গাজীপুর, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ — শখ এবং অর্থনৈতিক দিক বিবেচনায় সূর্যমুখী চাষে সফল কৃষক কবির হোসেন তার বাগানকে ৬ বিঘা থেকে সম্প্রসারণ করে ১২ বিঘা জমিতে পরিণত করেছেন। চলতি মাসের শুরু থেকেই বাগানজুড়ে হলুদ রঙের সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে হাজারো মানুষ ভিড় করছে।বাগানটি কেবল কৃষি উৎপাদনের ক্ষেত্র নয়; দর্শনার্থীদের জন্য এটি হয়ে উঠেছে গ্রামীণ পর্যায়ের একটি ভিন্নধর্মী বিনোদনকেন্দ্র। শিশুদের খেলনার দোকান, অস্থায়ী খাবারের স্টল এবং ছবি তোলার জন্য নান্দনিক কারুকাজের গেট ও বসার স্থান স্থাপন করা হয়েছে। দর্শনার্থীরা বাগানের ভেতরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, ছবি তুলছেন এবং গ্রামীণ সৌন্দর্য উপভোগ করছেন।প্রাথমিকভাবে বিনামূল্যেই বাগান উন্মুক্ত রাখা হলেও ফসলের ক্ষতি এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য পরে জনপ্রতি ৩০ টাকা প্রবেশমূল্য নির্ধারণ করা হয়। স্থানীয়রা বলেন, “ফেসবুকে বাগানের ছবি দেখে আসা মানসিক আনন্দ বেড়েছে। পরিবেশ সুন্দর ও মনোমুগ্ধকর।”কৃষক কবির হোসেন জানান, সূর্যমুখী চাষের বীজ, সার ও কীটনাশক সরবরাহ করেছে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। তিনি আশা করছেন, বাগানের সাফল্য অন্য তরুণ উদ্যোক্তা ও কৃষকদের উৎসাহিত করবে এবং আগামী বছরে আরও বড় পরিসরে চাষ সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে।শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা বন্যা বলেন, “প্রদর্শনী প্লটটির মাধ্যমে রোগবালাই ও পোকামাকড় দমন বিষয়ে কৃষকদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। সূর্যমুখী চাষ বৃদ্ধি পেলে ভোজ্য তেলের আমদানির উপর নির্ভরতা কমবে এবং পুষ্টিসমৃদ্ধ তেল সরবরাহ সম্ভব হবে। এটি অন্যান্য কৃষকদের জন্যও উদ্বুদ্ধকরণ হিসেবে কাজ করবে।”এই উদ্যোগ গ্রামীণ অঞ্চলে কৃষি ও বিনোদনের সমন্বয়ে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, যেখানে অর্থনৈতিক লাভের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যটন ও সামাজিক কার্যক্রমও সমৃদ্ধ হচ্ছে।