চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান, বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ও বিশিষ্ট সমাজসেবক মোশাররফ হোসেন মিয়া আর নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুর ১টা ২০ মিনিটের দিকে তিনি নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বড় ছেলে লেলিন হোসেন। পরিবার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে তিনি লিভার ক্যান্সারে ভুগছিলেন।শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করে আইসিইউতে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে অবস্থার আরও অবনতি ঘটায় চিকিৎসকদের পরামর্শে প্রায় এক সপ্তাহ আগে তাকে বাসায় ফিরিয়ে আনা হয়। সেখানেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।মোশাররফ হোসেন মিয়া ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি ছাত্র ইউনিয়নের মাধ্যমে রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করেন এবং চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্র ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের জেলা পর্যায়েও সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।পরবর্তীতে তিনি ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (মোজাফফর)-এ যোগ দেন। ১৯৭৫ সালের পর তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এ যুক্ত হয়ে দীর্ঘদিন সক্রিয় রাজনীতি চালিয়ে যান। তিনি থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং পরবর্তীতে সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ছিলেন।সামরিক শাসনামলে এরশাদের সময় তিনি গ্রেপ্তার হন। সেই সময় কারাগারে থেকেই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন, যা স্থানীয় রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি বিরল ও আলোচিত ঘটনা হিসেবে বিবেচিত।দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সততা, জনসম্পৃক্ততা ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য তিনি এলাকাজুড়ে ব্যাপকভাবে পরিচিত ও শ্রদ্ধাভাজন ছিলেন। জীবননগর উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে তার অবদান স্থানীয়দের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তার মৃত্যুতে রাজনৈতিক সহকর্মী, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোক নেমে এসেছে। পরিবার মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনায় সবার কাছে দোয়া চেয়েছে।