রাজনীতি

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ২য় বার্ষিকীতে জামায়াতের সমাবেশ: বাকস্বাধীনতা হরণ করলে ফের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

প্রিন্ট
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ২য় বার্ষিকীতে জামায়াতের সমাবেশ: বাকস্বাধীনতা হরণ করলে ফের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে আজ ৩ আগস্ট (সোমবার) রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে এক বিশাল ‘জুলাই সমাবেশ’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, "বিগত স্বৈরাচারী সরকারের মতো আপনারাও যদি স্বৈরাচারী মনোভাব নিয়ে দেশের মানুষকে জিম্মি করে রাখতে চান, তবে তা হবে আপনাদের চরম ভুল ধারণা।"

বর্তমান সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, "আজকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা হামলার শিকার হচ্ছেন, আর পুলিশ নীরব ভূমিকা পালন করে সেই তাণ্ডব পাহারা দিচ্ছে। ভুক্তভোগীরা আইনি সুরক্ষার জন্য মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা পর্যন্ত গ্রহণ করছে না—যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।"

২৪-এর ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের বীর শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে তিনি যাত্রাবাড়ীর ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, "জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে যাত্রাবাড়ীবাসী সবচেয়ে সাহসিক ভূমিকা পালন করেছে। এই এলাকার দিনমজুর, রিকশাচালক, ভ্যানচালক, গাড়িচালকসহ সর্বস্তরের সাধারণ জনতা ছাত্র-জনতার সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে আজকের এই স্বাধীন বাংলাদেশ উপহার দিয়েছেন এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেছেন।"

যারা পুনরায় স্বৈরাচারী পন্থা অবলম্বন করতে চায় তাদের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জামায়াতের এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, "আপনারা যারা নতুন করে গণতন্ত্রকে মুছে দিতে চান এবং স্বৈরাচারী মনোভাব নিয়ে দেশ শাসনের পাঁয়তারা করছেন, তাদের চক্রান্ত সফল হবে না। আগামী ৫ তারিখের সমাবেশের মাধ্যমে আমরা জনগণকে স্পষ্ট বার্তা জানিয়ে দেব। এই সরকার যদি নিজের নীতি পরিবর্তন না করে, মানুষের স্বাধীনতা ও বাকস্বাধীনতা কেড়ে নেয় কিংবা অন্যায়ভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে কণ্ঠরোধ করতে চায়, তবে আমরা আবারও একটি গণ-অভ্যুত্থানের ডাক দেব।"

শেখ হাসিনার পতন ও পলায়নের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, "সেই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে এই সরকারকে দেশ থেকে বিতাড়িত করা হবে। মনে রাখবেন, বিগত স্বৈরাচারী সরকার দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার জন্য হেলিকপ্টার পেয়েছিল, আপনারা কিন্তু সেই সুযোগটুকুও পাবেন না। এই বাংলা ও বাংলার মাটিতে আর কখনো কোনো স্বৈরাচারী সরকার তৈরি হতে দেওয়া হবে না।"

গণভোট ও দ্রুত নির্বাচনের দাবি জানিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, "জনগণ ইতোমধ্যে পরিবর্তন চায়, যার প্রমাণ গণভোটের স্বপক্ষে ৭০ শতাংশ মানুষের সমর্থন। দেশের মানুষ যা চায়, সেই গণভোটের দাবি যেন খুব দ্রুতই বাস্তবায়ন করা হয়। অন্যথায় দেশের সর্বস্তরের মানুষ আপনাদের প্রত্যাখ্যান করবে এবং আপনাদের বিরুদ্ধে রাজপথে কঠোর আন্দোলনের দাবানল জ্বলে উঠবে।"

সমাবেশে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে যাত্রাবাড়ী এলাকায় শহীদদের পরিবার-পরিজন, পিতা-মাতা ও স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথি তাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে জামায়াতে ইসলামী সারাজীবন তাদের পাশে থাকবে বলে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষনেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে সমাবেশটি এক বিশাল গণসমাবেশে রূপ নেয়। বক্তারা জুলাই আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করে যেকোনো স্বৈরাচারী পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের আহ্বান জানান।

সম্পর্কিত সংবাদ