রাখতে কিংবা সামরিক বাহিনীর জীবনমান উন্নত করতে পারে এমন কোনো প্রযুক্তি পরীক্ষার জন্য আগে ১২ থেকে ১৮ মাস পর্যন্ত সময় লেগে যেত। তার মতে, দ্রুত বদলে যাওয়া যুদ্ধের বাস্তবতায় এ ধরনের দীর্ঘসূত্রতা আর গ্রহণযোগ্য নয়।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুদ্ধের ধরন দ্রুত বদলে যাওয়াও এই উদ্যোগের অন্যতম কারণ। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ড্রোন হামলা এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউক্রেনের ড্রোন প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার আধুনিক যুদ্ধের চিত্র অনেকটাই পাল্টে দিয়েছে।
অন্যদিকে, বিভিন্ন সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে প্যাট্রিয়ট ও থাডের মতো অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুতও কমে আসছে বলে বিভিন্ন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে ড্রিসকল বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ পর্যবেক্ষণ এবং দেশটির দ্রুত নতুন অস্ত্র ব্যবস্থা তৈরি ও মাঠপর্যায়ে ব্যবহারের সক্ষমতা দেখেই মার্কিন সেনাবাহিনীর নীতিতে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নতুন কর্মসূচির আওতায় কোনো সামরিক চুক্তি না থাকলেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো সেনাবাহিনীর পাঁচটি টেস্ট রেঞ্জ ব্যবহার করতে পারবে। সেখানে রকেট, ড্রোন, ড্রোন প্রতিরোধী অস্ত্রসহ বিভিন্ন নতুন প্রযুক্তির পরীক্ষা চালানো যাবে।
ইতোমধ্যে ‘কভেন্যান্ট ইন্ডাস্ট্রিজ’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান মরক্কোতে অবস্থিত মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি মিসাইল টেস্ট রেঞ্জে তাদের নতুন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছে। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী অ্যাবি ডেনবার্গ জানান, ‘অ্যানথেম’ ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতা প্রদর্শনের পাশাপাশি এই পরীক্ষার মাধ্যমে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও তুলনামূলক সহজ একটি পথ তৈরি হয়েছে।
মার্কিন সেনাবাহিনী এখন ছোট ও মাঝারি আকারের প্রতিষ্ঠানগুলোকে কম খরচে কার্যকর অস্ত্র তৈরিতে উৎসাহিত করতে চাইছে। একই সঙ্গে দ্রুত উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যও রয়েছে।
ড্রিসকল বলেন, গত দুই থেকে তিন দশকে সেনাবাহিনীর ভেতরে তৈরি হওয়া বিভিন্ন প্রশাসনিক বাধা দূর করতে কাজ করছে তারা। বেসরকারি শিল্প খাতকে সেনাদের সঙ্গে সরাসরি কাজ করে নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও বিনিয়োগে এগিয়ে আসার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বিভিন্ন সংঘাতের কারণে প্যাট্রিয়ট ও থাডের মতো উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুত কমে এসেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের এসব ব্যবস্থা ব্যবহারে আরও হিসাবি হতে হতে পারে।
অস্ত্রের মজুত নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ড্রিসকল নির্দিষ্ট কোনো তথ্য না দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডার এখনো বিশ্বের যেকোনো দেশের তুলনায় বড়। নতুন ও বহুমুখী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যুক্ত করার মাধ্যমে এই সক্ষমতা আরও বাড়ানো হবে।
এর আগে অস্ত্রের মজুত নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সবসময় আরও বেশি অস্ত্রের প্রয়োজন রয়েছে।








