ঢাকা    শনিবার, ০২ মে ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ট্রাম্প কি ডেকে আনছেন নতুন মহামন্দা?

বিশ্ব অর্থনীতি আবারও বড় ধরনের মন্দার ঝুঁকিতে পড়ছে কি না—এই প্রশ্ন ঘিরে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতি এবং বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে দেখা অস্বাভাবিক কিছু সংকেতকে কেন্দ্র করে বিশ্লেষকদের একাংশ সতর্ক বার্তা দিচ্ছেন, যদিও এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।অর্থনৈতিক ইতিহাসে দেখা যায়, বড় সংকটের আগে প্রায়ই কিছু বিভ্রান্তিকর ও অস্বাভাবিক প্রবণতা দেখা দেয়। ১৯২৯ সালের মহামন্দার আগে শেয়ারবাজারে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা ও সাধারণ মানুষের অতিরিক্ত বিনিয়োগ প্রবণতা তৈরি হয়েছিল। একইভাবে ২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের আগেও জটিল আর্থিক পণ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত আস্থা তৈরি হয়, যা পরবর্তীতে বড় বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।বর্তমান পরিস্থিতিতে অর্থনীতিবিদরা ডলার সোয়াপ বাজারে অস্বাভাবিক চাপের বিষয়টি বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। এই বাজার সাধারণত আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে স্বল্পমেয়াদি ডলার তারল্য ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সেখানে চাপ বা অস্থিরতা দেখা দিলে তা বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থার ভেতরে সম্ভাব্য দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করা হয়।বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের সংকেত একা কোনো অর্থনৈতিক বিপর্যয় নিশ্চিত করে না, তবে এটি একটি সতর্ক বার্তা হিসেবে কাজ করে। তাদের দাবি, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, বাণিজ্য নীতির অনিশ্চয়তা এবং বড় অর্থনীতিগুলোর মধ্যে আস্থার ঘাটতি মিলিয়ে একটি জটিল পরিবেশ তৈরি হয়েছে।প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ ক্যানেথ রোগোফ এবং কারম্যান রেইনহার্টের গবেষণার প্রসঙ্গ টেনে বিশ্লেষকরা বলছেন, ইতিহাসে প্রায় প্রতিবারই বড় আর্থিক সংকটের আগে “এইবার পরিস্থিতি আলাদা” ধরনের আত্মতুষ্টি তৈরি হয়েছিল, যা পরবর্তীতে ঝুঁকি আরও বাড়িয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতেও একই ধরনের মানসিকতা কাজ করছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থনৈতিক নীতি—বিশেষ করে বাণিজ্যিক শুল্ক, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পর্ক এবং অভ্যন্তরীণ আর্থিক সংস্কার—বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে বলে কিছু বিশ্লেষকের মত। তবে সমর্থকদের দাবি, এসব নীতি দীর্ঘমেয়াদে মার্কিন অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যেই নেওয়া হয়েছে।বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো—এই সংকেতগুলো কি শুধুই সাময়িক বাজার অস্থিরতা, নাকি এটি বড় ধরনের অর্থনৈতিক ধাক্কার পূর্বাভাস? বিশেষ করে উন্নত ও উদীয়মান অর্থনীতিগুলোর মধ্যে পারস্পরিক নির্ভরতা বেড়ে যাওয়ায় যেকোনো বড় ধাক্কা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। তবে বাজার পর্যবেক্ষণ, নীতিগত স্বচ্ছতা এবং বৈশ্বিক সমন্বয় জোরদার করা জরুরি। তা না হলে ক্ষুদ্র সংকেতও ভবিষ্যতে বড় আকার ধারণ করতে পারে।সব মিলিয়ে প্রশ্নটি এখনো খোলা—বিশ্ব অর্থনীতি কি সত্যিই নতুন কোনো মহামন্দার দিকে এগোচ্ছে, নাকি এটি কেবল অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে তৈরি অতিরঞ্জিত উদ্বেগ?

ট্রাম্প কি ডেকে আনছেন নতুন মহামন্দা?