জাতিসংঘ ফোরামে পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে ‘বিভ্রান্তিকর বক্তব্য’
জাতিসংঘের একটি ফোরামে পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্কের প্রেক্ষাপটে সংবাদ সম্মেলন করেছে সিএইচটি সম্প্রীতি জোট। সংগঠনটির নেতারা ওই বক্তব্যকে বিভ্রান্তিকর, একপাক্ষিক এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিযোগ করেন।বান্দরবানে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সম্প্রতি United Nations Permanent Forum on Indigenous Issues (UNPFII)-এর ২৫তম অধিবেশনে জনসংহতি সমিতি (জেএসএস)-এর প্রতিনিধি হিসেবে অগাস্টিনা চাকমা ও চঞ্চনা চাকমা যে বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন, তা বাস্তব পরিস্থিতির সঠিক প্রতিফলন নয়। তাদের দাবি, ওই বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন, নিরাপত্তা এবং সাম্প্রতিক অগ্রগতিকে উপেক্ষা করে একটি বিকৃত চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।সংবাদ সম্মেলনে সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের নেতারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম, বিশেষ করে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য সীমান্ত সড়ক নির্মাণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতে, এই সড়ক শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নই নয়, বরং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং দুর্গম এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাই এই ধরনের প্রকল্পের বিরোধিতা করা হলে তা উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করবে বলে তারা মন্তব্য করেন।তারা আরও বলেন, কিছু পক্ষ থেকে অবৈধ অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চলমান অভিযান বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে, যা তাদের ভাষায় অস্থিতিশীলতা ও সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় দেওয়ার শামিল। বক্তাদের মতে, পার্বত্য অঞ্চলের সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর কারণে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি ও অভিযান বন্ধ করার দাবি বাস্তবসম্মত নয় এবং তা শান্তি ও স্থিতিশীলতার পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়েও আলোচনা করা হয়। নেতারা বলেন, সেনাবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামে শুধু নিরাপত্তা রক্ষায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং বিভিন্ন মানবিক সহায়তা কার্যক্রমেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। দুর্গম এলাকায় উন্নয়ন ও সেবা পৌঁছে দিতে সেনাবাহিনীর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য বলে তারা দাবি করেন।সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের নেতারা অভিযোগ করেন, আন্তর্জাতিক ফোরামে এ ধরনের বক্তব্য উপস্থাপন করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাস্তবতা সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি করা হচ্ছে, যা দেশের ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর। তাদের মতে, পার্বত্য চট্টগ্রাম একটি বহুজাতিক ও বহুসাংস্কৃতিক সহাবস্থানের অঞ্চল, যেখানে সরকার ধারাবাহিকভাবে উন্নয়ন ও শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে যাচ্ছে।তারা আরও উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের ফলে পাহাড়ি এলাকায় দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। এসব অগ্রগতিকে উপেক্ষা করে কেবল নেতিবাচক দিক তুলে ধরা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে তারা মন্তব্য করেন।সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা মত প্রকাশের স্বাধীনতার গুরুত্ব স্বীকার করে বলেন, তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বক্তব্য উপস্থাপনের ক্ষেত্রে অবশ্যই দায়িত্বশীলতা এবং নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে কথা বলা উচিত। অন্যথায় তা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে এবং ভুল বার্তা ছড়িয়ে পড়তে পারে।শেষে তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান, কোনো একপাক্ষিক বা অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত না নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের কেন্দ্রীয় সংসদের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার থোয়াইচিং মং চাক, বান্দরবান জেলা শাখার সদস্য অং সিংথোয়াই মারমা, থং পং ম্রো, এলেক্স বড়ুয়া, মো. শরিফুল আলম, মো. আব্দুল কুদ্দুস এবং সূর্য ত্রিপুরাসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।