ঢাকা    মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদন


২৬ জুন পবিত্র আশুরা

বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র মহররম মাসের চাঁদ দেখা গেছে। এর মধ্য দিয়ে বুধবার (১৭ জুন) থেকে শুরু হচ্ছে হিজরি নববর্ষ ১৪৪৮ সনের প্রথম মাস মহররম। আগামী ২৬ জুন, শুক্রবার দেশে পবিত্র আশুরা পালিত হবে।মঙ্গলবার (১৬ জুন) সন্ধ্যায় রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবের রুটিন দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত সচিব মো. ফজলুর রহমান সভায় সভাপতিত্ব করেন।সভা শেষে জানানো হয়, দেশের বিভিন্ন জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনার ভিত্তিতে বাংলাদেশের আকাশে হিজরি ১৪৪৮ সনের মহররম মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।এ ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে ১৭ জুন থেকে পবিত্র মহররম মাস গণনা শুরু হবে এবং আগামী ২৬ জুন, অর্থাৎ ১০ মহররম পবিত্র আশুরা পালিত হবে। এ উপলক্ষে দেশে নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি থাকবে।ইসলামি বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস মহররম মুসলিম উম্মাহর কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এবারের জিলহজ মাস ২৯ দিনে শেষ হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় নতুন হিজরি বছরের সূচনা হচ্ছে মহররম মাসের মধ্য দিয়ে।পবিত্র আশুরা ইসলামের ইতিহাসে নানা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার স্মারক হিসেবে বিবেচিত। তবে উপমহাদেশের মুসলমানদের কাছে এ দিনের অন্যতম প্রধান তাৎপর্য হলো কারবালার মর্মন্তুদ ঘটনা। ৬১ হিজরির ১০ মহররম ইরাকের কারবালা প্রান্তরে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসেন (রা.) ও তাঁর সঙ্গীরা শাহাদতবরণ করেন। এই শোকাবহ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশেষ করে শিয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে আশুরা পালনের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।অন্যদিকে, ইসলামি ঐতিহ্য অনুযায়ী আশুরার দিনটি আরও বিভিন্ন তাৎপর্যময় ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত। সহিহ হাদিসে আশুরার রোজার বিশেষ ফজিলতের কথা উল্লেখ রয়েছে। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) আশুরার রোজা পালনের প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন। ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, ১০ মহররমের পাশাপাশি এর আগে বা পরে আরও একদিন রোজা রাখা উত্তম।ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে প্রতিবছর বাংলাদেশের মুসলমানরা পবিত্র আশুরা পালন করে থাকেন। দিনটি উপলক্ষে বিভিন্ন ধর্মীয় আলোচনা, দোয়া মাহফিল ও বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। একই সঙ্গে কারবালার আত্মত্যাগ, সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবিচল থাকার শিক্ষা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।নতুন হিজরি বছরের সূচনালগ্নে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা আত্মশুদ্ধি, ত্যাগ ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চার মধ্য দিয়ে জীবন পরিচালনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সেই ধারাবাহিকতায় আগামী ২৬ জুন পবিত্র আশুরা যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পালিত হবে।#আরইউএস

২৬ জুন পবিত্র আশুরা