গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় প্রায় ১২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন মডেল মসজিদ উদ্বোধনের আগেই ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেওয়ায় উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজের মান নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন ছিল। অন্যদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বলছে, এটি কাঠামোগত নয়, কেবল প্লাস্টারের ফাটল এবং বকেয়া বিল পরিশোধ করা হলে দুই মাসের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।জানা যায়, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে দেশের ৫৬০টি মডেল মসজিদ নির্মাণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে কোটালীপাড়া মডেল মসজিদের নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয় প্রায় ১২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। চুক্তি অনুযায়ী ১৮ মাসে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়নি।এদিকে নির্মাণ শেষ হওয়ার আগেই ভবনের দেয়াল ও প্লাস্টারের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় ফাটল দেখা গেছে। কোথাও কোথাও পুরোনো প্লাস্টার অপসারণ করে নতুন করে প্লাস্টার করার কাজও চলছে।ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমডি বদরুল ইকবাল লিমিটেডের ম্যানেজার মাসুম বিল্লাহ বলেন, ভবনের কলাম বা বিমে কোনো কাঠামোগত সমস্যা নেই। প্লাস্টারে ফাটল দেখা দিয়েছে, যা মেরামতযোগ্য। তিনি জানান, সাইটসংক্রান্ত নানা জটিলতার কারণে কাজ বিলম্বিত হয়েছে। ২০২৩ সালের জুনে পূর্ণাঙ্গভাবে কাজ শুরু করা হয়। বর্তমানে প্রায় তিন কোটি টাকার বিল বকেয়া রয়েছে। শ্রমিকদের নিয়মিত বিল পরিশোধে সমস্যা হওয়ায় কাজ ধীরগতিতে চলছে। বকেয়া টাকা পরিশোধ করা হলে দুই মাসের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করা সম্ভব হবে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গণপূর্ত বিভাগের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, প্রথম ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভূমি অফিস অপসারণে বিলম্ব এবং নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে কাজ ছেড়ে দেয়। পরে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে নতুন করে এমডি বদরুল ইকবাল লিমিটেডকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। তবে দুই বছরের বেশি সময় পার হলেও কাজ এখনো শেষ হয়নি।কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাগুফতা হক বলেন, নির্মাণ শেষ হওয়ার আগেই মসজিদে ফাটল দেখা দেওয়ার বিষয়টি সত্য। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টরা ফাটলের স্থানগুলো সংস্কার করেছে বলে জানিয়েছে। তিনি আরও বলেন, তিনি যোগদানের পর থেকেই মসজিদটিকে একই অবস্থায় দেখে আসছেন। আগের জেলা প্রশাসকও দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য একাধিকবার তাগিদ দিলেও কাজ শেষ হয়নি।স্থানীয় মুসল্লিদের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও যথাযথ তদারকির অভাবে প্রকল্পটি বারবার পিছিয়েছে। তাদের দাবি, কার্যকর নজরদারির অভাবেই উদ্বোধনের আগেই ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে গোপালগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম খান বলেন, জুন মাসের ব্যস্ততার কারণে এখনো সরেজমিনে পরিদর্শনে যেতে পারেননি। তবে ঠিকাদারের প্রকৌশলীকে ফাটলগুলো দ্রুত মেরামতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ব্যস্ততা শেষ হলে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।