ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

তানভীর আহমেদ শাওন

তানভীর আহমেদ শাওন

নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি নরসিংদী


"পান" পাতার উপকারিতা ও ঔষধি গুনাগুণ!

পান আমাদের দেশের একটি বহুল পরিচিত ও জনপ্রিয় খাদ্যাভ্যাসের অংশ। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে নানী-দাদীদের মধ্যে পান খাওয়ার অভ্যাস এখনো প্রচলিত। তবে শুধু মশলা, সুপারি বা জর্দা দিয়ে মুখরোচক হিসেবে নয়, পান পাতার রয়েছে নানা ঔষধিগুণ—এমনটাই মনে করে আয়ুর্বেদ শাস্ত্র। আয়ুর্বেদ মতে, নিয়মিত পান পাতা খেলে শরীরের বিভিন্ন সমস্যা উপশমে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। যদিও আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে এসব দাবির সবকটির শক্ত প্রমাণ নেই, তবু লোকজ চিকিৎসা ও প্রাচীন ধারা অনুযায়ী পান পাতা নানা উপকারে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, পান পাতায় থাকা কিছু প্রাকৃতিক উপাদান হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। অনেকেই খাবারের পর পান খেয়ে থাকেন, কারণ এটি গ্যাস, অম্বল ও পেট ফাঁপা কমাতে সহায়ক বলে ধারণা করা হয়। পানের রস লালার স্রাব বাড়ায়, যা হজম প্রক্রিয়াকে সক্রিয় করে। একই সঙ্গে মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে এটি প্রাকৃতিক মাউথ ফ্রেশনার হিসেবে কাজ করে। পান পাতার রস দাঁত ও মাড়ি সুস্থ রাখতে সহায়ক বলেও প্রচলিত ধারণা রয়েছে।লোকজ চিকিৎসায় নাক দিয়ে রক্ত পড়া বন্ধ করতে পান পাতা ব্যবহারের কথা বলা হয়। পান পাতার রস দ্রুত রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করতে পারে বলে ধারণা রয়েছে। কানের হালকা ব্যথায় কয়েক ফোঁটা পান পাতার রস ও নারকেল তেল মিশিয়ে ব্যবহার করা হয়, তবে এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। ছোটখাটো কাটা-ছেঁড়ায় পান পাতা বেটে লাগানো হলে তা অ্যান্টিসেপ্টিক হিসেবে কাজ করতে পারে বলেও প্রচলিত আছে। আর্থ্রাইটিসের ব্যথা কমাতেও কেউ কেউ এটি ব্যবহার করেন।ত্বকের যত্নেও পান পাতার ব্যবহার রয়েছে। এতে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্য থাকায় ব্রণ, ফুসকুড়ি বা হালকা অ্যালার্জিতে উপকার পেতে পারেন বলে অনেকে মনে করেন। তাজা পান পাতা ও কাঁচা হলুদ একসঙ্গে বেটে লাগানো একটি প্রচলিত ঘরোয়া পদ্ধতি। গরমে মাথাব্যথা হলে কপালে পান পাতা রেখে আরাম পাওয়ার কথাও বলা হয়। ফাঙ্গাল সংক্রমণের ক্ষেত্রে আক্রান্ত স্থানে পান পাতার রস লাগানো হয়, যদিও গুরুতর সংক্রমণে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।পান পাতাকে শরীর সতেজ রাখার উপাদান হিসেবেও দেখা হয়। কেউ কেউ গোসলের পানিতে পান পাতার রস মিশিয়ে ব্যবহার করেন। আবার মধুর সঙ্গে পান পাতা বেটে খেলে শক্তি ও সতর্কতা বাড়তে পারে বলে প্রচলিত আছে। সর্দি-কাশিতে পান পাতা, এলাচ ও লবঙ্গ ফুটিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। বুকে কফ জমলে সরিষার তেলের সঙ্গে গরম পান পাতা ব্যবহারও একটি পরিচিত ঘরোয়া উপায়।মহিলাদের স্বাস্থ্য পরিচর্যায়ও পান পাতার ব্যবহার নিয়ে নানা লোকজ ধারণা রয়েছে। ভ্যাজাইনাল হাইজিন ঠিক রাখতে বা প্রসব-পরবর্তী পরিচর্যায় এটি ব্যবহারের কথা বলা হয়। কিডনি সমস্যায় প্রস্রাবের কষ্ট কমাতে পান পাতা সহায়ক হতে পারে বলেও প্রচলিত আছে। এছাড়া ক্ষত দ্রুত শুকাতে পান পাতার অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল গুণ কার্যকর হতে পারে বলে অনেকে বিশ্বাস করেন। তবে চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলেন, পান পাতা উপকারী হলেও সুপারি, জর্দা ও তামাকযুক্ত পান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এবং দীর্ঘমেয়াদে মুখগহ্বরের ক্যান্সারসহ নানা জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই পানের ঔষধিগুণের কথা বিবেচনা করলেও তা ব্যবহারে সচেতনতা প্রয়োজন। কোনো গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যায় ঘরোয়া পদ্ধতির ওপর নির্ভর না করে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।