ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

প্রাকৃতিক দূর্যোগ

পাঁচ দিনেও ত্রাণ মেলেনি, ঘরহারা মানুষের ঠাঁই অন্যের বাড়িতে

নিজের ঘর আছে, কিন্তু সেখানে ফেরার উপায় নেই। কারও ঘর ভেঙে গেছে, কারও ঘরে রেখে যাওয়া স্মৃতি আর প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেড়ে নিয়েছে পাহাড়ি ঢল। পাঁচ দিনের বেশি সময় ধরে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন খাগড়াছড়ির দীঘিনালার জামতলী এলাকার অনেক বন্যাদুর্গত মানুষ। তাদের অভিযোগ, এতদিন পেরিয়ে গেলেও এখনো সরকারি ত্রাণ বা প্রয়োজনীয় সহায়তা তাদের হাতে পৌঁছায়নি।এমন পরিস্থিতির মধ্যেই বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন নবনির্বাচিত খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ম্রাসাথোয়াই মারমা।বিকেল ৩টার দিকে তিনি জামতলী নিচের এলাকা, জামতলী বাঙালি পাড়া ও বাজার এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি ঘুরে দেখেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন জেলা পরিষদের সদস্য এম এ আফসার ও সদস্য মো. মোশাররফ হোসেন।পরিদর্শনকালে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা চেয়ারম্যানের কাছে নিজেদের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন। কেউ হারিয়েছেন মাথা গোঁজার নিরাপদ জায়গা, কেউ ক্ষতিগ্রস্ত ঘর মেরামত করতে না পেরে পরিবার নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন আত্মীয়-স্বজন কিংবা প্রতিবেশীর বাড়িতে। দীর্ঘ হতে থাকা এই অনিশ্চিত জীবন থেকে দ্রুত মুক্তি পেতে সরকারি সহযোগিতার দাবি জানান তারা।ক্ষতিগ্রস্তদের কথা শুনে পাশে থাকার আশ্বাস দেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ম্রাসাথোয়াই মারমা। তিনি বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা নেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই সরকারি সহযোগিতা আপনাদের মধ্যে পৌঁছাবে। আমরা সাধ্য অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার চেষ্টা করছি।”তবে দুর্গত মানুষের অপেক্ষা এরই মধ্যে পাঁচ দিন ছাড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বন্যার পর এতদিন পার হলেও তারা এখনো কোনো সরকারি ত্রাণ পাননি। ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেক পরিবারের স্বাভাবিক জীবন থমকে গেছে।এক ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দার কণ্ঠে উঠে আসে সেই অসহায়ত্ব। তিনি বলেন, “কতদিন অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে থাকব, জানি না। সরকার দ্রুত আমাদের সহযোগিতা করুক।”গত ২১ আগস্ট রাতে ভারী বৃষ্টিপাতের পর পাহাড়ি ঢলে দীঘিনালার বিভিন্ন নিচু এলাকা প্লাবিত হয়। পানির তোড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ঘরবাড়ি, সড়কসহ বিভিন্ন স্থাপনা। হঠাৎ নেমে আসা দুর্যোগে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে অনেক পরিবার।পানি নেমে গেলেও জামতলীর ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ এখনো কাটেনি। মাথা গোঁজার জায়গা হারানো পরিবারগুলোর সামনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—কবে মিলবে সহায়তা, আর কবে তারা আবার ফিরতে পারবেন নিজেদের ঘরে।

পাঁচ দিনেও ত্রাণ মেলেনি, ঘরহারা মানুষের ঠাঁই অন্যের বাড়িতে