ফরিদপুর জেলার কোতোয়ালী থানাধীন আলোচিত ট্রিপল মার্ডার মামলার মূল রহস্য উদঘাটন করে মাত্র ১০ ঘণ্টার মধ্যেই প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামতও উদ্ধার করা হয়েছে।মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল ২০২৬) দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে ফরিদপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম, পিপিএম।প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, কোতোয়ালী থানায় দায়ের করা মামলা নম্বর ৭৯ (তারিখ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬), দণ্ডবিধির ৩০২/৩২৬/৩০৭/৩৪ ধারায় করা এই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার রহস্য অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে উদঘাটন করা হয়েছে। ঘটনার পরপরই জেলা পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নামে এবং তথ্য-প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয়ে অভিযান পরিচালনা করে। এর ফলেই অল্প সময়ের মধ্যে অভিযুক্তকে শনাক্ত ও গ্রেফতার করা সম্ভব হয়।পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান শুরু করা হয়। বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করে আসামিকে দ্রুত গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামতও উদ্ধার করা হয়েছে।”তিনি আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, অভিযুক্ত আকাশ ব্যক্তিগত হতাশা থেকে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পরও তার বিয়ে না হওয়া এবং মানসিক অস্থিরতা থেকে সে এ ধরনের নৃশংস ঘটনার দিকে ঝুঁকে পড়ে।প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মো. শামছুল আজম এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেনসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য বা সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।