আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে জাতিসংঘে ১৭৩ আইনজীবীর আবেদন
আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত রাজনৈতিক কার্যক্রমের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে আন্তর্জাতিক মহলে বিষয়টি উত্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছেন কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির একদল আইনজীবী। এ লক্ষ্যে তারা জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার বরাবর একটি যৌথ আবেদন পাঠিয়েছেন। আবেদনপত্রটিতে সমিতির ১৭৩ জন আইনজীবীর স্বাক্ষর রয়েছে, যা স্থানীয় পর্যায়ে একটি উল্লেখযোগ্য সম্মিলিত অবস্থান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।আবেদনে আইনজীবীরা উল্লেখ করেছেন, সম্প্রতি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ‘সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) বিল-২০২৬’-এর মাধ্যমে দেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাদের দাবি, এই সিদ্ধান্ত দেশের সংবিধানের ৩৮ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত সংগঠনের স্বাধীনতা এবং মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। তারা যুক্তি দেন, কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার মতো গুরুতর সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা আবশ্যক, যা এখানে উপেক্ষিত হয়েছে বলে তারা মনে করছেন।আইনজীবীরা তাদের বিবৃতিতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলোর কথাও তুলে ধরেন। তারা বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ- এসব ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহে আওয়ামী লীগের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন একটি দলকে বিচারিক প্রক্রিয়া ছাড়া নিষিদ্ধ করা প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের নীতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে তারা অভিহিত করেন।এছাড়া তারা উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার বিষয়ক চুক্তির স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে কিছু বাধ্যবাধকতার মধ্যে আবদ্ধ। নতুন এই আইনের মাধ্যমে সেই আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তারা মত প্রকাশ করেন। তাদের মতে, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় রাজনৈতিক বহুমত ও দলীয় কার্যক্রমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা এই নিষেধাজ্ঞার ফলে বাধাগ্রস্ত হতে পারে।আইনজীবীরা আরও উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার ফলে দেশের আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন। তারা মনে করেন, এমন একটি সিদ্ধান্ত দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে।আবেদনে বলা হয়, আওয়ামী লীগ কেবল একটি রাজনৈতিক দল নয়, বরং বাংলাদেশের স্বাধীনতা, রাষ্ট্রগঠন এবং জাতীয় ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত একটি সংগঠন। তাই দলটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতার পরিপন্থী বলেও তারা দাবি করেন।
সবশেষে, আইনজীবীরা জোর দিয়ে বলেন যে, কোনো রাজনৈতিক দলের গ্রহণযোগ্যতা বা অগ্রহণযোগ্যতার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত জনগণের মাধ্যমে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায়- সংসদীয় নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে নয়। তারা অবিলম্বে আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান এবং বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলের নজরে আনার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।