ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

এআই হবে ভবিষ্যৎ অর্থনীতির চালিকাশক্তি: আইসিটি মন্ত্রী

ঢাকা: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এখন আর কেবল একটি প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন নয়, বরং ভবিষ্যতের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, উদ্ভাবন এবং জাতীয় প্রতিযোগিতা সক্ষমতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি বলে মন্তব্য করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি বলেন, এআই খাতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং গবেষণা-উদ্ভাবনের পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।শনিবার (১১ জুলাই) সাভারের ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) গবেষণা ল্যাব’ এবং ‘এআই প্রজেক্ট কম্পিটিশন-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।মন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক এআই গবেষণা ল্যাবগুলো দেশের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ, গবেষণা এবং উদ্ভাবনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। এসব ল্যাব শিক্ষার্থীদের আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তোলার পাশাপাশি গবেষণা পরিচালনা, নতুন প্রোটোটাইপ তৈরি এবং শিল্পখাতের বাস্তব সমস্যার সমাধান উদ্ভাবনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।তিনি আরও বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, শিল্প, ব্যবসা, প্রশাসন থেকে শুরু করে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই এআই দ্রুত পরিবর্তন আনছে। তাই ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে গবেষণা, উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ জনশক্তি তৈরির বিকল্প নেই।ফকির মাহবুব আনাম জানান, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি খাতে সরকারের ধারাবাহিক উদ্যোগ দেশের ডিজিটাল রূপান্তরের ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় ভবিষ্যৎ উপযোগী জনশক্তি গড়ে তুলতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।তিনি আশা প্রকাশ করেন, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির নতুন এআই গবেষণা ল্যাব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিল্পখাত এবং সরকারের মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা বাড়াবে এবং দেশের উদ্ভাবনী পরিবেশকে আরও সমৃদ্ধ করবে।বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের লক্ষ্য আগামী পাঁচ বছরে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ১০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে এআইভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তৈরি ১৪৫টি এআই প্রকল্পের মধ্য থেকে সম্ভাবনাময় উদ্যোগগুলোকে সরকার ও আইসিটি মন্ত্রণালয়ের স্টার্টআপ ফান্ডসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সহায়তা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত এআই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সুবিধা সম্প্রসারণেও কাজ চলছে।অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা ইতোমধ্যে ‘এআই প্রফেসর’, ‘এআই প্রক্টর’ এবং ‘এআই রেজিস্ট্রার’ নামে কয়েকটি প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান তৈরি করেছেন। বর্তমানে তারা ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’ প্রকল্প নিয়ে কাজ করছেন।অনুষ্ঠান শেষে ‘এআই প্রজেক্ট কম্পিটিশন-২০২৬’-এ অংশ নেওয়া ১৪৫টি প্রকল্পের মধ্য থেকে ছয়টি ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত ১২টি বিজয়ী দলের হাতে পুরস্কার তুলে দেন মন্ত্রী। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস. এম. আর. কবীর, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সামস ইকবাল, কম্পিউটিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. সারওয়ার হোসেন মোল্লাসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।এস.আর

এআই হবে ভবিষ্যৎ অর্থনীতির চালিকাশক্তি: আইসিটি মন্ত্রী