দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার বিনোদনগর ইউনিয়নের কাচদহ এলাকায় প্রকাশ্যে বালু উত্তোলন ও ট্রাক্টরে পরিবহনের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ ফারাইজুল ইসলামের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এ কার্যক্রম চললেও প্রভাবশালী হওয়ায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।সরেজমিনে কাচদহ এলাকা ঘুরে কয়েকটি স্থানে মাটি খুঁড়ে বালু উত্তোলন করতে দেখা গেছে। উত্তোলনের পর সেই বালু ট্রাক্টরে করে বিভিন্ন স্থানে পরিবহন করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, নিয়মিত বালুবাহী ট্রাক্টর চলাচলের কারণে এলাকার সড়ক ও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে।বিশেষ করে বালুবাহী যানবাহন চলাচলের সময় সড়কে ব্যাপক ধুলাবালি সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এতে সড়কের পাশের বাড়িঘরের বাসিন্দাদের দুর্ভোগ বেড়েছে। ধুলার কারণে অনেক সময় ঘরের দরজা-জানালা খোলা রাখাও কঠিন হয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছেন তারা।নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতরা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে তারা ভয় পান। তাদের ভাষ্য, দিনের পর দিন বালু উত্তোলন ও পরিবহন চললেও তা বন্ধে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।এভাবে অপরিকল্পিতভাবে মাটি ও বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে স্থানীয় পরিবেশ ও ভূমির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। একই সঙ্গে ভারী বালুবাহী ট্রাক্টরের নিয়মিত চলাচলে স্থানীয় সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও করছেন তারা।স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসন দ্রুত সরেজমিনে তদন্ত করে বালু উত্তোলনের বৈধতা যাচাই করুক। প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া বালু উত্তোলনের প্রমাণ পাওয়া গেলে তা বন্ধ করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তারা।এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিধান কান্তি হালদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি দেখবেন বলে জানান। তবে বালু উত্তোলনের অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ ফারাইজুল ইসলামের বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।