হিটস্ট্রোক নিয়ে যে সতর্কতা অবলম্বন জরুরি
বাংলাদেশে গ্রীষ্মকাল সাধারণত মে-জুনে তীব্র রূপ নিলেও চলতি বছরের এপ্রিলেই তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় হিটস্ট্রোকসহ গরমজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা। চিকিৎসকদের মতে, আগের তুলনায় এখন অনেক আগেই মানুষ হিট এক্সহস্টশন ও পানিশূন্যতা-জনিত সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে গুরুতর হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, শুধু তাপমাত্রা নয়, বরং আর্দ্রতা ও বাতাস চলাচলের অভাবও শরীরের ওপর তাপজনিত চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে। আর্দ্র পরিবেশে ঘাম সহজে শুকাতে পারে না, ফলে শরীর স্বাভাবিকভাবে ঠান্ডা হতে ব্যর্থ হয়। এতে করে বাইরে তুলনামূলক কম তাপমাত্রা থাকলেও শরীর অনেক বেশি গরম অনুভব করে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে এপ্রিলের শুরু থেকেই রোগীরা ক্লান্তি, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, বমি বমি ভাব, মাথাব্যথা এবং দাঁড়ালে অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসছেন। অনেক ক্ষেত্রে এগুলো প্রাথমিক সতর্ক সংকেত হলেও তা উপেক্ষিত হলে পরে হিটস্ট্রোকের মতো মারাত্মক অবস্থায় রূপ নিতে পারে।একজন ইন্টারনাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ জানান, আগের তুলনায় এখন গরমজনিত অসুস্থতার ধরণ পরিবর্তিত হয়েছে। আগে যেসব উপসর্গ সাধারণত গ্রীষ্মের শেষ দিকে দেখা যেত, সেগুলো এখন মৌসুম শুরুর আগেই দেখা যাচ্ছে। এতে বোঝা যায়, পরিবেশগত পরিবর্তনের সঙ্গে শরীরের অভিযোজন ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হচ্ছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি শুধু উচ্চ তাপমাত্রার কারণে নয়, বরং শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ব্যর্থতার কারণে তৈরি হয়। মানবদেহ সাধারণত ঘামের মাধ্যমে অতিরিক্ত তাপ বের করে দেয়, কিন্তু আর্দ্রতা বেশি থাকলে এই প্রক্রিয়া কার্যকর হয় না। একইভাবে বন্ধ ঘর বা বায়ু চলাচলহীন পরিবেশে তাপ আটকে থাকে, যা শরীরের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।হিট এক্সহস্টশন বা গরমজনিত প্রাথমিক অসুস্থতা এখন বেশি দেখা যাচ্ছে বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন। এর লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত ঘাম, দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, বমি ভাব এবং ক্লান্তি। এসব উপসর্গকে গুরুত্ব না দিলে তা ধীরে ধীরে হিটস্ট্রোকের দিকে অগ্রসর হতে পারে, যা জীবনঘাতীও হতে পারে।প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা কিছু সাধারণ অভ্যাস অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে পর্যাপ্ত পানি পান, ওআরএস গ্রহণ, ঢিলেঢালা সুতির কাপড় পরা এবং দিনের সবচেয়ে গরম সময় এড়িয়ে চলা। এছাড়া ঘরের ভেতরে ক্রস ভেন্টিলেশন নিশ্চিত করা, জানালা খোলা রাখা এবং ফ্যানের সঠিক ব্যবহার তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে।চিকিৎসকদের মতে, ভেজা কাপড় ব্যবহার বা ঠান্ডা পানি দিয়ে শরীর ঠান্ডা রাখা প্রাথমিক পর্যায়ে উপকারী হতে পারে। তবে যদি কারও ঘাম বন্ধ হয়ে যায়, শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায় অথবা বিভ্রান্তি দেখা দেয়, তাহলে তা জরুরি অবস্থা হিসেবে গণ্য করে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, গ্রীষ্মকাল শুরু হওয়ার আগেই যদি শরীর তাপজনিত চাপের মধ্যে পড়ে, তবে ভবিষ্যতে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই সময়মতো সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তারা।#আর