ঢাকা    মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

মোঃ কামরুল হাসান জীবন

মোঃ কামরুল হাসান জীবন

নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি


‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ ছড়িয়ে স্বর্ণ লুট, বৃদ্ধার মৃত্যু: নওগাঁয় গ্রেফতার ৪

নওগাঁ সদর উপজেলায় একই দিনে রাসায়নিক স্প্রে ও প্রতারণার কৌশল ব্যবহার করে স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেওয়ার দুটি পৃথক ঘটনার রহস্য উদঘাটনে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনাগুলোর একটিতে আহত এক বৃদ্ধা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। গ্রেফতার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়ার পাশাপাশি গলানো অবস্থায় চোরাই স্বর্ণও উদ্ধার করা হয়েছে।পুলিশ জানায়, গত ২৩ জুন নওগাঁ শহরের চুরিপট্টি এলাকায় নওগাঁ মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের সামনে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ফাতেমা বেগম (৭০) নামে এক বৃদ্ধাকে কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি রাসায়নিক স্প্রে প্রয়োগ করে অচেতন করে ফেলে। পরে তাকে একটি রিকশায় তুলে নিয়ে গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন, কানের দুল এবং নগদ পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে যায়। এরপর ডিগ্রীর মোড় সংলগ্ন ময়লা ফেলার স্থানে অচেতন অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায় তারা।স্থানীয়রা ফাতেমা বেগমকে উদ্ধার করে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৫ জুন তিনি মারা যান।একই দিন দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা বাসস্ট্যান্ড থেকে লিটন ব্রিজের মাঝামাঝি এলাকায় আরেকটি ঘটনায় এক বৃদ্ধ দম্পতিকে স্বর্ণের বার দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে দুর্বৃত্তরা। অভিযোগ রয়েছে, রাসায়নিক স্প্রে প্রয়োগ করে তাদের সম্মোহিত করে জোরপূর্বক ৬ আনা ওজনের এক জোড়া স্বর্ণের কানের দুল নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।দুই ঘটনার পর নওগাঁ সদর মডেল থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের হয়। বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম), সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার সমন্বয়ে একটি বিশেষ তদন্ত টিম গঠন করা হয়।এরই ধারাবাহিকতায় সদর মডেল থানার ওসি মো. আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে গত ২৭ জুন গভীর রাতে নওগাঁ শহরের নয়টি হোটেলে একযোগে বিশেষ অভিযান চালানো হয়। পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায়ও তল্লাশি চালানো হয়।অভিযানে নওগাঁ রেস্ট হাউস হোটেলসহ বিভিন্ন স্থান থেকে মো. আব্দুল হাই, মো. এরশাদ আলী, বাবলু (তিনজনই গাইবান্ধার বাসিন্দা) এবং দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার মো. কালামকে গ্রেফতার করা হয়।পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ব্যক্তিরা আরও দুই-তিনজন সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় স্বর্ণের বার দেখিয়ে প্রতারণা এবং রাসায়নিক স্প্রে প্রয়োগের মাধ্যমে বৃদ্ধ দম্পতির স্বর্ণের কানের দুল ছিনিয়ে নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।তদন্তে আরও জানা যায়, ওই কানের দুল গ্রেফতার এরশাদ নওগাঁ স্বর্ণপট্টি বাজারের মুহিদ জুয়েলার্সের ম্যানেজার মো. জাহাঙ্গীরের কাছে বিক্রি করেন। পরে গোয়েন্দা পুলিশ তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি চোরাই স্বর্ণ কেনার বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি জানান, কানের দুল গলিয়ে ফেলা হয়েছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গলানো অবস্থায় চার আনা স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়।প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের কাছে আরও তথ্য এসেছে, মো. জাহাঙ্গীর এর আগেও নওগাঁ স্বর্ণপট্টিতে চোরাই স্বর্ণ কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।এদিকে গ্রেফতার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রথম ঘটনায় লুট হওয়া স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ তাদের পলাতক সহযোগীদের কাছে রয়েছে বলেও জানা গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রথম ঘটনার সঙ্গে জড়িত পলাতক আসামিদের গ্রেফতার এবং অবশিষ্ট লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ ছড়িয়ে স্বর্ণ লুট, বৃদ্ধার মৃত্যু: নওগাঁয় গ্রেফতার ৪