কুমিল্লা জেলা পরিষদ থেকে ১০ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কে ব্যাখ্যা দিয়েছেন জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া। তিনি বলেছেন, এনসিপি নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ ব্যক্তিগতভাবে অর্থ নিয়েছেন—এমন কথা তিনি বলেননি; বরং উন্নয়নমূলক কাজের জন্য তার এলাকার নামে বরাদ্দ পাওয়া অর্থের কথাই উল্লেখ করেছিলেন।শনিবার এক অনুষ্ঠানে মোস্তাক মিয়া অভিযোগ করেন, এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ ১০ কোটি টাকা এবং দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ১৫ কোটি টাকা নিয়েছেন। তার এ বক্তব্য প্রকাশের পর রাতে হাসনাত আবদুল্লাহ ফোন করে বিষয়টি জানতে চান।ফোনালাপে মোস্তাক মিয়া বলেন, তিনি রাজস্ব খাতের অর্থের কথা বলেননি। জেলা পরিষদের বিভিন্ন খাত মিলিয়ে হাসনাতের এলাকায় প্রায় ১০ কোটি টাকা এবং অন্য একটি উপজেলায় ১৫ কোটি টাকা বরাদ্দ গেছে। তিনি দাবি করেন, হাসনাত টাকা আত্মসাৎ করেছেন—এমন অভিযোগ তিনি তোলেননি।জবাবে হাসনাত আবদুল্লাহ জানতে চান, তাহলে তিনি আসলে কী বোঝাতে চেয়েছেন। এর উত্তরে প্রশাসক বলেন, উন্নয়নমূলক কাজের জন্য সংশ্লিষ্ট দুই উপজেলায় মোট ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গণমাধ্যমে তার বক্তব্যের পুরো অংশ না আসায় ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।এর আগে হাসনাত আবদুল্লাহও গণমাধ্যমকে জানান, যে অর্থের কথা বলা হচ্ছে তা কোনো ব্যক্তিকে দেওয়া হয়নি; বরং সংশ্লিষ্ট উপজেলার উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। তিনি বলেন, বাজেটের অর্থ ব্যক্তিগতভাবে গ্রহণের সুযোগ নেই এবং দেবীদ্বার উপজেলার জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের হিসাব জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কাছেই সংরক্ষিত রয়েছে।হাসনাতের ভাষ্য অনুযায়ী, দেবীদ্বার উপজেলায় ৫ কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল, যা এডিপি প্রকল্পের আওতায় ব্যয় হয়েছে। এই অর্থ জেলা পরিষদের রাজস্ব খাতের নয়। তিনি অভিযোগ করেন, প্রশাসকের বক্তব্য এমনভাবে উপস্থাপিত হয়েছে যাতে মনে হয় তিনি ব্যক্তিগতভাবে অর্থ গ্রহণ করেছেন, যা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এর আগে কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মোস্তাক মিয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়কদের সমালোচনা করে বলেন, তারা সমন্বয়ের রাজনীতির কথা বললেও অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তাদের কর্মকাণ্ড ভিন্ন ছিল। সেই বক্তব্যের অংশ হিসেবেই তিনি বিভিন্ন উপজেলায় বরাদ্দ দেওয়া অর্থের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।