অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, ফরজ গোসলের কথা মনে না রেখেই যদি দৈনন্দিন অভ্যাস অনুযায়ী গোসল করা হয়, কুলি করা হয়, নাকে পানি দেওয়া হয় এবং পুরো শরীর ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া হয়, তাহলে কি সেই গোসলের মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জিত হবে? নাকি আবার নতুন করে ফরজ গোসল করতে হবে?
ইসলামী শরিয়তে এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। ফিকহবিদদের মতে, ফরজ গোসলের জন্য নির্ধারিত ফরজ কাজগুলো যথাযথভাবে সম্পন্ন হলে নিয়ত মুখে উচ্চারণ না করা বা গোসলের সময় ফরজ গোসলের কথা মনে না থাকলেও গোসল সহিহ হয়ে যায়।
ফরজ গোসলের তিনটি ফরজ
ইসলামী বিধান অনুযায়ী ফরজ গোসলের তিনটি অপরিহার্য কাজ হলো—
- ভালোভাবে কুলি করা।
- নাকের ভেতর পানি পৌঁছানো।
- শরীরের প্রতিটি অংশে পানি পৌঁছে ধুয়ে ফেলা।
নিয়ত করা সুন্নত। তাই কেউ যদি সাধারণ গোসলের সময়ও এই তিনটি ফরজ পূর্ণ করেন, তাহলে তার ফরজ গোসল আদায় হয়ে যাবে। এ ক্ষেত্রে নতুন করে আবার গোসল করার প্রয়োজন নেই।
গোসলের কোনো ফরজ বাদ পড়লে করণীয়
অসাবধানতাবশত যদি গোসলের সময় কুলি করা, নাকে পানি দেওয়া বা শরীরের কোনো অংশে পানি পৌঁছানো বাদ পড়ে যায়, তাহলে পরে বিষয়টি মনে হলে শুধু সেই অপূর্ণ অংশটুকু সম্পন্ন করলেই গোসল পূর্ণ হয়ে যাবে।
অর্থাৎ—
- কুলি বাদ গেলে পরে কুলি করতে হবে।
- নাকে পানি না পৌঁছালে পরে নাকে পানি দিতে হবে।
- শরীরের কোনো অংশ শুকনো থাকলে শুধু সেই অংশ ধুয়ে নিতে হবে।
এ কারণে শুরু থেকে আবার গোসল করার প্রয়োজন হয় না।
অসম্পূর্ণ গোসলের পর নামাজ আদায় করলে
গোসলের ফরজ কোনো অংশ বাকি থাকা অবস্থায় যদি কেউ নামাজ আদায় করে ফেলেন, তাহলে পরে গোসলের অপূর্ণ অংশ পূরণ করার পর সেই নামাজ পুনরায় আদায় করতে হবে। কারণ, পূর্ণ পবিত্রতা অর্জনের আগে আদায় করা নামাজ সহিহ হবে না।
সুন্নত অনুযায়ী ফরজ গোসলের নিয়ম
সুন্নত অনুসারে ফরজ গোসলের ধাপগুলো হলো—
- মনে মনে অপবিত্রতা থেকে পবিত্র হওয়ার নিয়ত করা।
- বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম বলে গোসল শুরু করা।
- দুই হাত কবজি পর্যন্ত ধুয়ে নেওয়া।
- শরীর বা পোশাকে কোনো অপবিত্রতা থাকলে তা পরিষ্কার করা।
- ভালোভাবে কুলি করা, নাকে পানি দেওয়া এবং অজু সম্পন্ন করা।
- মাথায় এমনভাবে পানি ঢালা, যাতে চুল ও দাড়ির গোড়া পর্যন্ত পানি পৌঁছে যায়।
- প্রথমে ডান কাঁধ, এরপর বাম কাঁধে পানি ঢেলে পুরো শরীর ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া।
- শরীরের প্রতিটি বাহ্যিক অংশে ভালোভাবে পানি পৌঁছেছে কি না নিশ্চিত হওয়া।
- সবশেষে পায়ের আঙুল খিলাল করে পা ধুয়ে নেওয়া।
যেসব কারণে গোসল ফরজ হয়
নিচের চারটি কারণে গোসল ফরজ হয়ে যায়—
১. ঘুমন্ত বা জাগ্রত অবস্থায় উত্তেজনার সঙ্গে বীর্যপাত হলে।
২. স্বামী-স্ত্রীর সহবাস হলে, বীর্যপাত না হলেও।
৩. নারীর মাসিক (হায়েজ) শেষ হলে।
৪. সন্তান জন্মের পর নেফাসের রক্তপাত বন্ধ হলে।
শেষ কথা
ইসলামী শরিয়তে ফরজ গোসলের মূল উদ্দেশ্য হলো পূর্ণ পবিত্রতা অর্জন। তাই গোসলের তিনটি ফরজ যথাযথভাবে সম্পন্ন করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। নিয়ত ভুলে গেলেও যদি কুলি করা, নাকে পানি দেওয়া এবং শরীরের প্রতিটি অংশে পানি পৌঁছে ধোয়া সম্পন্ন হয়, তাহলে সেই গোসলই সহিহ হবে এবং পুনরায় গোসল করার প্রয়োজন হবে না।
তথ্যসূত্র: হানাফি ফিকহের নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ ফাতাওয়া আলমগিরি, রদ্দুল মুহতার ও বেহেশতি জেওর-এ এ বিষয়ে বিস্তারিত মাসআলা উল্লেখ রয়েছে।








