ঢাকা    শনিবার, ০২ মে ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

হোক্কাইডোতে ৬.২ মাত্রার ভূমিকম্প

জাপানের উত্তরাঞ্চলীয় দ্বীপ হোক্কাইডোতে সোমবার ভোরে ৬ দশমিক ২ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে বিস্তীর্ণ এলাকায় কম্পন অনুভূত হলেও তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে একই মাত্রার আরও ভূমিকম্প হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।জাপান মেটিওরোলজিক্যাল এজেন্সি (জেএমএ) জানায়, স্থানীয় সময় সোমবার ভোর ৫টা ২৩ মিনিটে হোক্কাইডোর দক্ষিণাঞ্চলে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৮৩ কিলোমিটার গভীরে। প্রথমে এর মাত্রা ৬ দশমিক ১ বলা হলেও পরে সংশোধন করে ৬ দশমিক ২ নির্ধারণ করা হয়।ভূমিকম্পের পরপরই হোক্কাইডোর বিভিন্ন শহর ও আশপাশের এলাকায় মানুষ আতঙ্কিত হয়ে ঘরবাড়ি থেকে বেরিয়ে আসে। অনেক এলাকায় ভবন কেঁপে ওঠে এবং কিছু সময়ের জন্য গণপরিবহন ও স্থানীয় সেবায় সাময়িক বিঘ্ন ঘটে বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।তবে জেএমএ স্পষ্ট করেছে, এ ভূমিকম্পের কারণে সুনামির কোনো আশঙ্কা নেই। ফলে উপকূলীয় এলাকায় সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা জারি করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসও জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কেন্দ্র তুলনামূলক কম জনবসতিপূর্ণ এলাকায় হওয়ায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা কম।তবুও ঝুঁকি পুরোপুরি শেষ হয়নি বলে সতর্ক করেছে জাপানের আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ। জেএমএ বলছে, যেসব এলাকায় বেশি কম্পন অনুভূত হয়েছে সেখানে পাথর ধসে পড়া, পাহাড়ি ঢাল ভেঙে পড়া এবং ভূমিধসের ঝুঁকি বেড়েছে। বিশেষ করে পাহাড়ি অঞ্চল, সড়কপথ এবং ঢালু এলাকায় বসবাসকারীদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পরবর্তী কয়েকদিন আফটারশকের সম্ভাবনা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে একই মাত্রার বা কাছাকাছি শক্তির আরেকটি কম্পন হতে পারে। ফলে স্থানীয় প্রশাসনকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।এই ভূমিকম্পের কয়েক ঘণ্টা আগেই হোক্কাইডোর দক্ষিণ উপকূলীয় সমুদ্রে ৫ দশমিক ০ মাত্রার আরেকটি কম্পন রেকর্ড করা হয়। সাম্প্রতিক সময়জুড়ে জাপানে ধারাবাহিক ভূমিকম্পের ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে।গত সপ্তাহে উত্তর ইওয়াতে প্রদেশের উপকূলে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। ওই ঘটনায় অন্তত ছয়জন আহত হন। শত শত কিলোমিটার দূরে রাজধানী টোকিওতেও উঁচু ভবন কেঁপে ওঠে। ইওয়াতের একটি বন্দরে প্রায় ৮০ সেন্টিমিটার উচ্চতার সুনামি ঢেউ আঘাত হানে এবং উত্তরাঞ্চলের আরও কয়েকটি এলাকায় ছোট ঢেউ দেখা যায়।ওই ঘটনার পর থেকেই জাপান মেটিওরোলজিক্যাল এজেন্সি সতর্ক করে আসছিল, নতুন বড় ভূমিকম্পের সম্ভাবনা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেড়েছে। সোমবারের কম্পন সেই আশঙ্কাকে আরও জোরালো করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।বিশ্বের সবচেয়ে ভূমিকম্পপ্রবণ দেশগুলোর একটি জাপান। দেশটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এর পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত, যেখানে চারটি প্রধান টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থল রয়েছে। এ কারণে দেশটিতে নিয়মিত ছোট-বড় ভূমিকম্প হয়ে থাকে।পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রায় ১২ কোটি ৫০ লাখ মানুষের এই দেশে বছরে গড়ে প্রায় ১ হাজার ৫০০ ভূমিকম্প অনুভূত হয়, যা বিশ্বের মোট ভূমিকম্পের প্রায় ১৮ শতাংশ।২০১১ সালের ৯ দশমিক ০ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্প ও পরবর্তী সুনামির স্মৃতি এখনও জাপানের জন্য বেদনাদায়ক। সেই দুর্যোগে প্রায় ১৮ হাজার ৫০০ মানুষ নিহত বা নিখোঁজ হন এবং ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বড় বিপর্যয় ঘটে।সোমবারের ভূমিকম্পে বড় ক্ষতি না হলেও ধারাবাহিক কম্পনে নতুন করে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে জাপান। স্থানীয় বাসিন্দাদের জরুরি প্রস্তুতি বজায় রাখা এবং সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।

হোক্কাইডোতে ৬.২ মাত্রার ভূমিকম্প