ঢাকা    বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

জামায়াত নেতা রেজাউল করিম হত্যায় প্রশাসনের ব্যর্থতা ও বিএনপির 'উস্কানি'র অভিযোগ

শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে জামায়াতে ইসলামীর শ্রীবরদী উপজেলা সেক্রেটারি রেজাউল করিমকে হত্যার ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চরম ব্যর্থতা ফুটে উঠেছে বলে দাবি করেছে জামায়াতে ইসলামী। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এই অভিযোগ করেন।​সংবাদ সম্মেলনে জুবায়ের দাবি করেন, শেরপুর-৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেলের সরাসরি নির্দেশে ও উস্কানিতে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। তিনি বলেন, ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিএনপির সশস্ত্র নেতাকর্মীরা আগে থেকেই অবস্থান নিয়েছিল। সেখানে উপস্থিত ইউএনও এবং পুলিশ প্রশাসন সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে নিষ্ক্রিয় দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে, যা প্রশাসনের একপাক্ষিক আচরণেরই বহিঃপ্রকাশ।​ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, বুধবার বিকেলে ঝিনাইগাতী স্টেডিয়ামে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার আয়োজিত ইশতেহার প্রকাশ অনুষ্ঠানে বসা নিয়ে বিতণ্ডার একপর্যায়ে বিএনপির প্রার্থীর উস্কানিতে সংঘর্ষ শুরু হয়। এরপর সন্ধ্যায় স্টেডিয়াম থেকে বের হওয়ার সময় জামায়াত নেতা রেজাউল করিমকে একা পেয়ে কুপিয়ে হত্যা করে বিএনপির কর্মীরা। এই সংঘর্ষে ১১ দলীয় জোটের প্রায় অর্ধশত নেতাকর্মী আহত হয়েছেন এবং গুরুতর তিনজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে।​সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী এগিয়ে আসায় তাদের ধন্যবাদ জানানো হলেও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। জামায়াত নেতা জুবায়ের অবিলম্বে এই হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের গ্রেপ্তার এবং ব্যর্থতার দায়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একই সাথে তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, সারা দেশে জামায়াতের প্রার্থীদের প্রচারণায় বাধা ও হামলা অব্যাহত থাকলে জনগণকে সাথে নিয়ে তা প্রতিরোধ করা হবে।​সংবাদ সম্মেলনে মাওলানা আবদুল হালিম, মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজীসহ ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

জামায়াত নেতা রেজাউল করিম হত্যায় প্রশাসনের ব্যর্থতা ও বিএনপির 'উস্কানি'র অভিযোগ