ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের মালাঙ্গা এলাকায় বসতবাড়ির সীমানাসংলগ্ন জমি নিয়ে বিরোধের জেরে একটি বাড়িতে হামলা ও মারধরের অভিযোগে করা মামলায় প্রধান আসামি জিয়াউর তালুকদারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় একই পরিবারের তিনজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ২৫ আগস্ট আলমগীর হোসেন নামে এক ব্যক্তি কোতয়ালী থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।অভিযোগ ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আলমগীর হোসেনের পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশী জিয়াউর তালুকদার, লিয়াকত তালুকদার, হাসান বিশ্বাস, আরিফ বিশ্বাস, নাঈম বিশ্বাস, রফিক বিশ্বাস, মাহবুব বিশ্বাস ও লিপি বেগমসহ কয়েকজনের বসতবাড়ির সীমানাসংলগ্ন জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ঘটনার দিন দুপুর ১২টার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়িতে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।আলমগীর হোসেনের অভিযোগ, বাড়িতে প্রবেশের পর তাকে গালিগালাজ করা হয়। এ সময় তার ছেলে আল-আমিন (৩২) প্রতিবাদ করতে এগিয়ে গেলে তাকে রামদা দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়। পরে লাঠি দিয়ে তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধর করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।ভাইকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে আল-আমিনের বড় ভাই মোহাম্মাদ আলী (৩৮)-কেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ছেলেদের রক্ষা করতে গিয়ে আলমগীর হোসেনও মারধরের শিকার হন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, হামলার সময় অভিযুক্তদের একজন ঘরে প্রবেশ করে আলমারির ড্রয়ারে রাখা গরু কেনার জন্য সঞ্চয় করা ৪ লাখ ৯৫ হাজার টাকা নিয়ে যান। পরিবারের সদস্যদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা হত্যার হুমকি দিয়ে চলে যান বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত আল-আমিন ও মোহাম্মাদ আলীকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে আল-আমিনের শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয় বলে জানিয়েছেন অভিযোগকারী।আলমগীর হোসেন বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে তাদের বাড়িতে হামলা করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানান।অভিযোগে হাসেম শেখ, দুলাল সরকার, আমেনা বেগম, মুন্নী বেগম ও ছালাম শেখকে প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আরও কয়েকজন ঘটনার বিষয়ে জানেন বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে। ছেলেদের চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় থানায় অভিযোগ করতে কিছুটা দেরি হয়েছে বলে জানান আলমগীর হোসেন।এ বিষয়ে কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, এ ঘটনায় উভয় পক্ষের পক্ষ থেকেই মামলা হয়েছে। আলমগীর হোসেনের করা মামলায় প্রধান আসামি জিয়াউর তালুকদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।অভিযোগে অভিযুক্ত অন্য ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়গুলো তদন্ত করে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।