ঢাকা    মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা ইরানের

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলার দাবি করেছে তেহরান। একই সঙ্গে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছে ইরান। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, ইরানের অব্যাহত আগ্রাসনের জবাব হিসেবেই বুধবার গভীর রাতে এসব হামলা পরিচালনা করা হয়। অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, তারা বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটির পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে থাকা দুটি জাহাজেও হামলা চালিয়েছে।ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, হরমুজ প্রণালির নিকটবর্তী কেশম দ্বীপ এবং বন্দর আব্বাস ও সিরিক শহরে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। দক্ষিণাঞ্চলীয় কারগান শহরেও বিস্ফোরণে অন্তত দুজন আহত হয়েছেন।এদিকে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) অভিযোগ করেছে, গত এপ্রিলে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি বারবার লঙ্ঘন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ প্রেক্ষাপটে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে তেলবাহী ট্যাংকারসহ সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে মার্কিন সামরিক বাহিনী জাহাজ চলাচলে সহায়তা করেছে বলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দেওয়া বক্তব্যও প্রত্যাখ্যান করেছে তারা।সংস্থাটি আরও দাবি করেছে, অনুমতি ছাড়া হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করা দুটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়া বাহরাইনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটি এবং কুয়েতের আলি আল-সালেম ও আহমাদ আল-জাবের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলাও চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।গত কয়েক দিনে হরমুজ প্রণালির কাছে একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। ইরানের দাবি, তারা বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটি, কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটি এবং জর্ডানের আজরাক বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল কেশম দ্বীপ, সিরিক, জাস্ক এবং বন্দর আব্বাস বন্দর। তেহরানের দাবি, এসব হামলায় দুটি পানির ট্যাংক ধ্বংস হয়েছে এবং একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।আল জাজিরা জানিয়েছে, ইসরায়েল ও ইরানের সাম্প্রতিক সংঘাতের কয়েক দিনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা আবারও তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত এপ্রিলে যুদ্ধবিরতির আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এবং তার জবাবে ইরানের পাল্টা আক্রমণে উপসাগরীয় অঞ্চলে ব্যাপক অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছিল।এর পর থেকেই হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত হয়ে পড়ে, যার প্রভাব বিশ্ববাজারে তেল ও খাদ্যপণ্যের দামে প্রতিফলিত হয়েছে।বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। সংঘাত শুরুর পর ইরান প্রথমবারের মতো এই সমুদ্রপথ বন্ধ করে দেয়। পরে সাময়িকভাবে বিধিনিষেধ শিথিল করা হলেও ইরানি বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ আরোপের পর পুনরায় তা কার্যকর করা হয়।

হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা ইরানের