জামিজুরী গণহত্যা দিবস পালিত, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা
চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড জামিজুরীতে ১৯৭১ সালের নির্মম গণহত্যার স্মরণে আজ ২৮ এপ্রিল (১৪ই বৈশাখ) যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে ‘জামিজুরী গণহত্যা দিবস।দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয় এবং সেই বিভীষিকাময় দিনের স্মৃতি নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা হয়। দিবসটি উপলক্ষে বধ্যভূমি সংরক্ষণ কমিটির উদ্যোগে সকালে স্থানীয় বধ্যভূমিতে শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।এ সময় শহীদ পরিবারের সদস্য, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নীরবতা পালন করে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর সেখানে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।সভায় বক্তারা ১৯৭১ সালের সেই হৃদয়বিদারক গণহত্যার ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন। তারা বলেন, ওই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের স্থানীয় দোসররা নিরীহ গ্রামবাসীর ওপর বর্বর হামলা চালিয়ে বহু মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করে।জামিজুরীর এই বধ্যভূমি সেই ভয়াবহতার এক নীরব সাক্ষী হয়ে আজও দাঁড়িয়ে আছে। প্রবীণ কান্তি দাশের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন মাস্টার সুশীল কান্তি ভট্টাচার্য। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন শহীদ পরিবারের সন্তান ডা. সুনীল কান্তি ভট্টাচার্য, কৃষ্ণকান্ত চৌধুরী এবং মুক্তিযোদ্ধার সন্তান আশিস চন্দ্র দে। তারা আবেগঘন বক্তব্যে শহীদদের স্মৃতিচারণ করেন এবং সেই সময়ের বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।বক্তারা বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি জাতি অকল্পনীয় ত্যাগ স্বীকার করেছে। মুক্তিযোদ্ধারা জীবন বাজি রেখে দেশ স্বাধীন করেছেন। তাদের আত্মত্যাগের ফলেই আজকের স্বাধীন বাংলাদেশ। জামিজুরীর বধ্যভূমি শুধু একটি স্থান নয়, এটি আমাদের ইতিহাস, আত্মত্যাগ ও জাতীয় চেতনার প্রতীক।তারা আরও বলেন, বর্তমান প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। এ ধরনের গণহত্যা দিবস পালনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম ইতিহাস জানতে পারে এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়।অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন গৌতম দাশ, টিটন মল্লিক, বিপ্লব ধর, ভোলা, রঞ্জিত রুদ্র, রতন দাস, শুভ মল্লিক, তপন ধর, সুজীত দাস, রঞ্জিত দাশ, ভানু কান্তি দাশসহ শহীদ পরিবারের সদস্য, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এবং স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। অনুষ্ঠানের শেষে বক্তারা জামিজুরী বধ্যভূমি সংরক্ষণ, উন্নয়ন এবং এর যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবি জানান।পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে নিয়মিত স্মরণসভা, গবেষণা ও শিক্ষামূলক কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।