নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া নবজাতক আফরিন জান্নাতের মৃত্যুতে এলাকায় উদ্বেগ ও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। মাত্র ১১ দিন বয়সী এই শিশুটি শনিবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল-এ মারা যায়।জানা গেছে, শনিবার সকাল ১১টার দিকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় শিশুটিকে ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ ভর্তি করা হয়। সে ডিমলা উপজেলার খগাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের চাবুলের টারী এলাকার বাসিন্দা আবু বকর সিদ্দিকের মেয়ে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, জন্মের পর থেকেই শিশুটি দুর্বল ছিল এবং হঠাৎ জ্বর, শরীরে ফুসকুড়ি ও শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানান, শিশুটির শরীরে হামের মতো উপসর্গ দেখা গেলেও তার অবস্থা দ্রুত অবনতি হতে থাকে। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে জরুরি ভিত্তিতে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখানে নেওয়ার পরপরই তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হলেও রাতেই তার মৃত্যু হয়।এ বিষয়ে নীলফামারীর সিভিল সার্জন ডা. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “শিশুটিকে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি করা হয়েছিল। তবে প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।”তিনি আরও জানান, জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১১ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতাল-এ ৮ জন, ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন এবং সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে ১ জন ভর্তি আছেন।স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, মৌসুমি পরিবর্তনের সময় শিশুদের মধ্যে হামের মতো সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষ করে যেসব শিশু এখনো টিকা পায়নি বা দুর্বল স্বাস্থ্য অবস্থায় রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি। তাই অভিভাবকদের শিশুদের নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করা এবং জ্বর, ফুসকুড়ি বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও স্বাস্থ্য বিভাগ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছে বলে জানিয়েছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য সংক্রমণ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।