ঢাকা    মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ভারতীয় সেনাবাহিনী ইউনিফর্ম নীতিমালায় বড় পরিবর্তন

ভারতীয় সেনাবাহিনী তাদের নতুন ইউনিফর্ম নীতিমালা ‘আর্মি ইউনিফর্মস-২০২৬’-এ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। নতুন এই নীতিমালার মাধ্যমে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলের বেশ কিছু রীতি ও পরিভাষা পরিত্যাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে ‘রয়্যাল’ শব্দের ব্যবহার বাদ দেওয়া এবং বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক ক্ষেত্রে তলোয়ার বহনের বাধ্যবাধকতা শিথিল করার সিদ্ধান্ত উল্লেখযোগ্য।ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেনাবাহিনীর নতুন পোশাকবিধিতে নির্দিষ্ট মেস ড্রেসের সঙ্গে পাউচ বেল্ট ব্যবহারের প্রচলনও বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি আনুষ্ঠানিক বেসামরিক পোশাকের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে দেশীয় ‘বান্দি জ্যাকেট’। বন্ধ গলার এই জ্যাকেট পূর্ণহাতা শার্ট, ফর্মাল ট্রাউজার এবং বন্ধ জুতার সঙ্গে পরিধান করতে হবে। সেনাবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, জাতীয় চেতনা ও বিকাশমান সার্বভৌম পরিচয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।নতুন নীতিমালায় তলোয়ার বহনের ক্ষেত্রেও স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে কেবল প্যারেড কমান্ডার, কন্টিনজেন্ট কমান্ডার এবং বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাই তলোয়ার বহন করতে পারবেন। প্রজাতন্ত্র দিবস, স্বাধীনতা দিবস, সেনাবাহিনী দিবস এবং গার্ড অব অনারের মতো রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে এ নিয়ম কার্যকর হবে। তবে রিভিউয়িং অফিসারদের জন্য প্যারেডে তলোয়ার বহনের প্রচলিত রীতি পুরোপুরি বাতিল করা হয়েছে।শীতকালীন পোশাকেও পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমান জার্সিভিত্তিক শীতকালীন ইউনিফর্মের পরিবর্তে ধাপে ধাপে নতুন ‘ব্যাটল জ্যাকেট’ চালু করা হবে। ২০২৯ সালের জুন মাসের মধ্যে এই রূপান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী।পোশাকবিধিতে ব্যক্তিগত সাজসজ্জা ও আচরণ সম্পর্কেও কঠোর নির্দেশনা সংযোজন করা হয়েছে। ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় অস্বাভাবিক চুলের ছাঁট, অনুমোদনহীন দাড়ি, দৃশ্যমান ইলেকট্রনিক যন্ত্র, ট্যাটু, শরীর ছিদ্র করে অলংকার পরা এবং প্রসাধনী ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক, ধর্মীয় কিংবা বিক্ষোভমূলক সমাবেশ, ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান, বিয়ে অথবা অনুমোদন ছাড়া অর্থের বিনিময়ে গণমাধ্যমে উপস্থিত হওয়ার সময় সেনা ইউনিফর্ম পরিধানের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।এর আগে চলতি বছর ভারতীয় সেনাবাহিনী ঔপনিবেশিক উত্তরাধিকার থেকে বেরিয়ে আসার অংশ হিসেবে ২৪৬টি সড়ক, ভবন ও স্থাপনার নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়। এর আওতায় দিল্লি ক্যান্টনমেন্টের ‘মল রোড’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘অরুণ খেত্রপাল মার্গ’ এবং কলকাতার ঐতিহাসিক ফোর্ট উইলিয়ামের নাম পরিবর্তন করে ‘বিজয় দুর্গ’ রাখা হয়।সাম্প্রতিক এই পরিবর্তনগুলোকে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাংগঠনিক সংস্কার ও দেশীয় ঐতিহ্যভিত্তিক পরিচয় নির্মাণের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি ঔপনিবেশিক প্রভাবমুক্ত একটি স্বতন্ত্র সামরিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টারও ইঙ্গিত বহন করছে।#আর ইউ এস

ভারতীয় সেনাবাহিনী ইউনিফর্ম নীতিমালায় বড় পরিবর্তন