পতনের দেড় ঘণ্টা পর স্বর্ণের বাজারে উত্থান
বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাবে টালমাটাল হয়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজার। বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম এক সময় কমে গেলেও মাত্র দেড় ঘণ্টার ব্যবধানে আবারও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে নতুন কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।গত শুক্রবার দিনের শুরুতে স্বর্ণের দাম এক শতাংশের বেশি কমলেও পরবর্তীতে তা ঘুরে দাঁড়ায়। মূলত মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি কিছুটা শিথিল হওয়ার সম্ভাবনায় তেলের দাম কমে যায়, যার ফলে মুদ্রাস্ফীতির চাপ কিছুটা কমে আসে। এতে বিনিয়োগকারীরা আবারও নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেন, ফলে দাম পুনরায় বাড়তে থাকে।দেশীয় বাজারে স্বর্ণের দামে সাম্প্রতিক পরিবর্তনও লক্ষ্য করা গেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সর্বশেষ ৩০ এপ্রিল রাতে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ১৫৮ টাকা বাড়িয়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ করে। সেই অনুযায়ী শনিবার (২ মে) দেশের বাজারে একই দাম কার্যকর থাকবে।বর্তমান দামে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ কিনতে গুনতে হবে ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৯৮ হাজার ৪০৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৬১ হাজার ৬০৫ টাকা।বাজুসের নিয়ম অনুযায়ী, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ৬ শতাংশ ন্যূনতম মজুরি যুক্ত করতে হয়। গয়নার ডিজাইন ও কারিগরি মান অনুযায়ী এই মজুরির পরিমাণ কিছুটা ভিন্ন হতে পারে, যা চূড়ান্ত ক্রয়মূল্যে প্রভাব ফেলে।আন্তর্জাতিক বাজারেও স্বর্ণের দামের ওঠানামা অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, স্পট গোল্ডের দাম আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৬৩৬.৭২ ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের দিনের তুলনায় কিছুটা বৃদ্ধি নির্দেশ করে। যদিও সেশনের শুরুতে দাম কমে গেলেও পরে তা পুনরুদ্ধার হয়।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক রাজনৈতিক অস্থিরতা, ডলারের ওঠানামা এবং তেলের দামের পরিবর্তন স্বর্ণের বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। ফলে স্বল্প সময়ের মধ্যেই দাম কমা-বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।দেশীয় বাজারে স্বর্ণের দামের এই পরিবর্তন সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যেও প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে বিয়ের মৌসুম ও উৎসব সামনে থাকায় স্বর্ণের দাম নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।বিশ্লেষকদের মতে, আগামী দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে স্বর্ণের বাজার আরও ওঠানামা করতে পারে। ফলে বিনিয়োগ ও ক্রয়ের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।