মাঠ প্রশাসনে গতি আনতে সরকারের মাস্টারপ্ল্যান, টাঙ্গাইল-নরসিংদীতে শরীফুল আলম, কিশোরগঞ্জের নতুন অভিভাবক ইয়াসের খান চৌধুরী।
মাঠ প্রশাসনের অচলাবস্থা কাটানো, উন্নয়ন কাজের গতি ত্বরান্বিত করা এবং দুর্নীতিমুক্ত সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। সারা দেশের জেলাভিত্তিক উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলা তদারকির অংশ হিসেবে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলমকে গুরুত্বপূর্ণ দুটি শিল্প ও বাণিজ্যিক জেলা—টাঙ্গাইল ও নরসিংদীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, হাওর ও ঐতিহ্য সমৃদ্ধ কিশোরগঞ্জ জেলার সার্বিক উন্নয়ন ও প্রশাসন তদারকির দায়িত্ব পেয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট ২০২৬) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত এক বিশেষ অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের পর সংশ্লিষ্ট তিন জেলায় ব্যাপক প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রান্তিক পর্যায় থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত সরকারি দপ্তরগুলোর কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা আনা, সরকারের বিশেষ অগ্রাধিকার প্রকল্পসমূহ দ্রুত বাস্তবায়ন এবং সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের অভিযোগ দ্রুত নিরসনে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা সরাসরি মাঠ পর্যায়ে তদারকি করবেন। তারা নিয়মিত জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় অংশ নিয়ে সরকারের সার্বিক নীতি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেবেন। তবে প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের এই তদারকি হবে সমন্বয়মূলক। ফলে স্থানীয় সরকার বা অন্যান্য সংবিধিবদ্ধ সংস্থার আইনগত ও প্রশাসনিক ক্ষমতায় এটি কোনো ব্যাঘাত ঘটাবে না, বরং কার্যক্রমের পরিধি ও গতি বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।ঐতিহ্যবাহী বস্ত্রশিল্প, তাঁত কারখানা এবং দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পাঞ্চলগুলোর কারণে টাঙ্গাইল ও নরসিংদী জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রীর মতো একজন অভিজ্ঞ ও অর্থনীতিভিত্তিক মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ অভিভাবককে এ দুটি জেলার সার্বিক দায়িত্ব প্রদানকে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও কৌশলগত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। স্থানীয় অর্থনীতিবিদদের মতে, টাঙ্গাইলের বিশ্বখ্যাত ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পের পুনরুজ্জীবন, নতুন টেক্সটাইল পার্ক স্থাপন ও সংযোগ বিস্তার এবং নরসিংদীর বৃহৎ শিল্প এলাকাগুলোর নিরাপত্তা বিধান নিশ্চিত করতে শরীফুল আলমের প্রশাসনিক নজরদারি সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেন, সরকার তাঁর ওপর যে আস্থা ও বিশ্বাস রেখে এ গুরুদায়িত্ব অর্পণ করেছে, তা পরম সততা ও নিষ্ঠার সাথে পালন করা হবে। তিনি আরও ব্যক্ত করেন যে, টাঙ্গাইল ও নরসিংদী জেলার শিল্প খাতের অমিত সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগানো, স্থবির প্রকল্পগুলো সচল করা এবং সর্বোপরি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করাই হবে তাঁর কাজের প্রধান অগ্রাধিকার।প্রযুক্তি ও আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রতি গভীর আগ্রহের কারণে তরুণ তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী ইতিমধ্যে গণমাধ্যম ও নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। ঐতিহাসিক, ভৌগোলিক ও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর জেলা কিশোরগঞ্জের দায়িত্ব পাওয়ায় স্থানীয় তরুণ সমাজ ও সচেতন মহলে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পলিমাটি ও সুবিশাল হাওরবেষ্টিত কিশোরগঞ্জ জেলায় একদিকে যেমন কৃষি ও মৎস্য সম্পদের অফুরন্ত ভাণ্ডার রয়েছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনের বিশাল সম্ভাবনা সুপ্ত রয়েছে। ইয়াসের খান চৌধুরী কিশোরগঞ্জের তথ্য প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর আমূল পরিবর্তন, হাওরবাসীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, দীর্ঘস্থায়ী সমাধান নিশ্চিতকরণ এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে চরম স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার কথা নিশ্চিত করেছেন। প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী জানান, কিশোরগঞ্জের মতো ঐতিহ্যবাহী এবং অর্থনৈতিক দিক থেকে সম্ভাবনাময় এক জেলার সার্বিক দায়িত্ব পাওয়া অত্যন্ত সম্মানজনক এবং এটি একটি বড় দায়িত্বও বটে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, নিবিড় পর্যবেক্ষণ, স্বচ্ছতা এবং আধুনিক ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে কিশোরগঞ্জকে একটি আদর্শ মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর সমন্বয় কার্যক্রম কীভাবে রূপায়িত হবে, সে বিষয়ে সরকারের প্রশাসনিক বিবরণ অত্যন্ত সুস্পষ্ট। তাঁতশিল্প সংরক্ষণ, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ খাত জোরদার করা এবং কঠোর আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার উপর প্রধান জোর দিয়ে টাঙ্গাইল জেলার তদারকি পরিচালিত করবেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম। একই সাথে, দেশের বৃহত্তম বাণিজ্য কেন্দ্র ও শিল্প বেল্ট নরসিংদী জেলার ক্ষেত্রে শিল্পাঞ্চলের স্থায়ী নিরাপত্তা সুসংহত করা, রপ্তানিমুখী টেক্সটাইল খাতের প্রসার এবং নাগরিক সেবার দ্রুত নিশ্চিতকরণের সর্বাত্মক দায়িত্বটি পালন করবেন মো. শরীফুল আলম। অন্যদিকে, অনন্য ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের কিশোরগঞ্জ জেলার ক্ষেত্রে হাওর অঞ্চলের ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বাস্তুতন্ত্র রক্ষা, রূপামুখী পর্যটন শিল্পের প্রসার এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা আনয়নের জন্য সার্বিক কৌশল প্রণয়ন ও তদারকির ভূমিকাটি সামলাবেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।উপকূলীয় ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্থানীয় অধিবাসী এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের সরাসরি মন্ত্রিসভার সদস্যদের মাঠপর্যায়ের জেলাগুলোর অভিভাবক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার এই প্রক্রিয়াটি লালফিতার দৌরাত্ম্য ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বহুলাংশে দূর করবে। স্থানীয় দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্পের দ্রুত অনুমোদন ও বাস্তবায়নে এর ফলে অভূতপূর্ব গতি সঞ্চারিত হবে। উন্নয়নমূলক প্রতিটি কাজ স্বচ্ছতার সাথে সম্পন্ন হওয়া এবং দুর্নীতি রোধে এই কেন্দ্র-মাঠ সরাসরি তদারকি কাঠামো অত্যন্ত ফলপ্রসূ হতে যাচ্ছে। টাঙ্গাইল, নরসিংদী ও কিশোরগঞ্জ—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ জেলাই সরকারের এমন সময়োপযোগী ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপের মাধ্যমে অর্থনৈতিক ও আর্থ-সামাজিক দিক থেকে আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে যাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও সাধারণ নাগরিকবৃন্দ।